ads

জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা, ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল কোথায়

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনা, ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল কোথায়
ছবি: ইউএনবি।

খুলনায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় গত ৫১ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৪ মিলিমিটার। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, এ সময় স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিপাত হয়। সারা দেশের মতো খুলনায়ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে সাতটি খাল খনন ও দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ-সংস্কার করা হলেও মিলছে না সমাধান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নগরীর সামগ্রিক জলপ্রবাহ, খালের ধারণক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যাপ্ত গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে অনেক স্থানে বড় প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

মুজগুন্নি এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এই মোড়টিতে হাঁটুজল জমে। জলাবদ্ধতায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত দুদিনের বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটুজল জমেছে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কেসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পাবলা কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হামিম জানান, একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যতবার বৃষ্টি হচ্ছে, ততবারই আমাদের বাড়ির নিচতলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আগেও বৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়তাম, কিন্তু এক দিনে পানি সরে যেত; এখন বিপদ হয়েছে অন্য রকম, আমাদের এলাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র অনুসারে, খুলনায় মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। খুলনা সিটি করপোরেশনের ‘খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রকল্পের পরিচালক কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাসার্ধের ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬৯টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ঢাকনাযুক্ত ড্রেন।’’

কেসিসির প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আমরা আপাতত এই কাজ বন্ধ রেখেছি। কারণ ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।’’

সম্পর্কিত