বাংলাদেশে প্রবাসীদের জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় আছে ৷ এর নাম বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ৷
এগুলো হলো-
- প্রবাসী আয় করমুক্ত
- বিদেশ যেতে রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন লোন
- বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর পুনর্বাসন লোন
- বিদেশ থেকে ফিরে কেউ কোনো ব্যবসায়িক প্রকল্প করতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন
- বিদেশে কোনো প্রবাসী মারা গেলে লাশ দেশে আনার পর সরকার লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার অনুদান
- মৃত ব্যক্তির পরিবারকে এককালীন ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান, যা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে
- বিদেশে কর্মরত থাকাকালে নিয়োগকর্তা কর্তৃক কোনো প্রতারণা বা বঞ্চনার শিকার হলে, বেতন আটকে দিলে তা ওই দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম-উইংয়ের মাধ্যমে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান
- বিদেশে কেউ মারা গেলে লাশ পাঠাতে সব আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপারে সাহায্য
- বাংলাদেশের সব ব্যাংকে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
- ঢাকাসহ দেশের সব নামকরা অথবা যে কোনো স্কুল-কলেজ সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের সন্তানদের ভর্তির জন্য বিশেষ কোটা।
বাস্তবে কী সুবিধা পান প্রবাসীরা
অবশ্য এ সব সুবিধা তাঁরা কতটুকু পান তা নিয়ে আছে প্রশ্ন ৷ প্রবাসীদের দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও, তা পাওয়া যায় না ৷ আর লাশ দেশে ফেরত পাঠানো, ক্ষতিপূরণের টাকা, বিশেষ ঋণ – এগুলো কাগজেই আছে ৷
প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতকরা একভাগ কোটার কথা বলা হলেও, বাস্তবে কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এই নিয়ম মানে না ৷ এখানেই শেষ নয় ৷ এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকারের দাবি জানিয়ে আসছেন৷ তাঁরা চাইছেন, প্রবাসে বসেই তাঁরা নির্বাচনে সময় ভোট দেবেন৷ কিন্তু বারবার এই দাবি পূরণ করার কথা সরকার বলে আসলেও, তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই৷