২ বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না, যেকোনো সময় প্রবেশাধিকার

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
২ বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না, যেকোনো সময় প্রবেশাধিকার
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের লোগো। ছবি: বাসস

দুই বছর পূর্ণ না হলে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না এবং ভাড়াটিয়াদের যেকোনো সময় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১’-এর আলোকে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় এসব তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশিকায় বলা হয়, বাড়িওয়ালা অবশ্যই বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবেন এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি–এই ইউটিলিটি সেবাগুলো যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে ভাড়াটিয়া জানালে বাড়িওয়ালা দ্রুত সমাধান করবেন। বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা খোলা স্থানে সবুজায়ন করতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়ই উৎসাহিত হবেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনা বাড়ায় ভাড়াটিয়ার নিরাপত্তার জন্য ছাদ ও মূল গেটের চাবি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাড়া অবশ্যই মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতিবার রশিদ দিতে ও নিতে হবে–এ নিয়ম কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে।

ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময় বাড়িতে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে আগে ভাড়াটিয়াকে জানাতে হবে।

দুই বছর পূর্ণ না হলে ভাড়া বাড়ানো যাবে না, এবং ভাড়া বৃদ্ধি করতে হলে জুন–জুলাই সময়সীমা মেনে চলতে হবে। এছাড়া, বাড়ি ভাড়ার পরিমাণ বাজার মূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হবে। সমাধান না হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে। একইভাবে, ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে চাইলে উভয় পক্ষই দুই মাসের নোটিশ দেবে।

এ ছাড়া, ১–৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না–এ নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে।

ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। যে কোনো বিবাদ আগে ওয়ার্ড বা জোন পর্যায়ে সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে; প্রয়োজন হলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানো যাবে।

নির্দেশিকায় যা রয়েছে:

  • বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।
  • বাড়িতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য সব সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে জানাবেন এবং বাড়িওয়ালা শিগগিরই সেই সমস্যা সমাধান করবেন।
  • বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক্‌ অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।
  • সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।
  • ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রসিদ দিতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ নেবেন।
  • বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত নেবেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন-জুলাই।
  • দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত/দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।
  • নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন। ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
  • আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
  • মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।
  • বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
  • বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।
  • সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিসে থাকবেন।
  • যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
  • ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করা।

সম্পর্কিত