লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাতে হেনেছে। এতে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার মতে, চলতি শতাব্দীতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার কালি, পেরেইরা, কিবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে, চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত বিভিন্ন ভবনের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে উদ্ধারকারী দল। দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চোকো এলাকা। চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা কুরি নিশ্চিত করেছেন, আঞ্চলিক রাজধানী কুইবদোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একাধিক ভবনের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে। এ সময় তিনি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ভূমিকম্পে ১১১ জনের মৃত্যুর কথা জানান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশটির রাজধানী বোগোটাতেও কম্পনটি অত্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয়। জরুরি সতর্কবার্তা বাজানোর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহুতল ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত রাস্তায় বের করে আনা হয়।