চরচা ডেস্ক

অনেকেই আলো নিভতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কেউ দীর্ঘ সময় ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোনো এক অজানা চিন্তায় ডুব দেন, তারপর ঘুম আসে।
দুই অবস্থাই আপনার ঘুমের মান নিয়ে ইঙ্গিত দিতে পারে। বিষয়টি আসলে ‘স্লিপ ল্যাটেন্সি’ বা ঘুম আসতে যে সময় লাগে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মিশেল ড্রেরাপ বলেছেন, পুরো জাগ্রত অবস্থা থেকে ঘুমিয়ে যেতে কতক্ষণ সময় লাগছে- সেটি ঘুমের মানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ঘুমাতে কত সময় লাগা স্বাভাবিক?
বেশিরভাগ মানুষের ঘুমাতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। তবে ডা. মিশেল বলেন, এটি কেবল গড় হিসাব, সবার ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, এই সময়সীমার বাইরে গেলে অর্থাৎ খুব দ্রুত বা খুব দেরিতে ঘুম এলে তার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি। এটি আপনার ঘুমের মান ও রুটিন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার মানে কী?
মাথা বালিশে রাখামাত্র ঘুমিয়ে পড়া অনেক সময় ঘুমের ঘাটতি বা দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত না ঘুমানোর লক্ষণ হতে পারে। শরীর হয়তো জানাচ্ছে, আপনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন না।
ডা. মিশেল জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর কম ঘুম হলে দিনে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

যেভাবে বুঝবেন আপনার ঘুমে ঘাটতি হচ্ছে
ডা. মিশেল ড্রেরাপ কিছু লক্ষণের কথা বলেছেন যা থেকে বোঝা যায় কোনো ব্যক্তির ঘুমে ঘাটতি হচ্ছে কি না। এরমধ্যে রয়েছে, দিনের বেলা অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মনোযোগের ঘাটতি, ভুল বেশি হওয়া, মেজাজের ওঠানামা, অতিরিক্ত কফি বা এনার্জি ড্রিংকের ওপর নির্ভরশীলতা, ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ।
ঘুমাতে বেশি সময় লাগে কেন?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এই বিশেষজ্ঞের মতে, আলো নেভানোর পর নিয়মিত আধা ঘণ্টা বা তার বেশি সময় জেগে থাকলে তা অনিদ্রার (ইনসমনিয়া) লক্ষণ হতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হয় এবং দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ইত্যাদি দেখা দেয়।
ড. ড্রেরাপ বলেন, “খাবার ও পানির মতোই শরীরের জন্য ঘুম জরুরি। তবে কম বা বেশি-দুইই সমস্যার কারণ হতে পারে।”
সপ্তাহে অন্তত তিন রাত, টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে এমন সমস্যা হলে এবং তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেললে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য কিছু টিপস
ডা. মিশেলের পরামর্শ, নিয়মিত বিছানায় শুয়েও ঘুম না এলে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন সহায়ক হতে পারে। এরমধ্যে রয়েছে- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগা, ঘুমের আগে ধীরস্থির হওয়া (যেমন বই পড়া বা ধ্যান), শোবার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, শোবার ঘর অন্ধকার, নীরব ও ঠান্ডা রাখা, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন, নিকোটিন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
ঘুমাতে সময় বেশি লাগা বা খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া-দুটিই শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজন সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। তাই নিয়মিত যদি এমন হয়, ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্ত অনুভূত, তাহলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন ডা. মিশেল ড্রেরাপ।
তার পরামর্শ, “ঘুমকে এক ধরনের বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন। এটি দৈনন্দিন জীবন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়।”

অনেকেই আলো নিভতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কেউ দীর্ঘ সময় ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোনো এক অজানা চিন্তায় ডুব দেন, তারপর ঘুম আসে।
দুই অবস্থাই আপনার ঘুমের মান নিয়ে ইঙ্গিত দিতে পারে। বিষয়টি আসলে ‘স্লিপ ল্যাটেন্সি’ বা ঘুম আসতে যে সময় লাগে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মিশেল ড্রেরাপ বলেছেন, পুরো জাগ্রত অবস্থা থেকে ঘুমিয়ে যেতে কতক্ষণ সময় লাগছে- সেটি ঘুমের মানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ঘুমাতে কত সময় লাগা স্বাভাবিক?
বেশিরভাগ মানুষের ঘুমাতে ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। তবে ডা. মিশেল বলেন, এটি কেবল গড় হিসাব, সবার ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, এই সময়সীমার বাইরে গেলে অর্থাৎ খুব দ্রুত বা খুব দেরিতে ঘুম এলে তার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি। এটি আপনার ঘুমের মান ও রুটিন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার মানে কী?
মাথা বালিশে রাখামাত্র ঘুমিয়ে পড়া অনেক সময় ঘুমের ঘাটতি বা দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত না ঘুমানোর লক্ষণ হতে পারে। শরীর হয়তো জানাচ্ছে, আপনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন না।
ডা. মিশেল জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর কম ঘুম হলে দিনে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

যেভাবে বুঝবেন আপনার ঘুমে ঘাটতি হচ্ছে
ডা. মিশেল ড্রেরাপ কিছু লক্ষণের কথা বলেছেন যা থেকে বোঝা যায় কোনো ব্যক্তির ঘুমে ঘাটতি হচ্ছে কি না। এরমধ্যে রয়েছে, দিনের বেলা অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মনোযোগের ঘাটতি, ভুল বেশি হওয়া, মেজাজের ওঠানামা, অতিরিক্ত কফি বা এনার্জি ড্রিংকের ওপর নির্ভরশীলতা, ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ।
ঘুমাতে বেশি সময় লাগে কেন?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এই বিশেষজ্ঞের মতে, আলো নেভানোর পর নিয়মিত আধা ঘণ্টা বা তার বেশি সময় জেগে থাকলে তা অনিদ্রার (ইনসমনিয়া) লক্ষণ হতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হয় এবং দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ইত্যাদি দেখা দেয়।
ড. ড্রেরাপ বলেন, “খাবার ও পানির মতোই শরীরের জন্য ঘুম জরুরি। তবে কম বা বেশি-দুইই সমস্যার কারণ হতে পারে।”
সপ্তাহে অন্তত তিন রাত, টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে এমন সমস্যা হলে এবং তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেললে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার জন্য কিছু টিপস
ডা. মিশেলের পরামর্শ, নিয়মিত বিছানায় শুয়েও ঘুম না এলে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন সহায়ক হতে পারে। এরমধ্যে রয়েছে- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগা, ঘুমের আগে ধীরস্থির হওয়া (যেমন বই পড়া বা ধ্যান), শোবার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, শোবার ঘর অন্ধকার, নীরব ও ঠান্ডা রাখা, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন, নিকোটিন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
ঘুমাতে সময় বেশি লাগা বা খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া-দুটিই শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজন সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। তাই নিয়মিত যদি এমন হয়, ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্ত অনুভূত, তাহলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন ডা. মিশেল ড্রেরাপ।
তার পরামর্শ, “ঘুমকে এক ধরনের বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন। এটি দৈনন্দিন জীবন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়।”