ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের তিনটি প্রধান নদীর পানি আজ মঙ্গলবারও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বান্দরবান শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি ও রুমা উপজেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।পাশাপাশি পাহাড়ধসে বান্দরবান থেকে ওই দুই উপজেলায় যাওয়ার কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ও যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় থানচির দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটনকেন্দ্রে এখনো শতাধিক পর্যটক আটকা রয়েছেন।
আবহাওয়ার অবনতির পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসন শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে।
সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ২২০টি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ আটটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে।
জেলা প্রশাসন বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার এবং আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।