Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

হাসপাতালের বেডে শুয়েও সবসময় খোঁজ রেখেছেন আন্দোলনের

রাশেদুর রহমান

রাশেদুর রহমান

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২০: ০৫
হাসপাতালের বেডে শুয়েও সবসময় খোঁজ রেখেছেন আন্দোলনের

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী ও স্বামী শরীফ ইমামকে হারিয়েছিলেন জাহানারা ইমাম। প্রিয়জন হারানোর সেই বেদনা তার ভেতর জ্বেলে দিয়েছিল দ্রোহের আগুন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ঘোষণা করা হলে দেশের জনগণ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। জামায়াতের এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ৭০টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে ১৯৯২ সালের ২১ জানুয়ারি গড়ে ওঠে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। পরে আরও বিস্তৃত কলেবরে ১১ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি।

সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম। তার নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। ক্যানসারে আক্রান্ত এবং শারীরিক অবস্থা ভঙ্গুর হওয়া সত্ত্বেও স্বদেশের জন্মশত্রু, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে তিনি গড়ে তোলেন দুর্বার আন্দোলন।

জর্জ হ্যারিসনের ‘বাংলাদেশ’, যে গানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানতে পারে বিশ্বজর্জ হ্যারিসন

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্নের প্রধান কারিগর ছিলেন জাহানারা ইমাম। যখন তিনি আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তখন সমস্ত পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূলে। সেই অবস্থার মধ্যেই তার দৃঢ়তায় ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গোলাম আযমের ঐতিহাসিক প্রতীকী বিচার অনুষ্ঠিত হয়। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হলো ১০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১২ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করলেন। গণআদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানালেন সরকারের কাছে। পরে জাহানারা ইমামসহ ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে করা হয়েছিল অ-জামিনযোগ্য মামলা। ১৯৯৩ সালের ২৮ মার্চ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশের পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন জাহানারা ইমাম। তাকে ভর্তি হতে হয়েছিল তৎকালীন পিজি, বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। কিন্তু তিনি জীবনের পরোয়া করেননি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী ও স্বামী শরীফ ইমামকে হারান। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে তার এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ি ‘কণিকা’ হয়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পরম আশ্রয়স্থল।

গণআদালতের রায় কার্যকর করার দাবিতে স্মারকলিপি নিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর কাছে। তারই অক্লান্ত চেষ্টায় ১০০ জন সংসদ সদস্য গণআদালতের রায়ের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেছিলেন।

আজ জাহানারা ইমামের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে ১৯২৯ সালের ৩ মে তার জন্ম।

জাহানারা ইমামের সমাধি। ছবি: ডিএমপি
জাহানারা ইমামের সমাধি। ছবি: ডিএমপি

১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে বাংলায় এমএ পাস করেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এরপর ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে তিনি আমেরিকা থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ১৯৬৬ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৬৮ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী ও স্বামী শরীফ ইমামকে হারান। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে তার এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ি ‘কণিকা’ হয়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পরম আশ্রয়স্থল। শরীফ ইমাম ও তার বন্ধু সাজেদুর রহমান খান টাকা সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের পাঠাতেন। জুন মাসের শেষের দিকে ২ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের লেখা একটি চিঠি নিয়ে জাহানারা ইমামদের বাড়িতে এসেছিলেন ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা শাহাদাত চৌধুরী ও হাবিবুল আলম।

‘একাত্তরের দিনগুলি’ তার এক অনন্য সৃষ্টি এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দলিল। তার এই বইয়ের লেখার সূচনা হয়েছিল ১ মার্চে। এদিনই পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদ অধিবেশনের স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বিভিন্ন দিনের ঘটনা দিনলিপি আকারে নানা কাগজ ও চিরকুটে গোপন সংকেতে লিখে রেখেছিলেন। এই দিনলিপি ১৯৮৬ সালে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ ও প্রাসঙ্গিক আলোচনাphoto-3

মুক্তিযুদ্ধে ছেলে রুমীর আত্মত্যাগ এবং নিজের অবদানের কারণে তিনি আখ্যায়িত হয়েছিলেন ‘শহীদ জননী’ হিসেবে।

জাহানারা ইমামের লিখিত অন্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে–‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতরে আগুন’, ‘নাটকের অবসান’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’ ও ‘প্রবাসের দিনলিপি’।

জাহানারা ইমাম ১৯৯৪ সালে অসুস্থ অবস্থায় আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৬ জুন সেখানেই মারা যান। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়েও নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন আন্দোলনের। মৃত্যুর আগে লিখে গিয়েছিলেন, “মরণব্যাধি ক্যান্সার আমাকে শেষ মরণ কামড় দিয়েছে। আমি আমার অঙ্গীকার রেখেছি। রাজপথ ছেড়ে যাইনি। মৃত্যুর পথে বাধা দেবার ক্ষমতা কারো নেই। তাই আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনারা আপনাদের অঙ্গীকার ও ওয়াদা পূরণ করবেন। আন্দোলনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে থাকবেন। আমি না থাকলেও আপনারা, আমার সন্তান-সন্ততিরা আপনাদের উত্তরসূরিরা সোনার বাংলায় থাকবে।”

৯৭তম জন্মদিবসে জাতির আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক: পরামর্শক সম্পাদক, চরচা

বিষয়: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১মুক্তিযোদ্ধামুক্তিযুদ্ধরাজাকারস্বাধীনতা
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া