ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজের বড় বহর পাঠানোর কথা জানালেন ট্রাম্প

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজের বড় বহর পাঠানোর কথা জানালেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের মনে গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেওয়ার ইচ্ছা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ছবি: রয়টার্স

ইরানের ওপর ‘নিবিড় নজরদারি’ চালাতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুদ্ধজাহাজের এক বিশাল বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রণতরী পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন শেষ করে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌ-বহর (আর্মাদা) পাঠিয়েছি। আমি বলছি না যে এখনই কোনো সংঘাত শুরু হতে যাচ্ছে, তবে আমরা তাদের গতিবিধি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রয়োজন না পড়লে এই বহর ব্যবহার করা হবে না, তবে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই বহরের নেতৃত্বে রয়েছে পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। এর সাথে রয়েছে বেশ কিছু আধুনিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার)।

এছাড়া বহরটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে), বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিধ্বংসী ড্রোন ও বিশেষায়িত বিস্ফোরক ও লজিস্টিক সরঞ্জাম।

২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। বিশেষ করে গত বছরের জুন মাসের সামরিক সংঘাত এবং অতি সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান যেকোনো সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। মূলত সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই নৌ-বহরের সরণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ বলছে, সেখানে তেহরান একে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখছে। ফলে এই ‘আর্মাদা’ মোতায়েন অঞ্চলটিকে বড় কোনো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় কি না, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পর্কিত