আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার ও সমতার অগ্রগতির একটি সম্মিলিত সংগ্রামের দিন। নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অর্জনকে উদযাপনের পাশাপাশি এই দিনটি সমতা নিশ্চিত করার লড়াইকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানায়।
প্রতি বছর ৮ মার্চ এই দিনটি পালন করা হয়। শুরুতে এটি আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস নামে পরিচিত ছিল। শ্রমজীবী নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকেই এই দিবসের উৎপত্তি।
১৯০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে প্রথম নারী দিবস পালিত হয়। এর আগে ২০ হাজার পোশাক শ্রমিকের - যাদের বেশির ভাগই ছিলেন তরুণ অভিবাসী নারী, তারা একটি বিশাল ধর্মঘট- ‘আপরাইজিং অব ২০,০০০’ সংগঠিত করেছিলেন। সেই সময় নারী ইউনিয়ন নেত্রী লেনোরা ও'রিলি সহ বিশিষ্ট ভোটাধিকার কর্মীদের বক্তব্য শুনতে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হন। বক্তারা কর্মজীবী নারীদের যৌন, শিল্প ও রাজনৈতিক শোষণ এবং পুরুষদের সমান মজুরির দাবির কথা তুলে ধরেন।
নিউইয়র্কের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব ওয়ার্কিং উইমেন’–এ জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিন প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব করেন। ১৭টি দেশের ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক দল এবং কর্মজীবী নারী ক্লাবের ১০০ জন প্রতিনিধি সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ৮ মার্চ দিনটি চূড়ান্ত করা হয়।
কিন্তু শুরুর দিকে নারী দিবস নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে দেখা যায়, যেমন—নারী দিবস আসলে কী? এটি কি আসলেই প্রয়োজনীয়? এটি কি শুধুই বুর্জোয়া শ্রেণির নারী, নারীবাদী বা ভোটাধিকার কর্মীদের জন্য কোনো দিবস?
এসব প্রশ্নের জ়বাবে এবং নারী দিবসের গুরুত্ব ব্যখ্যা করে বিশিষ্ট নারীবাদী লেখক আলেকজান্দ্রা কোলনতাই ১৯১৩ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে প্রকাশিত তৎকালীন প্রভাবশালী সংবাদপত্র প্রাভদাতে লিখেছিলেন-
“নারী দিবস হলো নারী প্রলেতারিয়েত আন্দোলনের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। আজ থেকে ২০ বছর আগে ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে নারী শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। কিন্তু বর্তমানে চিত্রটা ভিন্ন। জীবনযাত্রার ব্যয়, মাতৃত্বকালীন বিমা, শিশুশ্রম এবং নারী শ্রম রক্ষায় আইন প্রণয়নের প্রশ্নে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকে এই বিশাল শক্তির কথা মাথায় রেখেই হিসাব কষতে হয়।”
আর তাই শ্রম আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমতা ও অন্তর্ভুক্তির লড়াইয়ে নারীদের ঐতিহাসিক ও বর্তমান ভূমিকাকে বিশেষ সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয় এই দিন।