ফজলে রাব্বি

শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রমজান মাস। প্রকৃতিতে বসন্ত। এবারের পুরো শীতে রাজধানীসহ সারা দেশের সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা যার পর নাই ভুগেছেন পাইপলাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের অভাবে। এই ভোগান্তি চরমে উঠেছিল এলপি গ্যাসের আমদানি সংকটে। কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় নাই এলপি গ্যাসের বাজার। বসন্তের আগমনে বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির উষ্ণতা। শুরু হচ্ছে সেচ মৌসুম। বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার। সঙ্গে শঙ্কা বাড়ছে লোডশেডিংয়ের। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। ওদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা চাপ দিচ্ছে বকেয়া পরিশোধের জন্য। এই টাকা না পেলে সামনের দিনগুলোতে অর্থের অভাবে জ্বালানি আমদানি করতে না পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে না বলেও জানিয়েছে আইপিপিগুলো।
এমনই এক পরিস্থিতিতে অর্থনীতির লাইফ লাইন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এর আগেও তিনি ২০০১-০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়া সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে এ মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই মেয়াদে দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষ ছিল বিদ্যুতের ভোক্তা। ২০০৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৪,৯০০ মেগাওয়াট; কার্যকর উৎপাদন প্রায় ৩,৫০০–৪,০০০ মেগাওয়াটের মধ্যে। খাতটির প্রধান দায়িত্ব ছিল উৎপাদন বাড়ানো ও লোডশেডিং কমানো।
তৎকালীন বিদ্যুৎ. জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পেট্রোবাংলার কার্যক্রম ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের। জ্বালানির মূল উৎস ছিল দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস। আমদানি নির্ভরতা ছিল খুব কম; এলএনজি আমদানির অবকাঠামো তখনো গড়ে ওঠেনি।
বাজেটের আকারও ছিল সীমিত–প্রায় ৩,৫০০-৪,০০০ কোটি টাকার মধ্যে। ভর্তুকি কাঠামো বড় ছিল না; বৈদেশিক ঋণ ও ক্যাপাসিটি পেমেন্টের চাপও তুলনামূলক কম।
২০ বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আজকের কাঠামো আগের তুলনায় বহুগুণ জটিল। মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে বৃহৎ আকারের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, আন্তর্জাতিক জ্বালানি চুক্তি, বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প এবং ডলারনির্ভর এলএনজি আমদানি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় সর্বজনীন। বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ আমদানি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে এই খাতে।
উন্নয়ন ব্যয়, ভর্তুকি ও পরিচালন ব্যয়সহ বাজেটের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৫০,০০০ কোটি টাকারও বেশি। শুধু বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকিই প্রায় ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস ও এলএনজি খাতে আরও ১০-১৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি যুক্ত হয়। বেসরকারি উৎপাদকদের কাছে অন্তত ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায়ও যুক্ত হয়েছে।
২০০৬ সালে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ছিল মূলত গ্যাসনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে জোর না দিয়ে ঘাটতি মোকাবিলায় আমদানির পথে পা বাড়িয়েছিল আগের সরকার। এ জন্য ভোমরা-খুলনা এবং বেনাপোল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ করে ভারত থেকে গ্যাস আমদানি, মহেশখালীতে আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), মোংলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল।
বিশেষ বিধান আইনের আওতায় মহেশখালীতে এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। মোংলায় এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকার দরপত্র ছাড়া দেওয়া ওই দুই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে।
এফএসআরইউ, ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন, এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারেনি অন্তবর্তীকালীন সরকার। যে কারণে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মহা চ্যালেঞ্জের মূখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সংকটের এই ধাক্কা ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ খাতকেও জটিল করে তুলেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭২৪ মিলিয়ন ঘনফুট।
গত মাসে, অর্থাৎ শীতের মাঝামাঝি বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ছিল। বসন্তের শুরুতে এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাভাস বলছে, রোজায় এই চাহিদা বেড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে।
এ অবস্থায় দ্বায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তারেক রহমানের সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে অর্থনীতিকে সচল করার জন্য বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যার দুই পাশেই ঝুঁকি আছে। কিন্তু সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে চাইলে আইপিপিগুলোর বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য চাই বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ। সেক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বিদুতের দাম বাড়িয়ে ও ভর্তুকি কমিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা মোকাবিলার পথে হাঁটতে পারে। কিন্তু সরকারের শুরুতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের জন্য সহজ নয় বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। একইভাবে গরমে পিক ডিমান্ড সামাল দিতে এলএনজি কিংবা কয়লার সরবরাহ বাড়াতে চাইলেও ডলারের ওপর চাপ বাড়বে।
খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে যথেষ্ট চাপের মুখে ছিল তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এবার তারেক রহমানের সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন তিনি। অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ইউনূস সরকারের সময় স্থবির হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকা আবার সচল করতে পারবেন বলেই প্রত্যাশা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তরা।
লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, চরচা

শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রমজান মাস। প্রকৃতিতে বসন্ত। এবারের পুরো শীতে রাজধানীসহ সারা দেশের সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা যার পর নাই ভুগেছেন পাইপলাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের অভাবে। এই ভোগান্তি চরমে উঠেছিল এলপি গ্যাসের আমদানি সংকটে। কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় নাই এলপি গ্যাসের বাজার। বসন্তের আগমনে বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির উষ্ণতা। শুরু হচ্ছে সেচ মৌসুম। বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার। সঙ্গে শঙ্কা বাড়ছে লোডশেডিংয়ের। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। ওদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা চাপ দিচ্ছে বকেয়া পরিশোধের জন্য। এই টাকা না পেলে সামনের দিনগুলোতে অর্থের অভাবে জ্বালানি আমদানি করতে না পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে না বলেও জানিয়েছে আইপিপিগুলো।
এমনই এক পরিস্থিতিতে অর্থনীতির লাইফ লাইন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এর আগেও তিনি ২০০১-০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়া সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে এ মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই মেয়াদে দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষ ছিল বিদ্যুতের ভোক্তা। ২০০৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৪,৯০০ মেগাওয়াট; কার্যকর উৎপাদন প্রায় ৩,৫০০–৪,০০০ মেগাওয়াটের মধ্যে। খাতটির প্রধান দায়িত্ব ছিল উৎপাদন বাড়ানো ও লোডশেডিং কমানো।
তৎকালীন বিদ্যুৎ. জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পেট্রোবাংলার কার্যক্রম ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের। জ্বালানির মূল উৎস ছিল দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস। আমদানি নির্ভরতা ছিল খুব কম; এলএনজি আমদানির অবকাঠামো তখনো গড়ে ওঠেনি।
বাজেটের আকারও ছিল সীমিত–প্রায় ৩,৫০০-৪,০০০ কোটি টাকার মধ্যে। ভর্তুকি কাঠামো বড় ছিল না; বৈদেশিক ঋণ ও ক্যাপাসিটি পেমেন্টের চাপও তুলনামূলক কম।
২০ বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আজকের কাঠামো আগের তুলনায় বহুগুণ জটিল। মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে বৃহৎ আকারের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, আন্তর্জাতিক জ্বালানি চুক্তি, বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প এবং ডলারনির্ভর এলএনজি আমদানি।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রায় সর্বজনীন। বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ আমদানি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে এই খাতে।
উন্নয়ন ব্যয়, ভর্তুকি ও পরিচালন ব্যয়সহ বাজেটের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৫০,০০০ কোটি টাকারও বেশি। শুধু বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকিই প্রায় ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস ও এলএনজি খাতে আরও ১০-১৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি যুক্ত হয়। বেসরকারি উৎপাদকদের কাছে অন্তত ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায়ও যুক্ত হয়েছে।
২০০৬ সালে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ছিল মূলত গ্যাসনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে জোর না দিয়ে ঘাটতি মোকাবিলায় আমদানির পথে পা বাড়িয়েছিল আগের সরকার। এ জন্য ভোমরা-খুলনা এবং বেনাপোল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ করে ভারত থেকে গ্যাস আমদানি, মহেশখালীতে আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), মোংলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল।
বিশেষ বিধান আইনের আওতায় মহেশখালীতে এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। মোংলায় এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকার দরপত্র ছাড়া দেওয়া ওই দুই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে।
এফএসআরইউ, ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন, এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারেনি অন্তবর্তীকালীন সরকার। যে কারণে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই মহা চ্যালেঞ্জের মূখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সংকটের এই ধাক্কা ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ খাতকেও জটিল করে তুলেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭২৪ মিলিয়ন ঘনফুট।
গত মাসে, অর্থাৎ শীতের মাঝামাঝি বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ছিল। বসন্তের শুরুতে এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাভাস বলছে, রোজায় এই চাহিদা বেড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে।
এ অবস্থায় দ্বায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তারেক রহমানের সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে অর্থনীতিকে সচল করার জন্য বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যার দুই পাশেই ঝুঁকি আছে। কিন্তু সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে চাইলে আইপিপিগুলোর বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য চাই বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ। সেক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বিদুতের দাম বাড়িয়ে ও ভর্তুকি কমিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা মোকাবিলার পথে হাঁটতে পারে। কিন্তু সরকারের শুরুতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের জন্য সহজ নয় বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। একইভাবে গরমে পিক ডিমান্ড সামাল দিতে এলএনজি কিংবা কয়লার সরবরাহ বাড়াতে চাইলেও ডলারের ওপর চাপ বাড়বে।
খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে যথেষ্ট চাপের মুখে ছিল তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এবার তারেক রহমানের সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন তিনি। অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ইউনূস সরকারের সময় স্থবির হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকা আবার সচল করতে পারবেন বলেই প্রত্যাশা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তরা।
লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, চরচা

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট