সোহরাব হাসান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তারা বিদায় নেবেন। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিন মূল লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছিল। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন।
৪ ফেব্রুয়ারি শবে বরাতের ছুটি। নির্বাচনের আর সাত দিন বাকি। কিন্তু সরকারের হাতে সময় আছে মাত্র চার কর্মদিবস। চলতি সপ্তাহে একদিন ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। পরের সপ্তাহে যথাক্রমে রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার।
নির্বাচন উপলক্ষে আগেই দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা যাতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারিতে। অবশ্য শিল্প মালিকদের অভিযোগ, সরকার ছুটি ঘোষণার আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেনি।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের অর্ধেক সময়ই তাদের ছুটির ভোগান্তি পোহাতে হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে বন্দরে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা, বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা দারুণ সমস্যায় আছেন। কিন্তু সরকারের সেসব নিয়ে মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। তারা এক ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন।
সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সময় পাবে মাত্র চার দিন।
দেড় বছর বয়সী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙক্ষা পূরণের লক্ষ্যে নানা কমিশন গঠন করলেও এর সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রচার প্রথম দিকে জোরে শোরে চললেও এখন অনেকেই স্তিমিত। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে। নির্বাচন কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষ নিতে পারবেন না।
সরকার অনেকগুলো কমিশন করলেও দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে খোদ কমিশন প্রধানের অভিযোগ করেছেন। আর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক খাত জোরদার করতে কোনো কমিশনই গঠন করা হয়নি। তবে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে সরকারের।
উল্লেখ্য, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সমালোচকেরা মনে করেন, এই সরকার মুখে সংস্কারের কথা বললেও প্রকৃত সংস্কার থেকে দূরেই থেকেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগের নীতি অনুসরণ করছে।
এদিকে সরকারের উপদেষ্টারা সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা তাদের বসবাসের জন্য সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাগুলো বুঝে নেওয়ার জন্য তারা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েও চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে তিনজন উপদেষ্টা ও চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন।
পত্রিকান্তরের খবর অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। আরও কয়েকজন উপদেষ্টাও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।
অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তার লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের প্রয়োজন বিবেচনায় সময়মতো ভিসা পেতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকে আগেভাগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন।
এটা অনেকটা বিদায়ের সুর বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উপদেষ্টাদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। এর আগে উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা সরকারি দায়িত্ব নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে নিজেদের যুক্ত করেছেন। তারাও নাকি যত দ্রুত সম্ভব আগের জায়গায় ফিরে যেতে চান। অর্থাৎ তারা দেশ ও জনসেবাটাও আর্থিক লাভালাভের বাটখারায় মাপতে পছন্দ করেন।
আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই চুক্তি অনুষ্ঠান হবে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে এর আগে গত আগস্ট মাসে সমঝোতা হয় দুই দেশের; তবে চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন সেই চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। চুক্তিতে কি আছে সে বিষয়ে সরকারের কেউ মুখ খোলেননি। আগস্টেই এই সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে। এটা আনন্দের খবর নিশ্চয়ই। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, আরও কমতে পারে। কিন্তু সেটা কীসের বিনিময়ে? বাংলাদেশকে তার জন্য কী বাড়তি মূল্য দিতে হবে, সেসবও প্রকাশ করা হোক। বিগত সরকার বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সবকিছু গোপন রাখার অভিযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই অভিযোগের বাইরে নয়।
লেখক: সম্পাদক, চরচা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলেছেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তারা বিদায় নেবেন। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিন মূল লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছিল। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন।
৪ ফেব্রুয়ারি শবে বরাতের ছুটি। নির্বাচনের আর সাত দিন বাকি। কিন্তু সরকারের হাতে সময় আছে মাত্র চার কর্মদিবস। চলতি সপ্তাহে একদিন ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। পরের সপ্তাহে যথাক্রমে রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার।
নির্বাচন উপলক্ষে আগেই দুদিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা যাতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারিতে। অবশ্য শিল্প মালিকদের অভিযোগ, সরকার ছুটি ঘোষণার আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেনি।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের অর্ধেক সময়ই তাদের ছুটির ভোগান্তি পোহাতে হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে বন্দরে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা, বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা দারুণ সমস্যায় আছেন। কিন্তু সরকারের সেসব নিয়ে মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না। তারা এক ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন।
সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সময় পাবে মাত্র চার দিন।
দেড় বছর বয়সী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙক্ষা পূরণের লক্ষ্যে নানা কমিশন গঠন করলেও এর সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রচার প্রথম দিকে জোরে শোরে চললেও এখন অনেকেই স্তিমিত। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে। নির্বাচন কমিশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষ নিতে পারবেন না।
সরকার অনেকগুলো কমিশন করলেও দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে খোদ কমিশন প্রধানের অভিযোগ করেছেন। আর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক খাত জোরদার করতে কোনো কমিশনই গঠন করা হয়নি। তবে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে সরকারের।
উল্লেখ্য, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সমালোচকেরা মনে করেন, এই সরকার মুখে সংস্কারের কথা বললেও প্রকৃত সংস্কার থেকে দূরেই থেকেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগের নীতি অনুসরণ করছে।
এদিকে সরকারের উপদেষ্টারা সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা তাদের বসবাসের জন্য সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাগুলো বুঝে নেওয়ার জন্য তারা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েও চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে তিনজন উপদেষ্টা ও চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন।
পত্রিকান্তরের খবর অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। আরও কয়েকজন উপদেষ্টাও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।
অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তার লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের প্রয়োজন বিবেচনায় সময়মতো ভিসা পেতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকে আগেভাগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন।
এটা অনেকটা বিদায়ের সুর বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উপদেষ্টাদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। এর আগে উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা সরকারি দায়িত্ব নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে নিজেদের যুক্ত করেছেন। তারাও নাকি যত দ্রুত সম্ভব আগের জায়গায় ফিরে যেতে চান। অর্থাৎ তারা দেশ ও জনসেবাটাও আর্থিক লাভালাভের বাটখারায় মাপতে পছন্দ করেন।
আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই চুক্তি অনুষ্ঠান হবে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে এর আগে গত আগস্ট মাসে সমঝোতা হয় দুই দেশের; তবে চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন সেই চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। চুক্তিতে কি আছে সে বিষয়ে সরকারের কেউ মুখ খোলেননি। আগস্টেই এই সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে। এটা আনন্দের খবর নিশ্চয়ই। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, আরও কমতে পারে। কিন্তু সেটা কীসের বিনিময়ে? বাংলাদেশকে তার জন্য কী বাড়তি মূল্য দিতে হবে, সেসবও প্রকাশ করা হোক। বিগত সরকার বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সবকিছু গোপন রাখার অভিযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই অভিযোগের বাইরে নয়।
লেখক: সম্পাদক, চরচা।

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট