বহুল প্রতীক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বহুল প্রতীক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর আজ একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন দেশের মানুষ। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দিয়ে মত জানাবেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসীর উদ্দিন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠেয় এই ভোট নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে।

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এবার গণভোটও হচ্ছে। এই দুই ভোটে আগামী পাঁচ বছর কারা দেশ পরিচালনা করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত ব্যবস্থাগুলোর সংস্কারের বিষয়ে জনসমর্থন চাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে এটি হতে পারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের সূচনা।

এরই মধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোট কেন্দ্রে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সারাদেশে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দিক দিয়েও এবারের নির্বাচন শীর্ষে।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন। আচরণবিধি বজায় রাখতে দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

এবারে নির্বাচনে নির্বাচনে (২৯৯ আসনে) মোট ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২২ জন ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ছয় কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ৭৭ জন পুরুষ, ৬ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার ২৩২ জন নারী এবং এক হাজার ২১৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ৩০০ আসনে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ভোটে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ৩০ বছর পর দলটি এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেই। এবার মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে।

নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে এক হাজার ৭৫৫ জন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে নারী আছে ৪ শতাংশেরও কম; জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের কোনো নারী প্রার্থীই নেই।

সম্পর্কিত