অর্ণব সান্যাল

ঢাকাজুড়ে যেন মশার গুনগুন। দাঁড়িয়ে থাকা, বসা–কোনো কিছুই আর স্বস্তিতে করা যাচ্ছে না। একটুক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকলেও মনে হবে, মশা কামড়ে ছিবড়ে করে ফেলবে যেন!
এই অধমের বাসা ঢাকা উত্তরে। সেখানেই আপাত অস্থায়ী আশ্রয়। পাঁচতলার ওপরের সেই বাসার বারান্দাতেও পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে মশা তাড়াতে তাড়াতেই ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড চলে যায়! নিচে নেমে পাড়ার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলেও মশা তাড়াতে হয়।
ওদিকে এই সাধারণ নাগরিকের অফিস ঢাকা দক্ষিণে। সেখানে ১৪ তলার ওপরেও মশা মেলে। আর নিচে তো কথাই নেই। হাতে, মুখে তাড়াতে পারলেও দেখা যায় ঘাড়ে চুপটি মেরে বসে আছে, খেয়ে চলেছে রক্ত।
অর্থাৎ, ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ বা পূর্ব, পশ্চিম–যেখানেই যাবেন, মশা থেকে নিস্তার মিলবে না। মশার কামড় খেতে খেতেই চলতে হচ্ছে। এমন অবস্থা অবশ্য গত ১ বছর ধরেই। মশা কারও পিছু ছাড়ছে না। ঢাকা এত বড় একটা শহর, যার দুটি সিটি করপোরেশন আছে, সেই ঢাকাতে এত মশার আবাদ হলো কীভাবে?
প্রধান বিষয় হলো, মশা মারার চেষ্টাটা সরকারিভাবে সেভাবে করা হয়নি। আমজনতার একজন সদস্য হিসেবে এতটুকু নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। কারণ, সেই চেষ্টাটা এই দুই চোখে পরিলক্ষিত হয়নি। কদাচিৎ ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছড়াতে দেখা গেছে, এই পর্যন্তই।
এর ফলাফল হলো, রাজধানীতে মশার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বৈশ্বিক হিসাবে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় সংখ্যাটি এই ফেব্রুয়ারিতে ৮৫০। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। এটি একটি বিপৎসংকেত। আর মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষকেরা বলছেন, মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। আর রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিও এগোচ্ছে না। ফলে মশার পরিমাণ বাড়ছেই কেবল।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও পাঁচ এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই পর্যবেক্ষণে গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়। আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২-এ ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।

মূল কথা হলো, মশা বাড়ছেই কেবল। সরকারি, বেসরকারি–সব হিসাবেই এটি স্পষ্ট। আর সাধারণ মানুষ তো টের পাচ্ছেই কামড় খেয়ে খেয়ে। সরকারি সংস্থাগুলোর অবহেলার বিষয়টি সেখানে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। অথচ, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা একজন ‘ছাত্র উপদেষ্টা’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সরকার ‘রাজনৈতিক’ ছিল না বলেই দাবি করা হয়ে থাকে। যদিও সেই সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আছে। আমরা দেখেছি, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো অথবা তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের গণহারে বরখাস্ত করা নিয়ে নানা রাজনীতিতে উসকানি দেওয়া হয়েছে সরকারি পর্যায় থেকে। আবার সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসার পরও উঠেছে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ। রাজনৈতিক বিরোধীদের আবার দেখা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে। এসবের একেবারে সামনে থাকা এক রাজনৈতিক নেতা আবার সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে মন্ত্রিপরিষদেও জায়গা পেয়েছেন।
এখন কথা হলো, সিটি করপোরেশনের ক্ষমতার দখল নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম তো হলো ভালোই। এখনো হচ্ছে। আগের ছাত্র উপদেষ্টা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার কথা বলছেন, বলছেন মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া সদ্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাও। তা, ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ির ফাঁকে কি তারা কেউ মশার কামড় নিয়ে ভেবেছেন একবারও? একটুও যদি ভাবতেন, তাহলে হয়তো রাজধানীর সাধারণ বাসিন্দাদের আজ এভাবে মশা তাড়াতে তাড়াতে হয়রান হয়ে যেতে হতো না।
অথচ গেল ২০২৫ সালেই এ দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হিসাবেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তের এই হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪১৪, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি ২৬২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অর্থাৎ, মশার কামড়ে এ দেশের রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেই ফি বছরে শয়ে শয়ে নাগরিক মরছে। কিন্তু তা নিয়ে সত্যিকারের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আসলে দেখা যায় না খুব একটা। নতুন সরকার এসেই অবশ্য অন্তত এতটুকু বলেছে যে, মশা নিয়ন্ত্রণের সরকারি কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের অভাব আছে। সমন্বয়ের অভাব থাকায় রাজধানীর দুই সিটিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশও করেছেন তিনি।
আশা থাকা ভালো। সরকারি পর্যায় থেকে আশা প্রদর্শন করলে, সাধারণ মানুষও একটু দিশা পায়। তবে এ দেশের মানুষের তো আবার সব আশাতেই শেষে শুধু নিরাশা মেলে। তা সরকার নির্বাচিত হোক, বা অনির্বাচিত। রাজনৈতিক হোক, বা তথাকথিত অরাজনৈতিক!
তাই কথার চেয়ে কাজই আসল। সামনের মার্চ, এপ্রিল আসতে আসতেই হয়তো সেই কাজের নমুনা আমাদের বোঝা হয়ে যাবে। এখন সেই বোঝাপড়াটা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হবে, নাকি বাসার বারান্দায় নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে–ওটিই দেখার।
লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

