Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

ডিসি সারোয়ার আলমের প্রত্যাহার: মাজারের দানবাক্স বিতর্ক নাকি রুটিন বদলি?

দীপ্ত বৈষ্ণব

দীপ্ত বৈষ্ণব

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ২১: ৫৯
ডিসি সারোয়ার আলমের প্রত্যাহার: মাজারের দানবাক্স বিতর্ক নাকি রুটিন বদলি?

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমের আকস্মিক প্রত্যাহার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নজরানার অর্থ স্বচ্ছতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরপরই এই বদলির আদেশ আসায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জনগণের একটি বড় অংশের ধারণা, মাজারকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত স্বার্থ ও অনুদান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপই ডিসি সারোয়ার আলম প্রত্যাহারের মূল কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি—এটি একটি সাধারণ ও রুটিনমাফিক বদলি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের কোনো ইস্যুর সম্পর্ক নেই।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি
ডা. জাহেদ উর রহমান। ফাইল ছবি

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গত রোববার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ডিসি সারোয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ তাকে বদলি করা হয়েছে, এ নিয়ে সারোয়ার আলম এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। প্রজ্ঞাপনে তার স্থলাভিষিক্ত নতুন ডিসির নাম উল্লেখ না থাকায় ‘মাজারের দানবাক্স ইস্যু’র গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

নতুন জেলা প্রশাসক আসার আগপর্যন্ত বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিংকি সাহা চরচাকে বলেন, ‘‘আমি নতুন জেলা প্রশাসক আসার আগ পর্যন্ত রুটিনওয়ার্ক পরিচালনা করব। সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা নতুন জেলা প্রশাসক পাব।”

দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সদ্য বিদায়ী ডিসি কোনো বিশেষ অসমাপ্ত কাজের (যেমন মাজার ইস্যু) ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘‘এগুলো আমাদের অফিশিয়াল প্রাইভেসি।” তবে শাহজালাল মাজারের দানবাক্স নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আশা করি স্বচ্ছতার উদ্দেশ্যে শুরু করে যাওয়া সারোয়ার আলম স্যারের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা সময় হলেই জানতে পারবেন।”

নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত সোমবার মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের উদ্যোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

মাত্র ৪ দিনের সংগ্রহে মাজারের দানবাক্সে পাওয়া যায় নগদ সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, কিছু স্বর্ণালংকার এবং বিদেশি মুদ্রা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকাশ্যে আসার পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এত দিন এই টাকা কোথায় যেত এবং মাজারের প্রকৃত আয় কত?

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মাজারের খাদেম ও ব্যবস্থাপনা কমিটির একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে একটি বিশেষ মহলের ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শাহজালাল মাজারের লঙ্গরখানার খেদমতের দায়িত্বে থাকা সৌরভ আহমদ সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে চরচাকে বলেন, ‘‘আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন এবং নতুন দানবাক্স বসায়। ১৫ দিনের কথা বলে বাক্স বসালেও মাত্র চার দিনের মাথায় হুটহাট করে কাদের নিয়ে এসে টাকা গণনা করা হলো এবং সেই টাকা কোথায় রাখা হলো, তার কিছুই মাজারের খাদেম বা দায়িত্বশীলদের জানানো হয়নি।”

সৌরভ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ডিসি সাহেব চার দিনের দানের টাকার হিসাব পাবলিককে দেখিয়ে গেলেন, কিন্তু মাজারের দৈনিক ব্যবস্থাপনা খরচ, লঙ্গরখানার খরচ এবং শত শত বছর ধরে আসা হাজার হাজার ভক্ত-দর্শনার্থীর খেদমতের পেছনে যে বিপুল ব্যয় হয়, তা কেন হিসাব করলেন না? এ ছাড়া দর্শনার্থীরা তো মাজারের মসজিদ ও এতিমখানার দানবাক্সেও দান করেন; মাজারের স্বচ্ছতা দেখানোর পাশাপাশি এতিমখানা ও মসজিদের দানবাক্সের টাকা কেন প্রকাশ্যে আনা হলো না, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।”

ছবি: বাসস
ছবি: বাসস

অর্থ সংরক্ষণের জন্য মাজারের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও মাজার কর্তৃপক্ষকে তাতে সম্পৃক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, ‘‘আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি মাজারের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তবে এতে আমাদের কাউকে রাখা হয়নি, এমনকি জানানোও হয়নি।”

মাজারের ঐতিহ্য ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হজরত শাহজালাল (রহ.) আজীবন অবিবাহিত ছিলেন। তবে তার জীবিতাবস্থায় ভাগনের সংসারের খরচের জন্য মাজারের আয়ের একটি অংশ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তার ভাগনের উত্তরসূরী প্রায় ৩০০টি পরিবার সিলেটে বসবাস করছে, যারা স্থানীয়ভাবে ‘সরওকুম’, ‘মুফতি’ ও ‘সৈয়দ পরিবার’ নামে পরিচিত।

এই ৩০০ পরিবার থেকে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে একেকজন মাজারের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘বাড়ি প্রথা’ নামে পরিচিত। যিনি যেদিন দায়িত্বে থাকেন, তিনি মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন এবং লঙ্গরখানার খরচ মিটিয়ে অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত টাকা ‘হাদিয়া’ হিসেবে নিয়ে যান।

খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না চরচাকে বলেন, ‘‘আমরা কখনোই মাজারে দান করার জন্য কোনো প্রচার চালাই না। ওরসের জন্যও কোনো চাঁদা বা প্রচার করা হয় না। মানুষ নিজেদের ভক্তি ও ভালোবাসা থেকেই এখানে আসেন এবং দান করেন।”

মাজারে প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট কত টাকা আসে, তার নিখুঁত কোনো হিসাব নেই। তবে মাজার ভক্তদের সংগঠন ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী জানান, প্রতিদিনের আয় সমান নয়। সাধারণ দিনগুলোতে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উঠলেও, বৃহস্পতিবার বা বিশেষ দিনগুলোতে ভক্তদের সমাগম বাড়লে দৈনিক আয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।

বিষয়: প্রত্যাহারসিলেটসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটাকাডিসি
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

    সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত দেওয়া চলছে। টাকা তোলার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরুর পর প্রথম তিন দিনে ৫৮ হাজার ৭৪৫ জন গ্রাহক মোট ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ২৬ হাজার ৫৬ জন গ্রাহক ব্যাংক থেকে মো

  • সিলেট নগরে যানজট: দায় কার, হকার নাকি অবৈধ পার্কিংয়ের?

    সিলেট নগরে যানজট: দায় কার, হকার নাকি অবৈধ পার্কিংয়ের?

    ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, যানজটমুক্ত ও সুন্দর সিলেটের কথা চিন্তা করে এই আধুনিক লাক্সারি বাসস্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ঘুরেফিরে ওই মূল রাস্তাতেই বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। এসব দেখার বা বলার কেউ নেই।

  • আশুলিয়ায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, যা জানা গেল

    আশুলিয়ায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, যা জানা গেল

    ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার ‘ট্রিপল মার্ডারের’ রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সোমবার মধ্যরাতে তাকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে

  • এজেন্টদের অভিযোগ এন্তার, বিকাশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

    এজেন্টদের অভিযোগ এন্তার, বিকাশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

    মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ–এর বিরুদ্ধে এজেন্টদের ওপর ডিপিএস ও লেনদেনের টার্গেট পূরণে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অবশ্য বিকাশ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে