Advertisement Banner

‘বিশ্বকাপ ট্রমা’ কাটিয়ে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘বিশ্বকাপ ট্রমা’ কাটিয়ে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের
দুর্দান্ত জয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। ছবি: বিসিবি

ইনিংসের ১১তম ওভার, ইশ সোধির বলটা সেভাবে টার্ন করেনি। স্লটে থাকা সেই ডেলিভারিতে ওয়ানডে সিরিজে হয়তো লেগে ঠেলে সিঙ্গেলই নিতেন তাওহীদ হৃদয়। তবে টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ দল যেমন অন্য দুই ফরম্যাটের চেয়ে আলাদা, তেমনই হৃদয়ের ব্যাটিংটাও। স্লগ-সুইপে মারলেন ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে এটাই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের প্রতিচ্ছবি। ফলে দুই ওভার হাতে রেখেই মিলেছে উজ্জীবিত এক জয়।

১৮৩ রান তাড়ায় বাংলাদেশ দল কেমন মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করে, সেটা ছিল দেখার বিষয়। কারণ, গত এক বছরে এই ফরম্যাটে সেরা ক্রিকেটই খেলেছিল লিটন দাসের দল। তবে সব প্রস্তুতি মাটি করে বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ। ফলে এই ফরম্যাটে একটা লম্বা বিরতির পাশাপাশি ছিল বিশ্বকাপ না খেলার ‘ট্রমা’। তবে প্রথম ম্যাচে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

রানের খাতা খোলার আগে জীবন পাওয়া তানজিদ হাসান ক্রিজে ছিলেন ১১তম ওভার পর্যন্ত। তবে স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিংয়ে গোটা ইনিংসেই ছিলেন আড়ষ্ট। ধুঁকতে ধুঁকতে ১ বাউন্ডারিতে ২১ রান করতেই খেলে ফেলেন ২৫ বল। আরেক ওপেনার সাইফ হাসান ১০৬ স্ট্রাইক রেটে করেন মাত্র ১৬ রান।

এই দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পরও বাংলাদেশ ম্যাচে খুব একটা পিছিয়ে যায়নি মূলত লিটনের কল্যাণে। ২১ রানের ইনিংসটি বড় না করতে পারলেও কাজের কাজটা করে দেন। আর অন্যপ্রান্তে হৃদয় শুরু থেকেই ছিলেন ইতিবাচক। তাকে নিয়ে জয়ের পথ সুগম করেন চোট কাটিয়ে দলে ফেরা পারভেজ হোসেন ইমন।

চতুর্থ উইকেটে মাত্র ২৮ বলে এই জুটিতে যোগ হয় ৫৭ রান। জশ ক্লার্কসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ইমন ২০০ স্ট্রাইক রেটে খেলেন ২৮ রানের ইনিংস, যা পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দেয়।

ছয়ে নেমে ফিনিশিং টাচ দেন শামীম হোসেন। বাংলাদেশের সহজ জয়ে অবদান রেখে তার ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। ইনিংসে ছিল ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কার মার। আর হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে।

ব্যাটিংয়ের মতো বাংলাদেশের বোলিংটা অবশ্য এই ম্যাচে ছন্দময় ছিল না। অভিষিক্ত পেসার রিপন মণ্ডল পারেননি উপলক্ষটা রাঙাতে। অন্য দুই পেসারও ছিলেন খরুচে।

দুই স্পিনার রিশাদ হোসেন ও শেখ মাহেদি হাসান তাই হিসেবি বোলিং করলেও ৬ উইকেটে ১৮২ রানের বড় স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে পরে বাংলাদেশ প্রমাণ করে দেয়, এই রানটাও যথেষ্ট নয়।

এমন জয়ের পর আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই নামবে বাংলাদেশ। সেদিনই কি নিশ্চিত হবে সিরিজ জয়ও?

সম্পর্কিত