চরচা ডেস্ক

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লা পেন আগামী সপ্তাহে প্যারিসের একটি আপিল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই রায় নির্ধারণ করবে তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিল অপব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
‘ভুয়া চাকরি’ কেলেঙ্কারি কী?
মেরিন লা পেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের সহকারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ করা তহবিল ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধ করেছেন।
২০১৩ সালে ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্ট প্রকাশ করে যে, সে সময় ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এফএন) নামে পরিচিত লা পেনের দলের দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল ‘ভুয়া চাকরির’ একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা সহকারীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের জন্য তহবিল পান। তবে সেই অর্থ দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার অনুমতি নেই।
সাত বছর তদন্তের পর ২০২৩ সালে লা পেন ও তার দলের দুই ডজনের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইইউর অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বিচার শুরু হয়। তবে লে পেন ও তার দল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২৫ সালে আদালতের রায় কী ছিল?
২০২৫ সালের মার্চে প্যারিসের একটি আদালত রায় দেয় যে, ৪০ লাখ ইউরোরও বেশি (প্রায় ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ইউএস ডলার) ইইউ তহবিল আত্মসাতের পরিকল্পনার ‘মূল কেন্দ্রবিন্দুতে’ ছিলেন লা পেন।
রায়ে তাকে—
*৫ বছরের জন্য যেকোনো নির্বাচিত পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়;
*৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২ বছর স্থগিত রাখা হয় এবং বাকি ২ বছর গৃহবন্দী অবস্থায় কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়;
*পাশাপাশি তাকে ১ লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া তার দল ন্যাশনাল র্যালিকে (আরএন) ২০ লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়, যার অর্ধেক স্থগিত রাখা হয়েছে।
লা পেনের পাশাপাশি আরও ৮ জন সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য এবং ১২ জন পার্লামেন্টারি সহকারীও অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
এই রায় ছিল লা পেনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা। কারণ ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা ২০২৭ সালের ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। এরপরই তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
আপিলে লা পেনের আত্মপক্ষ সমর্থন কী?
লা পেন ও তার সহযোগীরা শুরু থেকেই এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উইচ-হান্ট’ বলে বর্ণনা করে আসছেন।
প্রথম বিচারে লা পেন আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, অর্থ বৈধভাবেই ব্যয় করা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা পার্লামেন্টারি সহকারীর কাজের পরিধি অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে সেই কৌশল সফল হয়নি।
বিচারক বেনেডিক্ট ডি পার্থুইস বলেন, লা পেন ও অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে অনুশোচনার অভাবই তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার অন্যতম কারণ।
তবে আপিল শুনানিতে লা পেনের অবস্থান কিছুটা নরম ছিল।
তিনি আদালতে বলেন, “যদি কোনো অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আদালত যেন বুঝতে পারে—আমাদের কোনোভাবেই মনে হয়নি যে আমরা ভুল কিছু করছি।”
তবে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি এখনো অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং কোনো সংগঠিত অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা ছিল—এ দাবিও প্রত্যাখ্যান করছেন।
অন্যদিকে প্রসিকিউটররা আগের মতোই ৫ বছরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৪ বছরের কারাদণ্ডের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে এবার তারা প্রস্তাব করেছেন, এর মধ্যে ৩ বছর স্থগিত রাখা হোক এবং ১ বছর গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে হবে।

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লা পেন আগামী সপ্তাহে প্যারিসের একটি আপিল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই রায় নির্ধারণ করবে তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিল অপব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
‘ভুয়া চাকরি’ কেলেঙ্কারি কী?
মেরিন লা পেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের সহকারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ করা তহবিল ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধ করেছেন।
২০১৩ সালে ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্ট প্রকাশ করে যে, সে সময় ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এফএন) নামে পরিচিত লা পেনের দলের দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল ‘ভুয়া চাকরির’ একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা সহকারীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের জন্য তহবিল পান। তবে সেই অর্থ দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করার অনুমতি নেই।
সাত বছর তদন্তের পর ২০২৩ সালে লা পেন ও তার দলের দুই ডজনের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইইউর অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বিচার শুরু হয়। তবে লে পেন ও তার দল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২৫ সালে আদালতের রায় কী ছিল?
২০২৫ সালের মার্চে প্যারিসের একটি আদালত রায় দেয় যে, ৪০ লাখ ইউরোরও বেশি (প্রায় ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ইউএস ডলার) ইইউ তহবিল আত্মসাতের পরিকল্পনার ‘মূল কেন্দ্রবিন্দুতে’ ছিলেন লা পেন।
রায়ে তাকে—
*৫ বছরের জন্য যেকোনো নির্বাচিত পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়;
*৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২ বছর স্থগিত রাখা হয় এবং বাকি ২ বছর গৃহবন্দী অবস্থায় কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়;
*পাশাপাশি তাকে ১ লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া তার দল ন্যাশনাল র্যালিকে (আরএন) ২০ লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়, যার অর্ধেক স্থগিত রাখা হয়েছে।
লা পেনের পাশাপাশি আরও ৮ জন সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য এবং ১২ জন পার্লামেন্টারি সহকারীও অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
এই রায় ছিল লা পেনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা। কারণ ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা ২০২৭ সালের ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। এরপরই তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
আপিলে লা পেনের আত্মপক্ষ সমর্থন কী?
লা পেন ও তার সহযোগীরা শুরু থেকেই এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উইচ-হান্ট’ বলে বর্ণনা করে আসছেন।
প্রথম বিচারে লা পেন আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, অর্থ বৈধভাবেই ব্যয় করা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা পার্লামেন্টারি সহকারীর কাজের পরিধি অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে সেই কৌশল সফল হয়নি।
বিচারক বেনেডিক্ট ডি পার্থুইস বলেন, লা পেন ও অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে অনুশোচনার অভাবই তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার অন্যতম কারণ।
তবে আপিল শুনানিতে লা পেনের অবস্থান কিছুটা নরম ছিল।
তিনি আদালতে বলেন, “যদি কোনো অপরাধ হয়ে থাকে, তবে আদালত যেন বুঝতে পারে—আমাদের কোনোভাবেই মনে হয়নি যে আমরা ভুল কিছু করছি।”
তবে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি এখনো অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং কোনো সংগঠিত অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা ছিল—এ দাবিও প্রত্যাখ্যান করছেন।
অন্যদিকে প্রসিকিউটররা আগের মতোই ৫ বছরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ৪ বছরের কারাদণ্ডের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে এবার তারা প্রস্তাব করেছেন, এর মধ্যে ৩ বছর স্থগিত রাখা হোক এবং ১ বছর গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে হবে।