কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এক অর্থবছরের হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৩ টিইইউস কনটেইনার পরিবহন করেছে বন্দরটি। পাশাপাশি বেড়েছে কার্গো হ্যান্ডলিং এবং বন্দরে আসা জাহাজের সংখ্যাও।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নব নির্মিত ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রতিটি সূচকে অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করতে পেরেছি। আগের অর্থ বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এটা যুগান্তকারী অর্জন।”
নতুন এই ‘বেঞ্চমার্ক’ পরবর্তীতে এর উপরে আরও দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনের ভিত্তি হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “মাঝে কিছু ব্যত্যয় ঘটলেও এই গ্রোথ আমরা অর্জন করেছি। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের আউটার অ্যাঙ্করেজে (বহির্নোঙরে) আর জাহাজের ওয়েটিং টাইম (অপেক্ষার সময়) নেই। জিরো ওয়েটিং টাইমটা আমরা মেনটেইন করছি।”
চট্টগ্রাম বন্দরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৩ টিইইউস কনটেইনার ওঠা-নামা বা হ্যান্ডলিং করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউস। সেই হিসেবে এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১ টিইইউস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের হিসেবে), এক বছরে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বিদায়ী অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন, এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এবারে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৪ হাজার ৩৩৬টি।আগের অর্থ বছরের তুলনায় ২৫৯টি বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে জাহাজ এসেছিল ৪ হাজার ৭৭টি।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানের সময়ও কমেছে। বন্দরের হিসাবে, এসময় কনটেইনার জাহাজের গড় অবস্থানকাল ছিল ২ দশমিক ৩৮ দিন। আগের অর্থ বছরে তা ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন। পাশাপাশি রাজস্ব আয় এবং রাজস্ব উদ্ধৃত্তও গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের তুলনায় বেড়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে বন্দর। আগের অর্থ বছরে যা ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সদ্য বিদায়ী অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ও কমেছে।
এবার রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ২৭৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আগের অর্থ বছরে যা ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ সালে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের অর্থ বছরে রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সূচকে নতুন রেকর্ডের বিষয়ে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন চরচাকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ধারাবাহিক উন্নয়নের পেছনে আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ উন্নত যন্ত্রপাতির সংযোজন, ডিজিটাল কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এছাড়া ২৪ ঘন্টা র্কাযক্রম সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও পেশাদারিত্ব বিশেষভাবে প্রশংসা করেন তিনি।