Advertisement Banner

ধুরন্ধর: সিনেমা, প্রোপাগান্ডা নাকি নির্লজ্জ দালালি?

ধুরন্ধর: সিনেমা, প্রোপাগান্ডা নাকি নির্লজ্জ দালালি?
ধুরন্ধর সিনেমায় রণবীর সিং। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

‘ধুরন্ধর’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে বলিউডে। এ নিয়ে চলছে তুলকালাম। এবার আসলে মুক্তি পেয়েছে এর সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্ব মুক্তি পেয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। খুব কম সময়ের মধ্যেই গত ১৯ মার্চ এই সিনেমার দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পেয়ে গেছে। এটি বলিউডের ক্ষেত্রে দুর্লভ দৃশ্যই বটে।

আরও অনেক দুর্লভ দৃশ্যের জন্ম অবশ্য দিচ্ছে ‘ধুরন্ধর’। দক্ষিণী সিনেমার প্রতাপে যেভাবে হিন্দিভাষী সিনেমা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, সেই জায়গা থেকে বলা যায়, ‘ধুরন্ধর’ একাই টেনে তুলছে বলিউডকে। এর দ্বিতীয় পর্বটি মুক্তির ৩ দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৫০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করে ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে কোনো হিন্দি সিনেমার এমন পারফরম্যান্স আসলেই অভাবনীয়। এর সাথে আছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাইপ। সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ মূলত এখনকার ট্রেন্ড। কোনো বলিউডি মুভি শেষ কবে এমন ট্রেন্ড সেট করেছে, সেটি মনে করতে গেলে ভাবতে হবে বেশ কিছুক্ষণ!

তবে ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে প্রশংসার তোড়ের পাশাপাশি আছে সমালোচনাও। যদিও প্রশংসায় দেশপ্রেমের মোড়ক থাকায়, সমালোচনার পালে ঠিক হাওয়া লাগছে না। কারণ, স্রোতের বিরুদ্ধে চলা আলাপ কখনোই জনপ্রিয় হয় না। আর কেবলই পপুলিস্ট আলোচনায় লাইক-কমেন্ট অনেক পড়ে বটে, তবে সেটি অনেক সময়ই সত্যের ধারে-কাছে থাকে না।

‘ধুরন্ধর’ নিয়ে প্রধানতম অভিযোগ উঠছে যে, এটি একটি প্রোপাগান্ডা। মূলত ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রোপাগান্ডা হলো ‘ধুরন্ধর’–সমালোচনাকারীদের অভিযোগ এমনটাই। এর সাথে আসছে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগও। আছে ভারতের মধ্যেই বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠী, এমনকি বিজেপির বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকেও পুরোপুরি কোণঠাসা করার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য সিনেমার সংলাপের আকারে প্রচারের অভিযোগ। এর বাইরে মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতাও একটি রেড ফ্ল্যাগ বটে।

কথা হলো, ‘ধুরন্ধর’-এর অকাতরে প্রশংসা বা সমালোচনা–কোনটি আসলে যৌক্তিক?

রণবীর সিং। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
রণবীর সিং। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সিনেমার গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। সংক্ষেপে গল্পটি এ রকম: ভারতে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। কিন্তু এর শিকড়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না রাজনীতির নানা মারপ্যাঁচে। এই রাজনীতি স্থানীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক–সবই। তো, ভারতীয় ইন্টেলিজেন্সের বড় কর্তা অজয় সান্যাল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর, অপেক্ষা করছে উপযুক্ত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতাগ্রহণের। এবং শেষ পর্যন্ত তথাকথিত দ্রেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতায় আরোহণের আগেই তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী শক্তিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু হয়ে যায় অজয়ের নেতৃত্বেই। সেই অভিযানের ‘গুপ্ত’ কর্মকর্তা হলো হামজা। আর তার সেই ‘গুপ্ত’ অভিযানই মূলত ‘ধুরন্ধর’।

সিনেমার প্রথম পর্বে হামজা পাকিস্তানে ঢোকে এবং ধীরে ধীরে সেখানকার অপরাধ চক্রের অংশ হয়ে উঠতে শুরু করে। ফাঁকে ফাঁকে আসে তার আগের জীবনের ফ্ল্যাশব্যাক। প্রথম পর্বের শেষে রহমান ডাকাতকে খুন করে করাচির অপরাধ চক্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় হামজা। সিনেমার দ্বিতীয় পর্বে সেই অপরাধ চক্রের প্রধান হয়ে ওঠে হামজা এবং শুরু হয় সেটি ধ্বংস করে দেশের কল্যাণের মিশন। দর্শক জানতে পারে হামজার এমন গুপ্তচর হয়ে ওঠার রহস্য। এবং শেষমেষ জয় হয় নায়কের। একাই সে ধুয়েমুছে সাফ করে দেয় সন্ত্রাসবাদীদের ডেরা। বীর হিসেবে মাতৃভূমিতে ফেরে নায়ক হামজা।

এই গল্প দেখাতে গিয়েই এসেছে ভারতে ২০১৪ সালে বিজেপির সরকার গঠন ও নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা। দেখানো হয়েছে যে, মোদি ও বিজেপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে উঠছে ভারত। ইন্টেলিজেন্সের বড় কর্তা অজয় সান্যাল প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের অবৈধ কাজের চক্র ভেঙে দিচ্ছেন। দেখানো হয়েছে যে, মোদির ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘটনা আসলে সন্ত্রাসবাদীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। যদিও ওই ঘটনা নিয়ে দেশের ভেতরেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল মোদি সরকার এবং এখনো পড়ে।

সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে দেখিয়ে এবং তার প্রশংসামূলক সংলাপ ও দৃশ্যেও ‘ধুরন্ধর’ ভরপুর। একাধিকবার চরিত্রের মুখ দিয়ে বলানো হয়েছে যে, চা-ওয়ালা প্রধানমন্ত্রী হয়ে ভারতের ভেতরে অবৈধ কাজ করতে দিচ্ছে না, সন্ত্রাসবাদীদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। আবার নানাভাবে দেখানো হয়েছে যে, বিজেপির আগে যারা ভারতে সরকার গঠন করেছিল, তাদের অর্থায়ন করত পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী বিভিন্ন সংগঠন। ওইসব বিগত সরকারও নাকি সন্ত্রাসবাদীদের কাজ করার সুযোগ করে দিত! আবার এটিও দেখানো হয়েছে যে, ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকারীদের আদতে মদত দিচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা। সেক্ষেত্রে একেবারে নাম উল্লেখ করে নকশাল, শিখ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা কাশ্মীর থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনকারীকেই ভিড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, তথা বেলুচিস্তান ইস্যুতে দেখানো হয়েছে রাষ্ট্রের বা সরকারের নৃশংসতা। মনে হবে, যেন ভারতে আন্দোলনের নামে যা হচ্ছে, তা ন্যায় নয়; কিন্তু পাকিস্তানে যা হচ্ছে, তা ঠিক হচ্ছে!

বলিউড। ছবি:  এআই দিয়ে তৈরি
বলিউড। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

সেই সাথে এও দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীদের পরিচয় শুধুই মুসলমান। এই বিষয়টি এত জোর দিয়ে এবং বারংবার দেখানো হয়েছে যে, আমজনতা এই প্রায় ৭ ঘণ্টার দুই সিনেমা দেখার পর তাদের মনে হতেই পারে যে, মুসলমান মাত্রই বোধহয় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে যুক্ত! এই অঞ্চলে হিন্দু, মুসলমানের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ইতিহাসকে ব্যবহার করা হয়েছে নগ্নভাবে এবং তা হয়েছে হিন্দুত্ববাদী আবেগকে ধারণ করেই। যেন নেতিবাচক যা থাকার, তা শুধু একটি সম্প্রদায়ের মধ্যেই আছে! বেশ স্থূলভাবেই এই ডোপিং করা হয়েছে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার দুই পর্বে। এর ফাঁকে ফাঁকে কিছু কিছু আবেগীয় দৃশ্য ঢুকিয়ে বিষয়টিকে নিরপেক্ষ করার চেষ্টা হয়েছে যদিও, তবে ন্যূনতম রাজনৈতিক শিক্ষা পাওয়া যে কারওরই এই ‘সিনেমার রাজনীতি’ বোঝা কঠিন কিছু নয়। অবশ্য, বুঝতে না চাইলে ভিন্ন কথা!

এর বাইরে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও এসেছে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার দ্বিতীয় পর্বে। ১৯৭১ প্রসঙ্গে সেই চিরাচরিত ঢঙেই মুক্তিযুদ্ধকে পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে সেটিকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। আবারও সেই হিন্দু বনাম মুসলমান তত্ত্ব হাজির করা হয়েছে জোরালোভাবে। দেখানো হয়েছে বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির ইস্যু এবং আদালতের রায়। এমনকি ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর দাবি–পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় ভারতের অভিযান ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং এগুলোর সাথে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রচারিত ন্যারেটিভ থেকে তেমন কোনো ভিন্নতা পাওয়া যাবে না।

এতক্ষণ যত উদাহরণ দেওয়া হলো, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার দুই পর্বে এমন আরও অনেক উদাহরণ আছে। চাইলে উল্লেখ করাই যায়। তবে এক্ষণে একটু বিরতি নিয়ে বরং কিছু প্রশ্ন করা যাক–এত কিছুর পর ‘ধুরন্ধর’ কি প্রোপাগান্ডার একটি উত্তম উদাহরণ নয়? এটিও যদি প্রোপাগান্ডা না হয়, তাহলে প্রোপাগান্ডা আসলে কী বস্তু? আর এসব প্রোপাগান্ডা কি বিজেপি ও মোদি সরকার ছাড়া আর কারও পক্ষে যায়?

এই তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে মোটা বা সরু, সব দাগেই স্পষ্ট উত্তর আসে যে–‘ধুরন্ধর’ একটি অতীব ধুরন্ধর প্রকৃতির প্রোপাগান্ডা। অনেকটা এবারের সদ্য মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় পর্বে দেখানো স্লো পয়জনিং ড্রাগের মতো। শুরুতে তাই বলে দেওয়া হয় ‘অবিশ্বাস্য কিছু সত্য ঘটনা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘ধুরন্ধর’। গত ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া প্রথম পর্বের শুরুতে এই ডিসক্লেইমার ছিল। এরপর পুরো প্রথম পর্বে আসলে গল্প বলার চেষ্টাই হয়েছে বেশি। প্রোপাগান্ডামূলক জারগন গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা ছিল কিছুটা সীমিত। স্পাই থ্রিলার বা অ্যাকশন মুভি হিসেবে ভিত খোঁজার চেষ্টা ছিল অনেকটা। তবে পরিচালক আদিত্য ধর সিনেমাটির দ্বিতীয় পর্বে সেই চেষ্টা আর করেননি। একেবারে খুল্লামখুল্লা প্রোপাগান্ডা বানানোর প্রতিযোগিতাতেই নেমেছেন যেন। অবশ্য আদিত্য ধর এ ধরনের সিনেমা বানানোর জন্যই খ্যাত। সেই ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সিনেমা থেকেই ‘গেরুয়া’ ন্যারেটিভ ‘স্মার্ট’ তরিকায় ছড়ানোয় তিনি সিদ্ধহস্ত। এর আগের সব কাজেই কিছুটা আড়াল, আবডাল তিনি রাখতেন। তবে এবার আর সেসবের ধারেকাছে যাননি। আর নাচতে নেমে ঘোমটা দেওয়ারও বা কী দরকার!

যদিও এখন ঘোমটা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতের ভেতরে যারা ‘ধুরন্ধর’-এর দুই পর্ব দেখে একে প্রোপাগান্ডা সিনেমা বলছেন, তাদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বলিউডের স্টার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এতে তাল দিচ্ছেন। যারাই প্রোপাগান্ডা সিনেমার বিরোধিতা করতে চাইছেন, তাদের একঘরে করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিতর্কও জমে উঠেছে বেশ। কেউ বলছেন সিনেমা তো ফিকশন, ওতে কেন ফ্যাক্টস থাকতে হবে? আবার পাল্টা দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে, তাই বলে কি সিনেমা ডিস বা মিসইনফরমেশন ছড়ানোর মেশিন হতে পারে? কখনো অনুপম খের ‘ধুরন্ধর’-এর পক্ষে ব্যাট করছেন, তো বোলিংয়ে আছেন দক্ষিণের প্রকাশ রাজ। এভাবেই আমজনতা থেকে শুরু করে একেবারে সমাজের উপর তলার মানুষেরাও জড়িয়ে পড়ছেন দেশপ্রেমের মোড়কে প্রোপাগান্ডা চালানো সিনেমা তৈরি ভালো, নাকি খারাপ–সেই ঝগড়ায়।

রণবীর সিং। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
রণবীর সিং। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসবে লাভ অবশ্য হচ্ছে ‘ধুরন্ধর’-এরই। আয় হচ্ছে ধুন্ধুমার, প্রচার হচ্ছে প্রোপাগান্ডার। এটি অস্বীকার করার আসলেই উপায় নেই যে, ‘ধুরন্ধর’ নির্মাণশৈলীর দিক থেকে বেশ এগিয়ে। অ্যাকশন সিকোয়েন্স দুর্দান্ত। গান ও আবহ সংগীতও ভালো। আর অভিনয়শিল্পীদের তালিকা দেখলেই বোঝা যাবে, সবাই বেশ দক্ষ। তার প্রভাব পড়েছে পর্দাতেও। ফলে ‘ধুরন্ধর’ হলো সিনেমা হিসেবে একটি দুরন্ত প্যাকেজ। তবে ওষুধের মোড়কে বিষ দিলেই তো আর তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হয়ে যায় না। এটি সেই ঘরানার মাদক, যা প্রথমে সহজপাচ্য হিসেবে তুলে দেওয়া হয় আমজনতার হাতে। এরপর মানুষ তাতে আসক্ত হতে আরম্ভ করলেই শুরু হয় আসল খেলা। মানুষ যখন বোঝে যে সে নেশাগ্রস্ত, তখন আর কিছু করারও থাকে না। এই নেশা যে ন্যারেটিভের নেশা!

অনেকটা হলিউডি কায়দার প্রোপাগান্ডা মুভির মতোই এই ‘ধুরন্ধর’। হলিউড যেমন আফগানিস্তান বা ইরাকে চালানো পশ্চিমা হামলার যৌক্তিকতা খোঁজে সিনেমার পর্দায়, তা যেভাবে অস্কারও জেতে, ঠিক সেভাবেই আদিত্য ধর বানিয়েছেন ‘ধুরন্ধর’। তবে কিছু ক্ষেত্রে হলিউডও সীমা টানে। বলিউডের পরিচালক আর তা বুঝতে পারেননি বোধহয়। এ কারণেই ‘ধুরন্ধর’ শুধু প্রোপাগান্ডা হয়েই থেমে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে নির্লজ্জ দালালির অসাধারণ উদাহরণ!

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

সম্পর্কিত