Advertisement Banner

ডলারের দুর্বলতায় ইউয়ানের সোনালি সুযোগ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ডলারের দুর্বলতায় ইউয়ানের সোনালি সুযোগ
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

মার্কিন ডলারের প্রতি বিশ্বের আস্থা টলমল করছে। আর ঠিক এই মুহূর্তটিকেই চীনের মুদ্রা ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য সোনালি সুযোগ হিসেবে দেখছেন চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার সাবেক গভর্নর ঝোউ শিয়াওচুয়ান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত শিনয়ি উ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা থিঙ্কট্যাংক নিউ ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঝোউ বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থায় বর্তমান পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত।

ঝোউ তিনটি বিষয়কে ডলারের বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন–মার্কিন শুল্কের ব্যাপক প্রয়োগ, নিষেধাজ্ঞায় ডলারের ঘন ঘন ব্যবহার এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাত। এই মাসের শুরুতে সাংহাই কারেন্সি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়টি রেনমিনবির আন্তর্জাতিকীকরণ এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সোনালি সুযোগ। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছেন, চীনে মূলধন প্রবাহ ফিরে আসায় ইউয়ানের মান বৃদ্ধির চাপও তৈরি হচ্ছে।

ঝোউ শিয়াওচুয়ান ২০০২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পিবিওসি-র সর্বাধিক দীর্ঘমেয়াদী গভর্নর ছিলেন। ২০০৯ সালে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে ইউয়ানের আনুষ্ঠানিক প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি এই মুদ্রার বৈশ্বিক যাত্রার ভিত্তি গড়েছিলেন। ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণের পথে তাত্ত্বিক বাধাগুলো সম্পর্কে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মুদ্রা রপ্তানির প্রতিবন্ধক নয়। কারণ মূলধন হিসাব ও বিদেশি ঋণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে ইউয়ান সরবরাহ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেছেন, সফল হতে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ঋণ ইস্যুর সাথে প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন নেই। কারণ রিজার্ভ মুদ্রার প্রকৃত বৈশ্বিক চাহিদা মার্কিন ট্রেজারির মোট মজুদের চেয়ে অনেক কম।

তবে ঝোউ সতর্ক করেছেন, ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য নিরাপদ, রূপান্তরযোগ্য ও নগদ সম্পদের সরবরাহ অপরিহার্য। চীনের সরকারি বন্ড বাজার ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হলেও নিরাপদ সম্পদের সরবরাহের মাত্রা ও বিনিয়োগের সুবিধা আরও উন্নত করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। স্বল্পমেয়াদে ডলারের একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরির সম্ভাবনা কম–এই বাস্তবতাও তিনি স্বীকার করেছেন, কারণ ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণের বর্তমান গতি এখনো তুলনামূলকভাবে ধীর।

এই সুযোগকে কাজে লাগাতে ঝোউ বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন। ইউয়ানের অবাধ ব্যবহারযোগ্যতা ও মূলধন হিসাবের রূপান্তরযোগ্যতা বাড়ানো, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পরিহার করা, ইউয়ানের আন্তঃসীমান্ত আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা এবং সাংহাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোর প্রসার ঘটানো–এগুলোই তার মূল প্রস্তাব। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ এগিয়ে নিয়ে রেনমিনবির আন্তর্জাতিকীকরণকে চীনের অর্থনৈতিক শক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলাই এখন বেইজিংয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, বেইজিং সম্প্রতি ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম বা সিআইপিএস-এর ব্যবসায়িক বিধিমালার প্রথম বড় আপডেট করেছে। মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আর্থিক অবকাঠামোর বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার সংশোধিত নিয়মাবলি ফেব্রুয়ারিতে কার্যকর হয়েছে। এতে অফশোর ইউয়ানকে সিআইপিএস-এর আওতায় যুক্ত করা হয়েছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বিস্তৃত করা হয়েছে, পাশাপাশি বহু-মুদ্রা নিষ্পত্তির সাথে সামঞ্জস্যের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি ইউয়ানকে বৈশ্বিক লেনদেনে আরও সহজলভ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার দিকে চীনের সুচিন্তিত পদক্ষেপের অংশ।

সম্পর্কিত