ইরানে ফের বিক্ষোভ, এবার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরানে ফের বিক্ষোভ, এবার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা
ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির প্রাণঘাতী বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে কোনো মিছিল হলো।

স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব বিক্ষোভ পালন করতে দেখে গেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

শনিবারের এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন আমেরিকার সঙ্গে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

ইরানের কাছাকাছি সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে আমেরিকা। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে তিনি সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন।

আমেরিকা ও ইউরোপীয় মিত্রদের সন্দেহ ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আমেরিকা ও ইরানের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করেছেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তারা। অগ্রগতির কথা বলা হলেও ট্রাম্প পরবর্তীতে বলেন যে, আগামী ‘সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে’ বিশ্ব জানতে পারবে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে নাকি আমেরিকা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এর আগে বিক্ষোভকারীদের ‘সাহায্য আসছে’ বলে সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বিবিসির যাচাই করা ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার নতুন সেমিস্টার শুরুর দিনে শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শত শত বিক্ষোভকারীরা হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছেন।

এসময় তারা ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ (যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্দেশ্য করে বলা) এবং অন্যান্য সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। ভিডিওতে কাছেই একটি সরকারপন্থী সমাবেশও দেখা যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। রাজধানীর শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়েও শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘটের যাচাই করা ছবিও সামনে এসেছে।

বিবিসি তেহরানের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়, আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ফুটেজও যাচাই করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা ‘ফ্রিডম, ফ্রিডম’ এবং ‘ছাত্ররা, নিজেদের অধিকারের জন্য গর্জে ওঠো’ বলে স্লোগান দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

অন্যান্য স্থানেও বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে এবং রোববার আরও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

গত মাসের বিক্ষোভ অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শুরু হলেও দ্রুত তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বৃহত্তম বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ গত মাসের শেষের দিকে জানিয়েছিল যে, বিক্ষোভে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তাদের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা ‘দাঙ্গাকারীদের’ হামলায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষ।

সম্পর্কিত