
‘আমরা জেনারেশন নাইন ইলাভেন’
ইতিহাসের পাতায় হয়তো ঘটনাটি এক দিনের। কিন্তু এর প্রভাব আমরা বহন করছি বছরের পর বছর ধরে–আমাদের চিন্তায়, প্রবাসে থাকা প্রিয়জনদের অভিজ্ঞতায়, নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতায় আর বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে।
আত্মহত্যা বা আত্মহনন। এই কাজটি কোনো সমাজেই খুব একটা দুর্লভ কোনো বিষয় নয়। বরং সব ধরনের সমাজেই প্রবলভাবে বিরাজমান যেসব বৈশিষ্ট্য আমরা দেখি, সেগুলোর মধ্যে আত্মহত্যা অন্যতম। সে কারণে আত্মহত্যার চেষ্টাও একটি পরিচিত ঘটনা। তবে কোন সমাজ এই দুটি কাজকে কোন দৃষ্টিতে দেখে বা বিবেচনা করে, সেটিই বলে দেয় কোন সমাজ কতটা সহনশীল ও উন্নত। আর ঠিক সেই জায়গাতেই আমাদের দেশ ও সমাজ পিছিয়ে থাকছে বহুগুণে।
আত্মহত্যা একটি বিশেষ্য পদ। আভিধানিকভাবে এর অর্থ হলো, নিজেকে নিজে হত্যা করার কাজ। দুনিয়াজুড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য হলেও বিশ্বে প্রতি বছর আত্মহত্যায় প্রাণ যায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষের। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর কারণের মধ্যে তৃতীয় প্রধান। ডব্লিউএইচও-এর পরিসংখ্যান বলছে, এসব মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।
আমাদের দেশে ও সমাজে আত্মহত্যা কোনো নতুন বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন এমন ঘটনা বাড়ছেই শুধু। নানা বয়স ও পেশার মানুষ আত্মহত্যা করছেন। অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টাও করছেন। গত আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) আত্মহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে পারিবারিক ও সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, বেকারত্ব, পড়াশোনা, পরীক্ষার চাপসহ বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয়।এদিকে পুলিশের নথি জানাচ্ছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে আত্মহত্যা করেছেন ৭৬ হাজার ৩৬১ জন। অর্থাৎ, বছরে গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছেন। অন্যদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আঁচল ফাউন্ডেশনের ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় জানানো হয়, দেশে ২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। আর ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ৩১০।
অর্থাৎ, সারা দুনিয়ার মতো বাংলাদেশেও আত্মহত্যা ঘটছে উল্লেখযোগ্য হারে। কারণ নানামাত্রিক হয়। সেইসব কারণগুলোর একেকটি একেকজনের কাছে একেক মাত্রার বোধ হওয়া স্বাভাবিক। এসব নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয় এন্তার। সেসবে নানা ধরনের কারণ উল্লেখ করা হয় পরিবার বা পুলিশের বরাতে। এবং সেসব উল্লেখকৃত ‘বাহ্যিক’ কারণগুলো প্রায় সময়ই আত্মহত্যায় মরে যাওয়া মানুষগুলোর আত্মঘাতী হওয়ার প্রকৃত কারণটি তুলে ধরে না। ভাসা ভাসা যেসব কারণ খবরে জানা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু সেসবের প্রতিক্রিয়াতেই মানুষ আত্মঘাতী হয় না। ভেতরে বরং থাকে না শোনা আরও গূঢ় কোনো কারণ।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বলে নেওয়া ভালো যে, আত্মহত্যা কখনোই আপনাকে চূড়ান্ত কোনো সমাধান দেবে না। যে জীবনে ক্লিষ্টবোধ করে কেউ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, এর বদলে চাইলে সেটিকে পরিবর্তনের দায়িত্বও নেওয়া যায়। হয়তো তাতে সব ঠিক হয়ে যাবে না, কিন্তু কেউ না কেউ ওই পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়াতেই উপকৃত হতেও পারে। সব ক্রিয়ারই তো প্রতিক্রিয়া থাকে, তাই না?

তাহলে সমাধান নেই জেনেও কেন মানুষ অসীম শূন্যতার পথে পা বাড়ায়? এর প্রধান কারণ হলো–মানুষের বিষাদগ্রস্ততা। এটি কোনো হাতি-ঘোড়ার কারণে সৃষ্টি হয় না। এর জন্য দায়ী অন্য মানুষই। তারাই একজন মানুষকে ধীরে ধীরে খাদের কিনারে ঠেলে দেয়। আর ঠেলা খেতে খেতে একটা সময় ওই মানুষটা টুপ করে পড়ে যায় খাদে। মনটাই আগে মরে যায় দেখে সে আর লড়াই করার সাহস পায় না। পায় না ঘুরে দাঁড়ানোর মতো মনের জোর। এক মানুষের ভেতরে এই ভঙ্গুরতা তৈরি করায় অবদান রাখে আরেক মানুষই, একদল মানুষ বা সমাজই। ছকে বাঁধা সমাজ নির্দিষ্ট ছকের বাইরে কাউকে দেখলেই এককোণে নিয়ে ফেলতে চায়। আর এভাবেই একটা মানুষ মরে যায়। সাধ করে কেউ নিজেকে মারে না। মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাওয়া কখনোই তো শখ হতে পারে না, তাই না?
অথচ, আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের কেন জানি তেমনটাই মনে হচ্ছে। তাদের হয়তো মনেই হচ্ছে যে, আত্মহত্যা মানুষের শখ হতেই পারে! অন্তত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যদি কোনো আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার খবরের পোস্টের নিচের কমেন্টগুলোতে আমরা চোখ বুলাই, তবে দেখা যাবে কিছু নির্দিষ্ট ঘরানার মন্তব্যের ভিড়। আত্মহত্যার চেষ্টার সংবাদে এমন কমেন্টও দেখা যায় যে, ‘মরে নাই এখনো?’ বা ‘মরবে কবে?’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই যেমন, সম্প্রতি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আত্মহত্যার চেষ্টার খবরে এমন কমেন্টই পাওয়া গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মেঘমল্লার। সেই স্ট্যাটাস ধরেই তার আত্মঘাতী হওয়ার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। তার এমন প্রবণতার সাম্প্রতিক ইতিহাসও আছে। ফলে তাকে নিয়ে পরিচিতজনেরা বেশ উৎকণ্ঠায় ছিলেন। পরে মেঘমল্লারকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী ওয়াশ করেন। বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তার পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়েছিল। হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেঘমল্লার বসু ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন।
ঠিক এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশি জনতা আদালত বসায় ফেসবুকে। মার্ক জাকারবার্গের ওই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মন্তব্য আসতে থাকে–কেন মেঘমল্লার এখনো মরে গেলেন না, কবে মরবেন, মরলে শান্তি পাওয়া যেত ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই সাথে কেউ কেউ আবার আরেকটু এগিয়ে মেঘমল্লারকে আইনের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন। কেউ বলছেন, মেঘমল্লারের এমন কাজে তারুণ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, কারও মতে বিচ্ছিরি হয়ে যাচ্ছে বামবলয়ের রাজনৈতিক মূর্তি। এমন নানা ধরনের মন্তব্যে সয়লাব হয়ে যায় ভার্চুয়াল দুনিয়া। এর বাইরে বিপুল ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট তো আছেই। হ্যাঁ, কিছু সত্যিকারের মানুষ সহানুভূতি ও শুভ কামনায় মেঘমল্লারকে রেখেছেন বটে। তবে সেই অংশটি বেশ ছোটই বলা চলে। অন্তত বিষোদগারের মাত্রা তুলনায় ছোটই। অবশ্য ওই ছোট অংশটি আছে বলেই রক্ষা!
তো, এ দেশের সিংহভাগ মানুষের এমন আচরণ দেখে বা শুনে আসলে পুরোপুরিই হতাশ হয়ে যেতে হয়। ভাবতে হয় যে, কখন একটি সমাজের এত এত মানুষ এতটা অসংবেদনশীল হয়ে ওঠে? সেই অসংবেদনশীলতা এতটাই যে, তারা আত্মহত্যার চেষ্টার খবরে একজন মানুষ কেন মরে গেল না, তা নিয়ে হাহাকার করে। হা হা করে হেসে ওঠে। এটি কি খুব একটা সুস্থ সমাজের লক্ষণ?
গবেষণাতেও এমন আচরণের প্রমাণ মেলে। ২০২২ সালের মার্চ মাসে ‘জার্নাল অব লস অ্যান্ড ট্রমা’তে প্রকাশিত হয়েছিল ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারস রিঅ্যাকশনস টু সুইসাইড’ শিরোনামের একটি গবেষণামূলক নিবন্ধ। লেখক ছিলেন মো. সায়ীদ আল-জামান ও মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। ওই গবেষণা নিবন্ধে বাংলাদেশের আত্মহত্যার খবরে থাকা মানুষের ৩ হাজার ৪৮২টি মন্তব্যের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশে আত্মহত্যার খবরে সবচেয়ে বেশি রিয়্যাকশন থাকে অ্যাংরি (২০.৩%)। প্রায় ১২.৭ শতাংশ রিয়্যাকশন আসে হাসি-ঠাট্টার। এর বাইরে দুঃখ বা আশ্চর্যবোধক প্রতিক্রিয়া মেলে। পাওয়া যায় জাজমেন্টাল ও তামাশা প্রকাশক প্রতিক্রিয়াও। এসবের মধ্যে সবচেয়ে ঘাটতি পাওয়া যায় সহানুভূতি ও সহমর্মিতাতেই।
এমনিতেই আত্মহত্যা নিয়ে সারা দুনিয়ার মতো আমাদের দেশেও মানুষের মধ্যে ‘সোশ্যাল স্টিগমা’ অনেক বেশি। মানসিক অসুস্থতা বা বিষাদে ভোগাকেও সেভাবেই দেখা হয় এ সমাজে। ফলে একটা মানুষ মানসিকভাবে প্রচণ্ড একা হয়ে গেলেও নিজেকে নিজে সামলাতে না পারলেও অন্যের কাছে সহায়তা চাইতে দ্বিধায় ভোগে। এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও তা নিতে ভয় পায়। ভুগতে থাকা মানুষটি তখন চরম লজ্জায় আরও একা হয়ে যেতে থাকে। মানুষটি পরিবারে ও সমাজে প্রান্তিক হয়ে পড়তে থাকে। অর্থাৎ, একটা মানুষকে ক্রমে এমন একটা অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হতে থাকে, যাতে তার বেঁচে থাকাটা আরও অসহনীয়ই হয়ে ওঠে। অথচ তখন তার প্রয়োজন সহানুভূতি, সংবেদনশীল আচরণ। কিন্তু তার ধারেকাছেও যায় না এই সমাজের সিংহভাগ মানুষ।
তাহলে ওই ভেঙে পড়া মানুষটাকে কি ধীরে ধীরে মরে যাওয়ার দিকেই ঠেলে দেওয়া হয় না? সেই মানুষটার কি তখন আর বেঁচে থাকার মতো শক্তি আর অবশিষ্ট থাকে? বর্তমান বাস্তবতায় এখন মনে হতেই পারে যে, আমাদের সমাজে যেন এভাবে মানুষকে ‘মৃতপ্রায়’ বানিয়ে ফেলার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আমরা কেবল ওই মৃত্যুটি হয়তো আক্ষরিকভাবে বাস্তবায়ন করি না, এই আর কি! একজন মানুষের মনকে কেটে টুকরো টুকরো করে জীবন্মৃত করে ফেলাটায় বরং এ সমাজের মানুষদের দক্ষতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। নইলে একটি সমাজ এতটা অসহনশীল, এতটা অসহিষ্ণু বা এতটা কটু মন্তব্যে পরিপূর্ণ হয় কীভাবে? ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আসলে ধন্ধে পড়ে যেতে হয় যে–কোনটি আসলে আত্মহত্যা, আর কোনটিই বা হত্যা? কে কারণ, কে ফলাফল, কে’ই বা ওই ক্রিয়াপদের কর্তা?
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি তাই এতটাই সঙিন হয়ে উঠছে যে, মনে হচ্ছে আমরা যেন কেবলই একজন আরেকজনকে গিলে খাওয়ার নেশায় মত্ত। আরেকজনকে ধসিয়ে দিতে না পারলে আমাদের হৃদয়ে স্বস্তির উদয় হচ্ছে না। এই নেশায় নেশাতুর হয়ে আমরা তাই কোনো আত্মহত্যার খবর শুনলেই কেবলই বলে উঠি–‘বাঁচা গেছে’ বা ‘মরেছে, ভালো হয়েছে’। আত্মহত্যার চেষ্টা করার খবর দেখলে প্রশ্ন করি–‘মরে নাই এখনো’ বা ‘মরবে কবে’। এক মানুষ আরেক মানুষকে শুধুই গিলে খেতে না চাইলে এমন হয় আর কোন দেশে?
লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

‘আমরা জেনারেশন নাইন ইলাভেন’
ইতিহাসের পাতায় হয়তো ঘটনাটি এক দিনের। কিন্তু এর প্রভাব আমরা বহন করছি বছরের পর বছর ধরে–আমাদের চিন্তায়, প্রবাসে থাকা প্রিয়জনদের অভিজ্ঞতায়, নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতায় আর বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে।

এইটিজের ফ্যাশনে মেতে পরিবেশের কী ক্ষতি করছেন জানেন?
আজ সকালে আমার বন্ধু বলছিল, ফেসবুক খুললেই সবাই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে ৮০’র দশকের মতো করে ছবি দিচ্ছে। জানতে চাইছিল–এসব নিয়ে আমার মতামত কী? আমি বললাম, “আমরা এমন একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবদিক থেকে; যেমন–বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, বাজার মূল্য অনিয়ন্ত্রিত, চাঁদাবাজি, লং মার্চ, ফুটপাত দখল

আজও কেন প্রাসঙ্গিক অরওয়েলের ‘১৯৮৪’
জর্জ অরওয়েলের নাইনটিন এইটি ফোর প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর। তবে বইটিকে কেবল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। অরওয়েলের চিন্তার পেছনে ছিল ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান

মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?
আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