নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। হামলায় ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের’ (পিএমএফ) আট সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও চারজন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার বলেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে ইরাকে নির্দিষ্ট কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে চালানো ড্রোন হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চায় না সৌদি। তবে ভবিষ্যতে এমন হামলা হলে দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়।
হামলার পর ইরানের নিনেভেহ প্রদেশ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি বাসরা প্রদেশেও ধোঁয়া দেখা গেছে।
সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ফায়ার ফাইটাররা বাসররা হামলাস্থলে উদ্ধার অভিযানে যাচ্ছেন।
এদিকে বুধবার সকালে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নির্দেশনায় ইরাকি গোষ্ঠী সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাব হিসেবে তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির যুদ্ধবিমান পূর্ব ইরাকের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত ৭২ ঘণ্টায় বিপ্লবী গার্ডের নির্দেশনায় চালানো ৩০টি ড্রোন হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সেন্টকম আরও বলেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইরান সংশ্লিষ্ট ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর ছয় শতাধিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যদি ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে, নাহলে আবারও এমন হামলার মুখে পড়তে পারে।