Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

যেভাবে গুরু হয়ে ওঠেন রঘু রাই

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৩৮
যেভাবে গুরু হয়ে ওঠেন রঘু রাই

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করেন, তাদের অনেকেরই স্বপ্ন থাকে ‘ম্যাগনাম ফটোস’-এর সদস্য হওয়া। ম্যাগনামের সদস্যপদ এক ধরনের স্বীকৃতি, একটি মাইলফলক। তা না হওয়ার কারণও তো নেই। আধুনিক ফটোসাংবাদিকতার আঁতুরঘর এই সমিতি। হেনরি কার্তিয়ার-ব্রেসন, রবার্ট কাপা, আব্বাস আত্তার, ম্যারিলিন সিলভারস্টোন, ইউজিন স্মিথ, স্টিভ ম্যাককারি, জোসেফ কুদেলকা, এলিয়ট এরউইট, অ্যালেক্স ওয়েবের মতো আলোকচিত্রী ও ফটোসাংবাদিকরা এই সমিতির হাত ধরেই হয়েছেন বিশ্বখ্যাত। তাদের ভিড়ে প্রাচ্য থেকে যিনি সগৌরবে জায়গা করে নিলেন তিনি রঘু রাই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

‘ম্যাগনাম ফটোগ্রাফার’দের ভিড়েও রঘু রাই ভিন্ন, অতুলনীয়। অবশ্য ম্যাগনামের একজন আলোকচিত্রীর সঙ্গে আরেকজন আলোকচিত্রীর অমিলই মিল। কারো ছবির সঙ্গে কারো ছবির মিল নেই। সবার ছবি স্ব স্ব মহিমায় ভীষণ উজ্জ্বল। এর কারণ, প্রত্যেকে জোর দিয়েছিলেন নিজের দেশ, মানুষ ও সংস্কৃতির ওপর। মিল ও অমিল এই জায়গাটিতেই। তবে রঘু রাই যেভাবে ভারতীয়দের আবেগ-অনুভূতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে ছবির ভাষায় বুঝতে চেয়েছিলেন—তা বিস্ময়কর। ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির এতটাই বর্ণাঢ্য ও বিস্তৃত যে, পশ্চিমাদের বারবার এই অঞ্চলে ছুটে আসতে হয়েছে। রঘু রাই গোড়াতেই বুঝতে পেরেছিলেন, তার বাড়ির কাছেই আরশিনগর। সেই নগরে তিনি দিনের পর দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন, ভারতকে অনুধাবন করেছেন, সবশেষে তার প্রাণটাকে ফিল্মে ধারণ করেছেন। তার ছবিগুলোতে চোখ রাখলেই আমরা সহজেই তা বুঝতে পারি।

মাদার তেরেসা ও ভোপাল ট্র্যাজেডির ছবি। ছবি: রঘু রাই
মাদার তেরেসা ও ভোপাল ট্র্যাজেডির ছবি। ছবি: রঘু রাই

আর এভাবে রঘু প্রাচ্যতত্ত্বের শৈল্পিক বিরোধিতাও করলেন। পাশ্চাত্য যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতকে দেখত বা দেখতে চাইত–সেভাবে ভারতকে দেখানোর প্রথাগত ধারা ও বয়ানকে অস্বীকার করলেন তিনি, বিশ্বকে দেখালেন অফুরন্ত প্রাণ ভারপুর ভারতকে। তিনি প্রায় এককভাবে ভারতের একটি ইতিবাচক বয়ান প্রতিষ্ঠা করলেন। তার ছবি সর্বমত ও পথের, সব ধর্মের, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির, আত্মমর্যাদার, স্বকীয়তার ও প্রতিশ্রুতিশীল ভারতের গল্প বলে।

‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র ডলি কেন আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন?Doly.jpg (1)

যদিও ‘বঙ্গদর্শন ডটকম’-এ প্রকাশিত এক লেখায় মৌনী মণ্ডল বলেছিলেন, “রঘু রাইয়ের ছবিতে ধরা পড়ে অস্থির সময়ের প্রতিবিম্ব, দুঃখ, দুর্দশা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা। তারপরও সেসব ছবির এমন একটি ‘বোধ’ থাকে, যা অমূল্য, একবার দেখলে ভোলা দায়।” ঠিক, অস্থির সময় কম ক্যামেরাবন্দী করেননি তিনি। যেমন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, ইন্দিরা গান্ধীর শাসন ইত্যাদি। কিন্তু তার ৫০ বছরের ফটোগ্রাফিজীবনের তুলনায় অস্থির সময়কে ধারণ—নগণ্য। তিনি বরং সুখ্যাত চলমান জীবনের গান গাইতে। তার ছবিগুলো আসলে পথের পাঁচালী। সেই পাঁচালী কখনো সৌম্য (মাদার তেরেসা বা তাজমহলের ছবি), কখনোবা দ্রুতলয়ের (চার্চ গেট স্টেশনের ছবি)।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তার বিখ্যাত ছবিগুলোর বেশির ভাগই সাদাকালো, কিন্তু আজব বিষয় হলো, সেই ছবিগুলোতে এ অঞ্চলের বর্ণিল সংস্কৃতির নানা রং দেখা যায়! এখানেই রঘু রাইয়ের ম্যাজিক! ক্যামেরা তো আর ফটোকপির মেশিন না যে–যা দেখলাম কপি করে চললাম! ক্যামেরা তো জাদুর বাক্স! যে বাক্স থেকে বেরিয়ে আসবে অপ্রত্যাশিত সব দৃশ্য। রঘুর মতো ক্যামেরার জাদুকর খুব কমই ছিলেন। তাজমহল কতবার দেখলাম! কিন্তু যখন রঘুর তাজমহল দেখি, তখন ভাবি, তাহলে এতদিন কোন তাজমহল দেখলাম! মনে হয়, জাদু না জানলে চিরচেনা তাজমহলকে অচেনা কিন্তু অনবদ্য করে তোলা কি যায়? রঘু রাই ঘোষণা না দিয়ে আমাদের গুরু হয়ে ওঠেন। তিনি শেখান–কীভাবে দেখতে হয়, কীভাবে চোখ দিয়ে দৃশ্য উপভোগ করতে হয়।

রঘুর ক্যামেরায় চার্চ গেট স্টেশন।
রঘুর ক্যামেরায় চার্চ গেট স্টেশন।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কীভাবে ছবি তোলার মুনশিয়ানা ধরে রাখতে পারলেন তিনি? তিনি বলেছেন, “আমরা যখনই কিছু করতে যাই–মন বলে, ‘এটা ঠিক, ওটা ভুল।’ মনটাই সৃজনশীলতায় সবচেয়ে বড় বাধা। মনকে কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা যায় না। সামনে যে পরিস্থিতি আছে, তাকে সরাসরি উপলব্ধি করতে চোখকে হৃদয়ের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে।”

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরও কিন্তু অনেকটা এমন কথাই বলেছিলেন, “ঠিক সুরে সুর মেলা চাই, না হলে যন্ত্র বল্লে ‘গা’, কণ্ঠ বলে উঠলো ‘ধা’।” (বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলি) মনের সঙ্গে যন্ত্রের এই সংযোগ রঘু করে নিয়েছিলেন। তাই তার ছবি বেসুরা পাঁচালী ধরে না।

বিষয়: ছবিফটোগ্রাফিমুক্তিযুদ্ধক্যামেরাসাংবাদিক
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া