দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি হ্রাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে অধিকাংশ শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি মিলবে। খবর বাসসের।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়ার তথ্য রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। খবর বাসসের।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৬ মাসের কর ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন (৬ মাস) পর্যন্ত আমদানি করা যন্ত্রাংশে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূসক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। এর ফলে দ্রুততম সময়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে শিল্প উৎপাদন বজায় থাকবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি হ্রাস পেয়ে বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে হংকংয়ের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উভয় পক্ষের বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যাগ্রিমেন্ট' শীর্ষক চুক্তি সইয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয়পক্ষ তা সংশোধনের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ষষ্ঠ বৃহত্তম উৎস হংকং। এই চুক্তি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ অন্যান্য খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।