‘আজব দেশে এলিস’ কেন ‘ননসেন্স’

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
‘আজব দেশে এলিস’ কেন ‘ননসেন্স’
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

ছোটোবেলায় অনেকেই কল্পনায় এলিসের সঙ্গী হয়েছেন। ওই যে ছোট্টো মেয়েটা, বোনের সাথে বসেছিল নদীর ধারে। বোন তো বসে বসে বই পড়ছে, সে এখন করবে কী? হঠাৎ দেখা হলো একটা খরগোশের সাথে। তাও যে সে খরগোশ নয়, একেবারে কথা বলা খরগোশ। এলিস ছুটল খরগোশটার পেছনে পেছনে। ছোট্ট এই প্রাণীটা গিয়ে পড়ল একটা গর্তে। সাথে এলিসও। তারপর? তারা পৌঁছে গেল মজার এক রাজ্যে। সেখানে আছে কথা বলা পশুপাখি, নাচুনে মাছের দল, হেঁটে চলা তাস। সেই দেশে গিয়ে নানান অদ্ভুত সব জিনিস আর প্রাণী দেখে ঘটনাচক্রে এলিস সে দেশের রানীর সাথে এক বিচিত্র খেলায় যোগ দেয়। সেই খ্যাপাটে রানী একে একে সবার মাথা কেটে ফেলার আদেশ দেন। আর যখন এলিসের পালা আসে, তখনই এলিসের ঘুম ভেঙে যায়।

এতক্ষণে নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড বা আজব দেশে এলিস গল্পের কথা হচ্ছে। এই গল্প লেখার পেছনে কিন্তু আরেক গল্প আছে।

গল্পটি মূলত ১৮৬২ সালের জুলাই মাসে একটি বনভোজনের সময় লরিনা, এলিস ও এডিথকে শুনিয়েছিলেন লুইস ক্যারল। তিনি অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চের ছাত্র ও ফেলো ছিলেন, আর এই তিন বোন ছিলেন সেই চার্চের ডিন হেনরি জর্জ লিডেলের কন্যা। এলিস ক্যারলকে অনুরোধ করেছিলেন গল্পগুলো তার জন্য লিখে দিতে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ‘এলিস’স অ্যাডভেঞ্চারস আন্ডার গ্রাউন্ড’ শিরোনামে নিজের হাতে লেখা একটি সংকলন তৈরি করেন। লিডেল পরিবারের এক দর্শনার্থী গল্পের বইটি দেখে এটি প্রকাশ করা উচিত বলে মত দেন, যার ফলে ক্যারল এটি পরিমার্জন ও সম্প্রসারণ করেন।

এমন এক সময়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল, যখন শিশুসাহিত্যের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল নীতিশিক্ষা। তাই শুরুতে সমালোচকেরা পড়ে গেছিলেন মহাফাঁপরে। ছোট পাঠকদের মোহিত করা এই ‘ননসেন্স’ বা অর্থহীনতার রস তারা উপলব্ধি করতে পারেননি। কিন্তু ক্যারল জানতেন শিশুদের মন কত সরল হয়। আর তাই চিরাচরিত যুক্তিকে উল্টে দেওয়ার পদ্ধতিটি তাদের কাছে দারুণ আবেদন তৈরি করেছিল। বইটির ‘হাউ ডোথ দ্য লিটল ক্রোকোডাইল’ এবং ‘ইউ আর ওল্ড, ফাদার উইলিয়াম’-মতো ধাঁধা এবং কবিতাগুলোতে তিনি অদ্ভুত হাস্যরস সৃষ্টি করেছিলেন।

এই কাজটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ‘থ্রু দ্য লুকিং-গ্লাস, অ্যান্ড হোয়াট এলিস ফাউন্ড দেয়ার’ নামে এর একটি সিক্যুয়েল বের হয়।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ এলিস ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশুতোষ বইয়ে পরিণত হয় এবং পরবর্তী দুই দশকের মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গল্পের বইয়ের তালিকায় স্থান করে নেয়।

আর আজ এই বইয়ের স্রষ্টা লুইস ক্যারলের জন্মবার্ষিকী। ১৮৩২ সালের ২৭ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের চেশায়ারের ডেয়ারসবারিতে তার জন্ম হয়। তিনি একাধারে একজন প্রখ্যাত লেখক, গণিতবিদ, যুক্তিবিদ ও আলোকচিত্রী ছিলেন।

সম্পর্কিত