এবার কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এবার কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠেছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করেছে। এরই মধ্যে আজ শনিবার ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়েছে। জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হেনেছে ইরান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘মেজর কমবেট অপারেশন’ শুরু হয়েছে। এই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে বলে জানা গেছে।

কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান, ইরাক এবং ইসরায়েলও আকাশপথ বন্ধ করেছে।

এর আগে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সাইরেন বাজানো হয়েছে।

বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। কাতারের সকল বাসিন্দাদের মোবাইল অ্যালার্ট পাঠানো হয়েছে। তাদের ঘরে থাকতে এবং সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ টেলিগ্রামে আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প তার আসল রূপ দেখিয়েছেন। ইরানের সাথে পারমাণবিক আলোচনা ছিল শুধুমাত্র একটি আড়াল, যুদ্ধের প্রস্তুতি। কেউই আসলে সমঝোতা চায়নি।

ইরান বারবার দাবি করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের দাম এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পর্কিত