ads

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরামনিকে গলা কেটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরামনিকে গলা কেটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু ইরামনিকে শ্বাসনালী কেটে হত্যার ঘটনায় বাবু শেখ নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই রায় ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মাথায় রায় ঘোষিত হলো। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাবু শেখকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আ ন ম কামরুল হাসনাত চৌধুরী জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় বাবু শেখকে যাবজ্জীবন এবং ৯ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলায় বাড়ি হলেও সীতাকুণ্ডের কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকায় ইরামনিদের প্রতিবেশী ছিলেন বাবু শেখ। গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে ইরামনিকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনে যান তিনি। ওই দিন দুপুরে পাহাড়ের সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় ইরামনিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর সে মারা যায়।

এই ঘটনার পর পুলিশ কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বাবু শেখ। বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয়ে শিশুটি চিৎকার করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে তার গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ইরামনির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ বৃহস্পতিবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

সম্পর্কিত