ঢাকাজুড়ে যেন মশার গুনগুন। দাঁড়িয়ে থাকা, বসা–কোনো কিছুই আর স্বস্তিতে করা যাচ্ছে না। একটুক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকলেও মনে হবে, মশা কামড়ে ছিবড়ে করে ফেলবে যেন!
এই অধমের বাসা ঢাকা উত্তরে। সেখানেই আপাত অস্থায়ী আশ্রয়। পাঁচতলার ওপরের সেই বাসার বারান্দাতেও পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে মশা তাড়াতে তাড়াতেই ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড চলে যায়! নিচে নেমে পাড়ার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলেও মশা তাড়াতে হয়।
ওদিকে এই সাধারণ নাগরিকের অফিস ঢাকা দক্ষিণে। সেখানে ১৪ তলার ওপরেও মশা মেলে। আর নিচে তো কথাই নেই। হাতে, মুখে তাড়াতে পারলেও দেখা যায় ঘাড়ে চুপটি মেরে বসে আছে, খেয়ে চলেছে রক্ত।
অর্থাৎ, ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ বা পূর্ব, পশ্চিম–যেখানেই যাবেন, মশা থেকে নিস্তার মিলবে না। মশার কামড় খেতে খেতেই চলতে হচ্ছে। এমন অবস্থা অবশ্য গত ১ বছর ধরেই। মশা কারও পিছু ছাড়ছে না। ঢাকা এত বড় একটা শহর, যার দুটি সিটি করপোরেশন আছে, সেই ঢাকাতে এত মশার আবাদ হলো কীভাবে?
প্রধান বিষয় হলো, মশা মারার চেষ্টাটা সরকারিভাবে সেভাবে করা হয়নি। আমজনতার একজন সদস্য হিসেবে এতটুকু নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। কারণ, সেই চেষ্টাটা এই দুই চোখে পরিলক্ষিত হয়নি। কদাচিৎ ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছড়াতে দেখা গেছে, এই পর্যন্তই।
এর ফলাফল হলো, রাজধানীতে মশার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বৈশ্বিক হিসাবে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় সংখ্যাটি এই ফেব্রুয়ারিতে ৮৫০। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। এটি একটি বিপৎসংকেত। আর মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গবেষকেরা বলছেন, মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। আর রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিও এগোচ্ছে না। ফলে মশার পরিমাণ বাড়ছেই কেবল।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও পাঁচ এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই পর্যবেক্ষণে গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়। আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২-এ ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।

মূল কথা হলো, মশা বাড়ছেই কেবল। সরকারি, বেসরকারি–সব হিসাবেই এটি স্পষ্ট। আর সাধারণ মানুষ তো টের পাচ্ছেই কামড় খেয়ে খেয়ে। সরকারি সংস্থাগুলোর অবহেলার বিষয়টি সেখানে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। অথচ, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা একজন ‘ছাত্র উপদেষ্টা’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সরকার ‘রাজনৈতিক’ ছিল না বলেই দাবি করা হয়ে থাকে। যদিও সেই সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আছে। আমরা দেখেছি, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো অথবা তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের গণহারে বরখাস্ত করা নিয়ে নানা রাজনীতিতে উসকানি দেওয়া হয়েছে সরকারি পর্যায় থেকে। আবার সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসার পরও উঠেছে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ। রাজনৈতিক বিরোধীদের আবার দেখা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে। এসবের একেবারে সামনে থাকা এক রাজনৈতিক নেতা আবার সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে মন্ত্রিপরিষদেও জায়গা পেয়েছেন।
এখন কথা হলো, সিটি করপোরেশনের ক্ষমতার দখল নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম তো হলো ভালোই। এখনো হচ্ছে। আগের ছাত্র উপদেষ্টা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার কথা বলছেন, বলছেন মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া সদ্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাও। তা, ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ির ফাঁকে কি তারা কেউ মশার কামড় নিয়ে ভেবেছেন একবারও? একটুও যদি ভাবতেন, তাহলে হয়তো রাজধানীর সাধারণ বাসিন্দাদের আজ এভাবে মশা তাড়াতে তাড়াতে হয়রান হয়ে যেতে হতো না।
অথচ গেল ২০২৫ সালেই এ দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হিসাবেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তের এই হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪১৪, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি ২৬২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অর্থাৎ, মশার কামড়ে এ দেশের রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেই ফি বছরে শয়ে শয়ে নাগরিক মরছে। কিন্তু তা নিয়ে সত্যিকারের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আসলে দেখা যায় না খুব একটা। নতুন সরকার এসেই অবশ্য অন্তত এতটুকু বলেছে যে, মশা নিয়ন্ত্রণের সরকারি কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের অভাব আছে। সমন্বয়ের অভাব থাকায় রাজধানীর দুই সিটিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশও করেছেন তিনি।
আশা থাকা ভালো। সরকারি পর্যায় থেকে আশা প্রদর্শন করলে, সাধারণ মানুষও একটু দিশা পায়। তবে এ দেশের মানুষের তো আবার সব আশাতেই শেষে শুধু নিরাশা মেলে। তা সরকার নির্বাচিত হোক, বা অনির্বাচিত। রাজনৈতিক হোক, বা তথাকথিত অরাজনৈতিক!
তাই কথার চেয়ে কাজই আসল। সামনের মার্চ, এপ্রিল আসতে আসতেই হয়তো সেই কাজের নমুনা আমাদের বোঝা হয়ে যাবে। এখন সেই বোঝাপড়াটা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হবে, নাকি বাসার বারান্দায় নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে–ওটিই দেখার।
লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট