সরকারের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের কারণে গণভোট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে: টিআইবি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সরকারের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের কারণে গণভোট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে: টিআইবি
টিআইবি সংবাদ সম্মেলনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের অবস্থান ঘোষণা করে। ছবি: টিআইবি

নির্বাচনে অর্থ, ধর্ম, পেশী, পুরুষতান্ত্রিক ও সংখ্যাগরিষ্ঠতন্ত্র শক্তির পুরাতন ধারা অব্যাহত থাকাসহ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের ফলে গণভোট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার টিআইবির ধানমন্ডির কার্যালয়ে ‘‘প্রাক-নির্বাচন এবং গণভোট পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেছেন।

সার্বিক নির্বাচনি পরিস্থিতি সম্পর্কে টিআইবির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার খরচ নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করেছে। প্রচারণায় ধর্মীয় বিষয়বস্তুর অপব্যবহার জোরালোভাবে দৃশ্যমান, যা বাংলাদেশের মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সার্বিকভাবে নারীর সমান অধিকারের ধারণা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ভিন্ন ধর্মীয়, জাতিগত, লৈঙ্গিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিচয়ে পরিচিত বা প্রতিবন্ধকতার শিকার ভোটারদের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করে তাদের ভোটে অংশগ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ ঝুঁকিগ্রস্ত হয়েছে।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “অনলাইন ও অফলাইন প্রচরণাসহ নির্বাচনের প্রায় প্রতিটি স্তরে দল এবং প্রার্থীরা আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘনসহ বিবিধ অনিয়ম করলেও নির্বাচন কমিশন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে এড়িয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমন মেটা বা গুগল এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রার্থীরা প্রচারণা চালালেও সেই বিতর্কিত কন্টেন্টসমূহ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না, কারণ এখানে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত।”

টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মী ও প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তা ছাড়া, নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনার কারণে কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ১৪ হাজার গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য কিছু সময়ের জন্য ফাঁস যা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ প্রদানের অভিযোগ তুলেছে টিআইবি।

গণভোটের বিষয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলসমূহের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে গণভোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের দোদুল্যমানতা এবং উভয়পক্ষের সন্তুষ্টি প্রত্যাশী অধ্যাদেশ প্রণয়ন শুরুতেই গণভোটের বিষয় ও প্রশ্ন নিয়ে ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সার্বিকভাবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঐতিহাসিক গণভোট আয়োজনে নিজেদের প্রত্যাশিত ভূমিকা সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানায় টিআইবি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ ও বিভিন্ন বৈচিত্র্য নির্বিশেষে সকল মানুষের সমঅধিকারের প্রত্যয় টিআইবির দীর্ঘকালের গবেষণা ও অধিপরামর্শ-প্রসূত প্রত্যাশার প্রতিফলিত হওয়ায় সংস্থাটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের অবস্থান ঘোষণা করে।

সম্পর্কিত