আমিনুল: জাতীয় ফুটবল দলের গোলবার থেকে মন্ত্রিসভায়

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
আমিনুল: জাতীয় ফুটবল দলের গোলবার থেকে মন্ত্রিসভায়
আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হয় আমিনুল হককে। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারের দুই শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন শিরোপা। জাতীয় ফুটবল দলের গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী আমিনুলই এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বময় কর্তা। বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে টেকনোক্রেট কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় দেশের ফুটবলে আবির্ভাব আমিনুল হকের। খেলেছেন মোহামেডান, আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধায়। জাতীয় দলে ছিলেন অবিসংবাদিত সেরা পছন্দ। দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরা বিএনপিও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নীতি–নির্ধারণে বেছে নিয়েছে তাকেই।

মন্ত্রিত্বটা অবশ্য হঠাৎ করেই পাননি আমিনুল। কিংবা ফুটবলার হিসেবে তার সুনাম বা তারকাখ্যাতিই সাবেক এই গোলরক্ষককে মন্ত্রিত্ব পাইয়ে দেয়নি। এর পেছনে আছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ২০১৩ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল। শোনা যায়, ওই সময় নাকি সরকারি দল থেকে তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল দলে যোগ দেওয়ার। কিন্তু আমিনুল বেছে নিয়েছিলেন বিরোধী দলীয় রাজনীতি। বিএনপির খারাপ সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন রাজপথের সৈনিক। মিরপুর–পল্লবী এলাকায় দলের রাজনীতি টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করে গেছেন তিনি গত দুই যুগ ধরে। জেল, জুলুম, রিমান্ড, নির্যাতন–কী হয়নি আমিনুলের ওপর। এত কিছুর পরও তিনি মনোবল ধরে রেখে সংগ্রাম করে গেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত
২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

এবারের নির্বাচনে ঢাকা–১৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন আমিনুল হক, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। গণনার সময় দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরে যান তিন হাজারের মতো ভোটের ব্যবধানে। বিএনপির রাজনীতিতে আমিনুলের যে ত্যাগ, জিততে না পারাটা তার সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কাই। আমিনুলের জন্যও অপ্রত্যাশিত। নির্বাচনে ঢাকার সংসদীয় আসন থেকে আগে যে কজন বিএনপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, আমিনুল হক তাদের একজন। নির্বাচনে হারের হতাশার মধ্যেই বড় সুসংবাদ পেলেন আমিনুল। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব পেলেন একজন ক্রীড়াবিদ, এটা দারুণ এক ব্যাপারই।

ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতিতে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা হাফিজউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য। ২০০১ সালে তিনি বিএনপি সরকারের আমলে প্রথমে পানিসম্পদ ও পরে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় ফুটবল দলে আমিনুলেরই সতীর্থ আরিফ খান জয় ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান সংসদ সদস্য হয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে সংসদে যাওয়ার সর্বশেষ উদাহরণ মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য হয়েছেন সাবেক ফুটবল তারকা সালাম মুর্শেদী।

আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত
আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

তবে আমিনুল নিজেকে আলাদা করে ফেলেছেন সবার থেকেই। তার মন্ত্রিত্ব হতে যাচ্ছে দীর্ঘ সংগ্রাম আর ত্যাগের পুরস্কার। যে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি এতদিন স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব এখন তার কাঁধে।

আমিনুল কতটা সফল হবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।

সম্পর্কিত