ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকেও লক্ষ্য করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র একে ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
জবাবে ইরান হুমকি দিয়েছে, এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নেবে, ইরান তাদের শত্রু হিসেবে দেখবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজাই।
স্থানীয় সময় আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন ও আরও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে শুরু হবে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’। তিনি একে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান প্রায় নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারে। গত সপ্তাহে সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরানের অর্থনীতি ‘ধসিয়ে দিতে’ যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে চায়।
অন্যদিকে ইরানও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিয়ে কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে, তাকেও শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রেজাই ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করে বলেন, তারা যদি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বের হতে দেওয়া হবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহার করেও তেল পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।