সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

ভয়াবহ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষে জাতিসংঘের জন্ম হয়। ১৯৪৫ সালের ২৬শে জুন আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘের চার্টার সাক্ষরিত হয়। একই বছরের ২৪শে অক্টোবর এটি কার্যকর করা হয়। জাতিসংঘের চার্টারের মূল কথা হলো, সকল সদস্য রাষ্ট্রের পরস্পরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমান মূল্যবোধ। এরপর আর একটি মূল্যবান ঘোষণা পত্র গৃহিত হয়, সেটি হল মানবাধিকার সংক্রান্ত।
এভাবে বহু ঘোষণাপত্র, নির্দেশিকা, পরামর্শ প্রদান করা হয় জাতিসংঘ থেকে। উদ্দেশ্য একটাই- তাহলো আর যুদ্ধ নয়, অশান্তি নয়, দুর্ভিক্ষ নয়। মানুষের কল্যাণ। এদিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি দুভাগে বিভক্ত হয়। আমেরিকার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক দেশ এক কাতারে এসে দাঁড়ায়। নাম দেওয়া হয় মুক্তবিশ্ব। আর কম্যুনিস্ট দেশগুলোর নেতৃত্বে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নাম দেন লৌহপর্দার দেশ। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত বিশ্বের পতন হয়। ১৯৯০ সালের পূর্বে আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতর দ্বন্দ্ব বিরাজ করছিল, তাকে বলা হত স্নায়ুযুদ্ধ।
৯০ এর পর থেকে মুক্তবিশ্বের একতরফা অস্তিত্ব বিরাজমান। কিন্তু তিন যুগের অধিক সময় মুক্ত বিশ্বের এই এক তরফা অবস্থান বিশ্বকে কতটা শান্তি দিয়েছে? ইরাক বারবার নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে তার কাছে গণবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র নেই। সে কথার কর্ণপাত না করে আমেরিকা তার সাথী যুক্তরাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে ইরাকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ইরাককে ধ্বংস করে তার প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, এর পূর্বে যখন ইরান-ইরাক যুদ্ধ হয়, তখন আমেরিকা ইরাককে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। আর সেই সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তার দাঁতের চিকিৎসার ভান করে বিশ্বের সম্মুখে তাকে নিয়ে চরম উপহাস করা হয়।

আমেরিকা বিশ্বের অন্যতম সভ্য দেশ। তাই নয় কি? ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাস হটকারিতার পরিচয় দিয়ে ইসরায়েল আক্রমণ করে বসে। ইসরায়েলের প্রতিরোধের অধিকার রয়েছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হল যে আঘাতটা আমেরিকারই লেগেছে বেশি। আরেমিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনে হল সাময়িকভাবে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এরপর দু’বছরের বেশি গাজায় যে ধ্বংসলীলা চালানো হল- নারী, শিশুসহ সব নাগরিকের হত্যাযজ্ঞ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল কেউ রেহাই পায়নি। এমন কি রিলিফ প্রদানের সময়ও বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। এরকম বিভৎস চিত্র দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ও পাওয়া যাবে না। ট্রাম্পের নেতৃত্বে বা বলা চলে নির্দেশে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হয়েছে। ইংরেজ মহাকবি শেক্সপিয়ারের ভাষায় বলা যায়, এই চুক্তি পালন করার চেয়ে ভঙ্গ করার অধিক মাহাত্ম্য।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে বসল। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অবশ্য ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ছিল। তবে সংখ্যাসাম্য রক্ষার্থে ইউক্রেনকে জাতিসংঘের জন্মলগ্ন থেকে পৃথক সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এবারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সার্বিকভাবে প্রতিবাদ করে উঠল এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। চীনের অনুকূল সাড়া না পেয়ে খুব বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছিল যুক্তরাজ্য। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তো বলে বসলেন যে, এখন থেকে চীনকে কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। তিনিতো রাজনীতিবিদ। স্মৃতি দুর্বল হওয়ার কথা নয়। চীনকে কারো কাছে গুরুত্ব চাইতে হয়নি। ১৯৪৯ সালে চীনে কম্যুনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর মুক্ত বিশ্বতো একঘরে রেখেছিল।
১৯৫৪ সালে জেনেভায় যখন ইন্দো-চীন নিয়ে বৈঠক চলছিল, তখন বারান্দায় চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই আগত আমেরিকান পররাষ্ট্র সচিব ডালেসের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলে ডালেস তা দেখেও উপেক্ষা করে চলে যান। অবশ্য মার্কিন রাজনীতিবিদের মাঝে মাঝে অভদ্র হতে দেখা যায়, যেমন দেখা গিয়েছিল ট্রাম্পের প্রথম দফায় তাকে এবং হাউজ স্পিকার পেলোসিকে।
যা হোক সেই চৌ এন লাই এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান যখন বাংলাদেশে গণহত্যা চালায় তাকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া গোপনে নিক্সনের প্রতিনিধি কিসিঞ্জারকে চীন যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার তেল সমৃদ্ধ দেশ। সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরো আন্তর্জাতিক সর্বনাশা মাদক দ্রব্যের অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি আমেরিকার নাগরিক বিশেষ করে যুব সমাজের সর্বনাশ করছেন এই মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে। তাই তাকে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্টের প্যালেস থেকে উঠিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে আনা হলো বিচারের জন্য। এটা সম্ভব হলো আমেরিকার অদ্বিতীয় সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়ার জন্য। এখানে উল্লেখ্য যে ভেনেজুয়েলা একজন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠাকারী সদস্য। আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ডকে নেওয়ার। তাই ট্রাম্প গান ধরেছেন “তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার গ্রিনল্যান্ড চাই। ডেনমার্ক এবং আমেরিকা উভয়েই ন্যাটোর সদস্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড ব্যবহার করে হামলা করবে কে?

দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্প কানাডাকে আহ্বান করলেন আমেরিকার অঙ্গরাজ্য হওয়ার জন্য, সেটা কোন আক্রমণ ঠেকানোর জন্য? এখানে একটি কথা মনে পড়ল। ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প এখন বেশি উৎফুল্ল তেলের নিয়ন্ত্রণ পাবেন বলে। আমেরিকার মাদকদ্রব্যের কথাতো ছয় যুগের বেশি সময় ধরে। এর উৎস কোথায় তা মার্কিন বিশেষজ্ঞদের জানার কথা।
মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা , ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এসব নিয়ে বিশ্বে অজস্র সুশীল সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘতো রয়েছে। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করছেন। কত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এসবই কি ধরার ধুলায় হারিয়ে যাবে? কেননা ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলান বলেন, “ভুলে যাও আন্তজাতির্ক আইনের কথা, আমরা এমন একটা বিশ্বে বাস করি যেটা শাসিত হয় শক্তির দ্বারা, পরিচালিত হয় সামরিক শক্তির দ্বারা, যেটা পরিচালিত হয় সার্বিক ক্ষমতার দ্বারা।” অতএব, আমেরিকা প্রয়োজন বোধে সকল শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিননল্যান্ডকে দখল করবে এটাই স্টিফেনের মূল কথা।
গণতান্ত্রিক সরকার দুই ধরনের সংসদীয় পদ্ধতি, যেটি যুক্তরাজ্যে রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুযায়ী সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের পথিকৃৎ যুক্তরাজ্য। আর রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির পথিকৃৎ আমেরিকা। আদর্শ গণতন্ত্র তখনই আখ্যায়িত হয় যখন নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ স্ব স্ব বিভাগের কার্য সুচারুরূপে জনস্বার্থে সম্পন্ন করবে। একে অপরের প্রভাবে যেন নিজের কার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ না হয়। কিন্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে আমেরিকা যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে নির্বাহী বিভাগ আইন বিভাগকে এড়িয়ে গেছে। যেমন কোরিয়া ও ভিয়েতনাম দুটো যুদ্ধে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেনি যা কিনা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এরপর অবশ্য একটা সংশোধন আনা হয়েছে, তাহলো যুদ্ধ বেঁধে গেলে ৬০ দিনের ভেতর কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। তবে আমেরিকার সেনাবাহিনী যেরকম শক্তিশালী এবং সর্বাধুনিক, বিপরীতে সে সব দুর্বলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাতে ৬০ দিনের প্রয়োজন হয় না।

ভয়াবহ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষে জাতিসংঘের জন্ম হয়। ১৯৪৫ সালের ২৬শে জুন আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘের চার্টার সাক্ষরিত হয়। একই বছরের ২৪শে অক্টোবর এটি কার্যকর করা হয়। জাতিসংঘের চার্টারের মূল কথা হলো, সকল সদস্য রাষ্ট্রের পরস্পরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমান মূল্যবোধ। এরপর আর একটি মূল্যবান ঘোষণা পত্র গৃহিত হয়, সেটি হল মানবাধিকার সংক্রান্ত।
এভাবে বহু ঘোষণাপত্র, নির্দেশিকা, পরামর্শ প্রদান করা হয় জাতিসংঘ থেকে। উদ্দেশ্য একটাই- তাহলো আর যুদ্ধ নয়, অশান্তি নয়, দুর্ভিক্ষ নয়। মানুষের কল্যাণ। এদিকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর বিজয়ী মিত্রশক্তি দুভাগে বিভক্ত হয়। আমেরিকার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক দেশ এক কাতারে এসে দাঁড়ায়। নাম দেওয়া হয় মুক্তবিশ্ব। আর কম্যুনিস্ট দেশগুলোর নেতৃত্বে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নাম দেন লৌহপর্দার দেশ। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত বিশ্বের পতন হয়। ১৯৯০ সালের পূর্বে আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতর দ্বন্দ্ব বিরাজ করছিল, তাকে বলা হত স্নায়ুযুদ্ধ।
৯০ এর পর থেকে মুক্তবিশ্বের একতরফা অস্তিত্ব বিরাজমান। কিন্তু তিন যুগের অধিক সময় মুক্ত বিশ্বের এই এক তরফা অবস্থান বিশ্বকে কতটা শান্তি দিয়েছে? ইরাক বারবার নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে তার কাছে গণবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র নেই। সে কথার কর্ণপাত না করে আমেরিকা তার সাথী যুক্তরাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে ইরাকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ইরাককে ধ্বংস করে তার প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, এর পূর্বে যখন ইরান-ইরাক যুদ্ধ হয়, তখন আমেরিকা ইরাককে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। আর সেই সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তার দাঁতের চিকিৎসার ভান করে বিশ্বের সম্মুখে তাকে নিয়ে চরম উপহাস করা হয়।

আমেরিকা বিশ্বের অন্যতম সভ্য দেশ। তাই নয় কি? ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাস হটকারিতার পরিচয় দিয়ে ইসরায়েল আক্রমণ করে বসে। ইসরায়েলের প্রতিরোধের অধিকার রয়েছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হল যে আঘাতটা আমেরিকারই লেগেছে বেশি। আরেমিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনে হল সাময়িকভাবে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এরপর দু’বছরের বেশি গাজায় যে ধ্বংসলীলা চালানো হল- নারী, শিশুসহ সব নাগরিকের হত্যাযজ্ঞ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল কেউ রেহাই পায়নি। এমন কি রিলিফ প্রদানের সময়ও বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। এরকম বিভৎস চিত্র দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় ও পাওয়া যাবে না। ট্রাম্পের নেতৃত্বে বা বলা চলে নির্দেশে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হয়েছে। ইংরেজ মহাকবি শেক্সপিয়ারের ভাষায় বলা যায়, এই চুক্তি পালন করার চেয়ে ভঙ্গ করার অধিক মাহাত্ম্য।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে বসল। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অবশ্য ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ছিল। তবে সংখ্যাসাম্য রক্ষার্থে ইউক্রেনকে জাতিসংঘের জন্মলগ্ন থেকে পৃথক সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এবারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সার্বিকভাবে প্রতিবাদ করে উঠল এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। চীনের অনুকূল সাড়া না পেয়ে খুব বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছিল যুক্তরাজ্য। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তো বলে বসলেন যে, এখন থেকে চীনকে কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। তিনিতো রাজনীতিবিদ। স্মৃতি দুর্বল হওয়ার কথা নয়। চীনকে কারো কাছে গুরুত্ব চাইতে হয়নি। ১৯৪৯ সালে চীনে কম্যুনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর মুক্ত বিশ্বতো একঘরে রেখেছিল।
১৯৫৪ সালে জেনেভায় যখন ইন্দো-চীন নিয়ে বৈঠক চলছিল, তখন বারান্দায় চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই আগত আমেরিকান পররাষ্ট্র সচিব ডালেসের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলে ডালেস তা দেখেও উপেক্ষা করে চলে যান। অবশ্য মার্কিন রাজনীতিবিদের মাঝে মাঝে অভদ্র হতে দেখা যায়, যেমন দেখা গিয়েছিল ট্রাম্পের প্রথম দফায় তাকে এবং হাউজ স্পিকার পেলোসিকে।
যা হোক সেই চৌ এন লাই এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান যখন বাংলাদেশে গণহত্যা চালায় তাকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া গোপনে নিক্সনের প্রতিনিধি কিসিঞ্জারকে চীন যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার তেল সমৃদ্ধ দেশ। সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরো আন্তর্জাতিক সর্বনাশা মাদক দ্রব্যের অন্যতম প্রধান নেতা। তিনি আমেরিকার নাগরিক বিশেষ করে যুব সমাজের সর্বনাশ করছেন এই মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে। তাই তাকে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্টের প্যালেস থেকে উঠিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে আনা হলো বিচারের জন্য। এটা সম্ভব হলো আমেরিকার অদ্বিতীয় সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়ার জন্য। এখানে উল্লেখ্য যে ভেনেজুয়েলা একজন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠাকারী সদস্য। আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ডকে নেওয়ার। তাই ট্রাম্প গান ধরেছেন “তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার গ্রিনল্যান্ড চাই। ডেনমার্ক এবং আমেরিকা উভয়েই ন্যাটোর সদস্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড ব্যবহার করে হামলা করবে কে?

দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্প কানাডাকে আহ্বান করলেন আমেরিকার অঙ্গরাজ্য হওয়ার জন্য, সেটা কোন আক্রমণ ঠেকানোর জন্য? এখানে একটি কথা মনে পড়ল। ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প এখন বেশি উৎফুল্ল তেলের নিয়ন্ত্রণ পাবেন বলে। আমেরিকার মাদকদ্রব্যের কথাতো ছয় যুগের বেশি সময় ধরে। এর উৎস কোথায় তা মার্কিন বিশেষজ্ঞদের জানার কথা।
মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা , ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এসব নিয়ে বিশ্বে অজস্র সুশীল সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘতো রয়েছে। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করছেন। কত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এসবই কি ধরার ধুলায় হারিয়ে যাবে? কেননা ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিফেন মিলান বলেন, “ভুলে যাও আন্তজাতির্ক আইনের কথা, আমরা এমন একটা বিশ্বে বাস করি যেটা শাসিত হয় শক্তির দ্বারা, পরিচালিত হয় সামরিক শক্তির দ্বারা, যেটা পরিচালিত হয় সার্বিক ক্ষমতার দ্বারা।” অতএব, আমেরিকা প্রয়োজন বোধে সকল শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিননল্যান্ডকে দখল করবে এটাই স্টিফেনের মূল কথা।
গণতান্ত্রিক সরকার দুই ধরনের সংসদীয় পদ্ধতি, যেটি যুক্তরাজ্যে রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুযায়ী সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের পথিকৃৎ যুক্তরাজ্য। আর রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির পথিকৃৎ আমেরিকা। আদর্শ গণতন্ত্র তখনই আখ্যায়িত হয় যখন নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ স্ব স্ব বিভাগের কার্য সুচারুরূপে জনস্বার্থে সম্পন্ন করবে। একে অপরের প্রভাবে যেন নিজের কার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ না হয়। কিন্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে আমেরিকা যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে নির্বাহী বিভাগ আইন বিভাগকে এড়িয়ে গেছে। যেমন কোরিয়া ও ভিয়েতনাম দুটো যুদ্ধে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেনি যা কিনা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এরপর অবশ্য একটা সংশোধন আনা হয়েছে, তাহলো যুদ্ধ বেঁধে গেলে ৬০ দিনের ভেতর কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। তবে আমেরিকার সেনাবাহিনী যেরকম শক্তিশালী এবং সর্বাধুনিক, বিপরীতে সে সব দুর্বলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাতে ৬০ দিনের প্রয়োজন হয় না।

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট