Advertisement Banner

প্রতিশোধ নিতেই হত্যা করা হয় শিশু আদিবকে

প্রতিশোধ নিতেই হত্যা করা হয় শিশু আদিবকে
ছবি: চরচা

রাজশাহীর কর্ণহার থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর শিশু আদিব আহনাফ (৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি শিশু আদিব আহনাফ। পরদিন ২ মার্চ সকালে কর্ণহার থানাধীন বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় তার বাবার ঘাসক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় শুরুতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে।

উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. হাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান চরচাকে জানান, তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২২ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কিশোরটি জানায়, এক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি শিশু আদিব জেনে যায় এবং তা ওই মেয়ের মাকে জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মেয়ের মা বিষয়টি অভিযুক্ত কিশোরের মাকে জানালে, তার মা তাকে ব্যাপক মারধর করেন।

এই মারধরের প্রতিশোধ নিতেই সে আদিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রমজান মাসে আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে অভিযুক্ত কিশোর কৌশলে তাকে ফুসলিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে আদিবের মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় সে। পুলিশ জানায়, অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোমরের বেল্টটি আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত