চরচা ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ থামেনি। থমকে আছে মাত্র। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কীভাবে হবে তা নিয়ে সন্দেহ গভীর হচ্ছে। কিন্তু এই যুদ্ধ থেকে আসলে কী পেতে চায় আমেরিকা তা নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন ব্রাজিলের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। অনলাইন ম্যাগাজিন দ্য ক্রেডেলে তিনি লিখছেন, এই যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতি বদলাচ্ছে না। এটি ইউরেশিয়ার সংযোগ করিডোরগুলোকে প্রভাবিত করছে। চারটি বড় প্রকল্প এখানে গুরুত্বপূর্ণ– চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, রাশিয়া-ইরান-ভারত করিডোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর এবং তুরস্কের পাইপলাইন পরিকল্পনা।
ইতিহাসে ইরান ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগস্থল। ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন সিল্ক রোড শুরু করেন। এর মাধ্যমে এই সংযোগ আবার শক্তিশালী হয়। ২০২১ সালে চীন ও ইরানের মধ্যে বড় একটি চুক্তি হয়। ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলার। এরই একটি অংশ হলো স্থলপথ করিডোর। এটি সমুদ্রপথের বিকল্প। মালাক্কা, হরমুজ ও সুয়েজের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়ানো যায়। চীনের সিয়ান থেকে ট্রেন সরাসরি ইরানে পৌঁছায়। এতে সময় কমে ৪০ দিন থেকে ২৫ দিনে নেমে এসেছে।
এই করিডোর চীন-পাকিস্তান করিডোরের গুরুত্বও বদলাচ্ছে। যুদ্ধের আগে চীন ইরান করিডোরে বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল। কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরান আসলে দুটি বড় করিডোরের কেন্দ্রে। একটি চীন-চালিত পূর্ব-পশ্চিম পথ। অন্যটি রাশিয়া-ইরান-ভারত সংযোগ। ইরান এই দুই দিকেই ভারসাম্য রাখছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত সেই ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
চাবাহার বন্দর এই খেলায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের জন্য একটি বড় প্রকল্প। এটি গাওয়াদার বন্দরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এখন ভারত তার বিনিয়োগ স্থগিত করেছে। মার্কিন চাপ এর একটি কারণ। অন্যদিকে চীন তার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইরানের উপকূলে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ফলে ইরান হয়তো চীনের দিকেই বেশি ঝুঁকবে।

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসকোবার মনে করেন, এটি আসলে ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি। এর লক্ষ্য ইসরায়েলকে বাণিজ্যের কেন্দ্রে আনা। এটি পশ্চিমা বিশ্বের একটি প্রয়াস। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই প্রকল্প এখন দুর্বল। হাইফা বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য অবকাঠামোও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
তুরস্কও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায়। তারা ইরাক থেকে তেল নিয়ে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু ইরাকের রাজনৈতিক সমস্যা এটি থামিয়ে রেখেছে। তুরস্ক সিরিয়ার তেলক্ষেত্রকেও যুক্ত করতে চায়। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
আরেকটি বড় পরিকল্পনা হলো কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে গ্যাস পাইপলাইন। এটি অনেক পুরোনো ধারণা। কিন্তু এখন আবার আলোচনায় এসেছে। এতে বহু দেশ জড়িত। খরচও অনেক বেশি। অন্তত দেড় হাজার কোটি ডলার লাগবে।
এসকোবারের মতে, আমেরিকার হামলার লক্ষ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ইরানের কিছু বড় বন্দর ও অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে। এগুলো মূলত বড় বাণিজ্য করিডোরের অংশ। চীন-ইরান রেললাইনও আঘাত পেয়েছে। তাই তিনি মনে করেন, এটি শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়। এটি চীন, ব্রিকস এবং ইউরেশীয় সংযোগের বিরুদ্ধেও একটি যুদ্ধ।
তবুও এই সংযোগ থেমে নেই। বরং পথ বদলাচ্ছে। পাকিস্তানের উদাহরণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা নতুন রুট ব্যবহার করে বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। আফগানিস্তানকে পাশ কাটিয়ে নতুন সংযোগ তৈরি করছে। এতে ইরানের অর্থনীতি কিছুটা সহায়তা পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এসকোবার বলছেন, ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতা হবে সংযোগ করিডোর নিয়ে। পশ্চিম এশিয়া থেকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে। নতুন একটি পথও গুরুত্ব পাচ্ছে– আর্কটিক সিল্ক রোড। রাশিয়ার উপকূল ধরে এই পথ তৈরি হচ্ছে। চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এতে আগ্রহী।
শেষ কথা হলো, এই যুদ্ধ শুধু যুদ্ধ নয়। এটি বাণিজ্য, জ্বালানি ও সংযোগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই। এসকোবারের বার্তা পরিষ্কার—যুদ্ধ নয়, সংযোগ তৈরি করাই ভবিষ্যতের পথ।

ইরান যুদ্ধ থামেনি। থমকে আছে মাত্র। স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কীভাবে হবে তা নিয়ে সন্দেহ গভীর হচ্ছে। কিন্তু এই যুদ্ধ থেকে আসলে কী পেতে চায় আমেরিকা তা নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন ব্রাজিলের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। অনলাইন ম্যাগাজিন দ্য ক্রেডেলে তিনি লিখছেন, এই যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতি বদলাচ্ছে না। এটি ইউরেশিয়ার সংযোগ করিডোরগুলোকে প্রভাবিত করছে। চারটি বড় প্রকল্প এখানে গুরুত্বপূর্ণ– চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, রাশিয়া-ইরান-ভারত করিডোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর এবং তুরস্কের পাইপলাইন পরিকল্পনা।
ইতিহাসে ইরান ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগস্থল। ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন সিল্ক রোড শুরু করেন। এর মাধ্যমে এই সংযোগ আবার শক্তিশালী হয়। ২০২১ সালে চীন ও ইরানের মধ্যে বড় একটি চুক্তি হয়। ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলার। এরই একটি অংশ হলো স্থলপথ করিডোর। এটি সমুদ্রপথের বিকল্প। মালাক্কা, হরমুজ ও সুয়েজের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়ানো যায়। চীনের সিয়ান থেকে ট্রেন সরাসরি ইরানে পৌঁছায়। এতে সময় কমে ৪০ দিন থেকে ২৫ দিনে নেমে এসেছে।
এই করিডোর চীন-পাকিস্তান করিডোরের গুরুত্বও বদলাচ্ছে। যুদ্ধের আগে চীন ইরান করিডোরে বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল। কারণ পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরান আসলে দুটি বড় করিডোরের কেন্দ্রে। একটি চীন-চালিত পূর্ব-পশ্চিম পথ। অন্যটি রাশিয়া-ইরান-ভারত সংযোগ। ইরান এই দুই দিকেই ভারসাম্য রাখছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত সেই ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
চাবাহার বন্দর এই খেলায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের জন্য একটি বড় প্রকল্প। এটি গাওয়াদার বন্দরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এখন ভারত তার বিনিয়োগ স্থগিত করেছে। মার্কিন চাপ এর একটি কারণ। অন্যদিকে চীন তার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইরানের উপকূলে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ফলে ইরান হয়তো চীনের দিকেই বেশি ঝুঁকবে।

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসকোবার মনে করেন, এটি আসলে ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি। এর লক্ষ্য ইসরায়েলকে বাণিজ্যের কেন্দ্রে আনা। এটি পশ্চিমা বিশ্বের একটি প্রয়াস। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই প্রকল্প এখন দুর্বল। হাইফা বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য অবকাঠামোও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
তুরস্কও নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায়। তারা ইরাক থেকে তেল নিয়ে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু ইরাকের রাজনৈতিক সমস্যা এটি থামিয়ে রেখেছে। তুরস্ক সিরিয়ার তেলক্ষেত্রকেও যুক্ত করতে চায়। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
আরেকটি বড় পরিকল্পনা হলো কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে গ্যাস পাইপলাইন। এটি অনেক পুরোনো ধারণা। কিন্তু এখন আবার আলোচনায় এসেছে। এতে বহু দেশ জড়িত। খরচও অনেক বেশি। অন্তত দেড় হাজার কোটি ডলার লাগবে।
এসকোবারের মতে, আমেরিকার হামলার লক্ষ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ইরানের কিছু বড় বন্দর ও অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে। এগুলো মূলত বড় বাণিজ্য করিডোরের অংশ। চীন-ইরান রেললাইনও আঘাত পেয়েছে। তাই তিনি মনে করেন, এটি শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়। এটি চীন, ব্রিকস এবং ইউরেশীয় সংযোগের বিরুদ্ধেও একটি যুদ্ধ।
তবুও এই সংযোগ থেমে নেই। বরং পথ বদলাচ্ছে। পাকিস্তানের উদাহরণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা নতুন রুট ব্যবহার করে বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। আফগানিস্তানকে পাশ কাটিয়ে নতুন সংযোগ তৈরি করছে। এতে ইরানের অর্থনীতি কিছুটা সহায়তা পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এসকোবার বলছেন, ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতা হবে সংযোগ করিডোর নিয়ে। পশ্চিম এশিয়া থেকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে। নতুন একটি পথও গুরুত্ব পাচ্ছে– আর্কটিক সিল্ক রোড। রাশিয়ার উপকূল ধরে এই পথ তৈরি হচ্ছে। চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এতে আগ্রহী।
শেষ কথা হলো, এই যুদ্ধ শুধু যুদ্ধ নয়। এটি বাণিজ্য, জ্বালানি ও সংযোগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই। এসকোবারের বার্তা পরিষ্কার—যুদ্ধ নয়, সংযোগ তৈরি করাই ভবিষ্যতের পথ।

তীব্র বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের প্রতি আগ্রহী হয়। আলোচনার পর সে ঋণ পায়ও। এই ঋণগ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে আইএমএফের নানা কিস্তির অর্থছাড় পর্যন্ত নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে। সংস্থাটির ন

রূপপুর সফলভাবে পরিচালিত হলে তা কেবল শিল্পের চাকাই সচল করবে না, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। এটি কি বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতার পথ দেখাবে, নাকি নতুন ধরনের বৈশ্বিক নির্ভরতা তৈরি করবে, তার উত্তর হয়তো দেবে আগামী কয়েক দশক।