Advertisement Banner

সঙ্গীতের এক ‘মহাকাব্যিক যুগের’ অবসান

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সঙ্গীতের এক ‘মহাকাব্যিক যুগের’ অবসান
আশা ভোসলে। ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

তিনি চলে গেলেন। অনেকে বলছেন, ভারতীয় সংগীত জগতে তিনিই ছিলেন শেষ মোঘল। যদি বলা হয়, সংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোসলের প্রয়াণে একটি মহাকাব্যিক যুগের অবসান ঘটেছে, বাড়িয়ে বলা হবে না।

আশা শুধু চলচ্চিত্র শিল্পকেই নয়, একটি জাতির সংগীতের রুচি ও সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলতে পেরেছিলেন। তিনি গত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে হিন্দি গানের জগতে সফলতার সঙ্গে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।

১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমার গানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছিলেন আশা। তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। অবশ্য সিনেমায় তার গান সেই প্রথম নয়। বয়স যখন ১০, তখন কণ্ঠ দিয়েছিলেন একটি মারাঠা ছবির গানে।

কী নেই তার ঝুলিতে! সংগীতে অপরিসীম অবদানের জন্য ভারত সরকারের প্রায় সবগুলো সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাছাড়াও প্রথম ভারতীয় সংগীতশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন।

লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন এবং রাহুল দেব বর্মণের স্ত্রী, তার এই পরিচয় কখনো বড় হয়ে ওঠেনি। তিনি বড় হয়ে উঠতে দেননি। আশা ভোসলে নিজের পরিশ্রম ও মেধাকে পুঁজি করে বলিউডে নিজের এক স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। তার অসংখ্য হিট গানে পাশ্চাত্য ও ভারতীয় সংগীতের মেলবন্ধন ঘটেছে। তার কণ্ঠ কখনো চঞ্চল, কখনো দুর্বার, কখনো রোমান্টিক, আবার কখনোবা রহস্যময়।

এই জাদুকরী কণ্ঠের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক লড়াকু নারীর গল্প। ব্যক্তিগত জীবন তার সংগীতের মতো মধুর ছিল না। এতোটাই কঠিন ছিল যে, একবার আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ঘুরে দাঁড়াতেও দেরি করেননি, সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছেন।

৯২ বছরের দীর্ঘ জীবন! কয়েক প্রজন্মকে বুঁদ করে রাখতে পেরেছেন এই মহা সংগীত প্রতিভা। এই দীর্ঘ পথচলা শুধু সংগীতের নয়, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক আখ্যান। জীবন তাকে বারবার খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, কিন্তু তিনি সেখান থেকেই খুঁজে নিয়েছেন ফিরে আসার শক্তি।

সন্দেহ নেই তার কণ্ঠ মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে। তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার প্রতিটি গানের মাধ্যমে।

সম্পর্কিত