ads

এই ফ্রান্সকে হারাবে কে?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
এই ফ্রান্সকে হারাবে কে?
এই ফ্রান্সকে কে হারাবে? ছবি: এপি/ইউএনবি

ফ্রান্স তো রীতিমতো অজেয়! এবারের বিশ্বকাপে আসলে ফ্রান্সকে হারাবে কে? যদিও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নদের মূল পরীক্ষা এখনো বাকি, এমবাপ্পে, দেম্বেলেদের ফ্রান্সের ব্যাপারে ‘অজেয়’ শব্দটা ব্যবহার করা কিছুটা আগ বাড়িয়ে বলার মতোই, তবুও এখনো পর্যন্ত যে ফ্রান্সকে আমরা দেখছি, সেই ফ্রান্স প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েই এ পর্যায়ে এসেছে।

যে প্রতিরোধ প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের বিপক্ষে গড়ে তুলেছে, সেটা এক পর্যায়ে ধূলিস্যাৎ হয়ে যেতে সময় লাগেনি। বিশেষ করে মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একবারের জন্যও মনে হয়নি ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো গোল করতে পারে। মরক্কো ম্যাচ তো বটেই পুরো বিশ্বকাপেই ফ্রান্সকে হারানোর মতো কোনো দল যে আছে, সেটা চোখে পড়েনি।

সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন আলোচনাও হচ্ছে, যে বিশ্বকাপের অতীতের শিরোপাধারীরা কি ফ্রান্সকে হারাতে পারবে? ২০০২ সালের রোনালদো, রবার্তো কার্লোস, কাফু, রোনালদিনিওদের ব্রাজিল? কিংবা ২০১০ সালের স্পেন? কেউ কেউ বলছেন ২০১৮ সালের শিরোপাজয়ী ফ্রান্সই একমাত্র এই ফ্রান্সকে হারাতে পারে।

ফ্রান্সের সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের ফলাফলে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল। সেই ম্যাচের বিজয়ী দলই সেমিফাইনালে এমবাপ্পেদের চ্যালেঞ্জ জানাবে।

প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। স্পেন নাকি বেলজিয়াম-ফ্রান্সের সামনে শেষ পর্যন্ত কোন দল দাঁড়ায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা ফুটবলপ্রেমীদের।

২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ‘সেই ইতিহাসের সেরা ম্যাচে’ আর্জেন্টিনার সঙ্গে তীব্র লড়াই করে টাইব্রেকারে হারার পর থেকেই ফ্রান্স ক্ষুধার্ত। এমবাপ্পে তো বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বলেছেন, তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপ জয় ভুলে গেছেন, ২০২২ বিশ্বকাপে হারের পর। তিনি যেকোনো মূল্যে এবারের বিশ্বকাপ জিততে চান তিনি। তিনি বিশ্বকাপ জিততে কতটা মুখিয়ে, সেটার প্রমাণ তো হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোলটি পেয়েছেন এমবাপ্পে। ছবি: এপি/ইউএনবি
এবারের বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোলটি পেয়েছেন এমবাপ্পে। ছবি: এপি/ইউএনবি

লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইটা দারুণ জমে উঠেছে। মরক্কোর বিপক্ষে যদিও পেনাল্টি মিস করেছেন। কিন্তু ৫৯ মিনিটে ঠিকই গোল পেয়েছেন। এ গোলে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ৮। লিওনেল মেসিরও ৮। মেসি মিশরের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের ২১তম গোলটি পেয়েছেন। এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ২০। এ যেন এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ পর্যন্ত কে জিতবে কেউ জানে না।

এখনো পর্যন্ত ফ্রান্সকে অজেয়ই মনে হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
এখনো পর্যন্ত ফ্রান্সকে অজেয়ই মনে হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

কাল মরক্কো ফ্রান্সের বিপক্ষে একটা পর্যায়ে ‘বাসপার্ক’ করেও আক্রমণের তোড়গুলো ঠেকাতে পারেনি। শুরুর দিকে ফ্রান্স পেনাল্টি পেলেও এমবাপ্পে কাজে লাগাতে পারেননি। সম্ভাবত নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে পেনাল্টিটি মেরেছিলেন তিনি। তবে ৫৯ মিনিটে সেই পেনাল্টি মিসের ক্ষতে প্রলেপ দিয়েছেন মোটামুটি একটা ‘হাফচান্স’ গোলে পরিণত করে। এটাই আসলে এমবাপ্পে ও ফ্রান্স। যেকোনো পরিস্থিতিতে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার খেলোয়াড় এই দলটিতে আছে। সে কারণেই ফ্রান্সকে এতটা অজেয় মনে হচ্ছে।তবে সব মিলিয়ে প্রশ্ন, ফ্রান্সকে এই বিশ্বকাপে হারাবে কে!

স্পেন, ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোর আক্রমণভাগ ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ফ্রান্সকে এখন পর্যন্ত তাদের মুখোমুখি হওয়া যেকোনো দলের চেয়ে বেশি চাপে ফেলতে পারে। নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রথম একাদশ এবং সবচেয়ে সমৃদ্ধ বেঞ্চ ফ্রান্সের। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবারই দেখিয়েছে, পুরো একটি সফল অভিযান ভেঙে পড়তে কখনো কখনো কয়েক মিনিটই যথেষ্ট। আপাতত সেই কয়েক মিনিটের ওপর ভরসা করা ছাড়া প্রতিপক্ষ দলগুলোর খুব বেশি কিছু করার নেই।

সম্পর্কিত