রাসেল গৌতমকে মানবসেবার মিশনে নামার জন্য অভিবাদন জানান, আশীর্বাদ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এই সংকট গোটা বিশ্বের। আমি আশা করি, তুমি এই কাজে সফল হবে। আমি তোমার চিন্তাকে সম্মান করি। তোমার কাজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রত্যাশা, সারা পৃথিবী তোমার এই দুরূহ কাজের প্রশংসা করবে।”
সুদীপ্ত সালাম

আচ্ছা যদি বলি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ও গণিতবিদ, সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন? তাও বলিউডের সিনেমায়? হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন, হিন্দি সিনেমায়। নিশ্চয় ভাবছেন গুল মারছি? না, তিনি আসলেই ১৯৬৭ সালে ৯৫ বছর বয়সে একটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।
১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় হিন্দি সিনেমা ‘আমান’। এই সিনেমায় কয়েক মিনিটের জন্য পর্দায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। এটি ছিল বার্ট্রান্ড রাসেলের জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্রে অভিনয়। ১৯৬৭ সালে তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তখনো তিনি আত্মজীবনী লেখার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও যুদ্ধের বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ভয়াবহতা তাকে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল। তিনি হয়ে ওঠেন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার উদ্যোগেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত ‘রাসেল-আইনস্টাইন ম্যানিফেস্টো’। এই উদ্যোগই পরc যুদ্ধবিরোধী ‘পাগওয়াশ কনফারেন্স অন সায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স’কে এগিয়ে নিয়ে যায়।
রাসেলের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে এত কথা বলার কারণ, তিনি যে হিন্দি সিনেমাটিতে ক্যামিও রোল করেছেন, সেই সিনেমাটিও ছিল যুদ্ধের বিরুদ্ধে। সিনেমার নাম ‘আমান’। আমান অর্থই—শান্তি। এর পরিচালক মোহন কুমার। প্রধান চরিত্র ডা. গৌতমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাজেন্দ্র কুমার। গৌতম লন্ডনে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে জাপানে যেতে চান। তার লক্ষ্য—হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি বার্ট্রান্ড রাসেলের আশীর্বাদ নিতে যান। এখানে বার্ট্রান্ড রাসেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বার্ট্রান্ড রাসেল নিজেই!

রাসেল গৌতমকে মানবসেবার মিশনে নামার জন্য অভিবাদন জানান, আশীর্বাদ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এই সংকট গোটা বিশ্বের। আমি আশা করি, তুমি এই কাজে সফল হবে। আমি তোমার চিন্তাকে সম্মান করি। তোমার কাজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রত্যাশা, সারা পৃথিবী তোমার এই দুরূহ কাজের প্রশংসা করবে।” সংক্ষিপ্ত হলেও, পুরো সিনেমার দর্শন এই একটি দৃশ্যে ফুটে উঠেছে। দৃশ্যটি লন্ডনে বার্ট্রান্ড রাসেলের বাড়িতেই ধারণ করা হয়েছিল।
বার্ট্রান্ড রাসেল কীভাবে এই সিনেমায় অভিনয় করতে রাজি হলেন? তিনি তো আগে কখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি, করার মানুষও নন। ‘আমান’ সিনেমার মূল বিষয় ছিল যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতার আহ্বান। হয়তো এই বার্তাকে সমর্থন করতেই তিনি ৯৫ বছর বয়সেও সিনেমাটির সঙ্গে থাকতে রাজি হয়েছিলেন।
বলিউডের মূলধারার চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আমান’ নিয়ে একদমই কথা হয় না। তবে ইতিহাসের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা। কারণ, প্রথমত এটি একটি যুদ্ধবিরোধী ছবি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দুর্লভ। আর দ্বিতীয়ত, এই সিনেমার মাধ্যমেই ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলকে প্রথম ও শেষবার কোনো সিনেমায় দেখা গেছে।
আমান মুক্তি পেয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ চরমে। কোল্ড ওয়ার, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে সিনেমাটি মানবতার পক্ষে এক শক্তিশালী বার্তা বিশ্ব মোড়লদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল। বার্তাটি হলো, যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না; যুদ্ধে শুধু পরাজয় হয়—মানবসভ্যতার পরাজয়। রাসেলের উপস্থিতি সেই আবেদনকে আরো জোরাল করে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওপেন কালচার ও ব্রিটানিকা

আচ্ছা যদি বলি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ও গণিতবিদ, সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন? তাও বলিউডের সিনেমায়? হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন, হিন্দি সিনেমায়। নিশ্চয় ভাবছেন গুল মারছি? না, তিনি আসলেই ১৯৬৭ সালে ৯৫ বছর বয়সে একটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।
১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় হিন্দি সিনেমা ‘আমান’। এই সিনেমায় কয়েক মিনিটের জন্য পর্দায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। এটি ছিল বার্ট্রান্ড রাসেলের জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্রে অভিনয়। ১৯৬৭ সালে তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তখনো তিনি আত্মজীবনী লেখার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও যুদ্ধের বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ভয়াবহতা তাকে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল। তিনি হয়ে ওঠেন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার উদ্যোগেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত ‘রাসেল-আইনস্টাইন ম্যানিফেস্টো’। এই উদ্যোগই পরc যুদ্ধবিরোধী ‘পাগওয়াশ কনফারেন্স অন সায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স’কে এগিয়ে নিয়ে যায়।
রাসেলের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে এত কথা বলার কারণ, তিনি যে হিন্দি সিনেমাটিতে ক্যামিও রোল করেছেন, সেই সিনেমাটিও ছিল যুদ্ধের বিরুদ্ধে। সিনেমার নাম ‘আমান’। আমান অর্থই—শান্তি। এর পরিচালক মোহন কুমার। প্রধান চরিত্র ডা. গৌতমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাজেন্দ্র কুমার। গৌতম লন্ডনে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে জাপানে যেতে চান। তার লক্ষ্য—হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি বার্ট্রান্ড রাসেলের আশীর্বাদ নিতে যান। এখানে বার্ট্রান্ড রাসেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বার্ট্রান্ড রাসেল নিজেই!

রাসেল গৌতমকে মানবসেবার মিশনে নামার জন্য অভিবাদন জানান, আশীর্বাদ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এই সংকট গোটা বিশ্বের। আমি আশা করি, তুমি এই কাজে সফল হবে। আমি তোমার চিন্তাকে সম্মান করি। তোমার কাজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রত্যাশা, সারা পৃথিবী তোমার এই দুরূহ কাজের প্রশংসা করবে।” সংক্ষিপ্ত হলেও, পুরো সিনেমার দর্শন এই একটি দৃশ্যে ফুটে উঠেছে। দৃশ্যটি লন্ডনে বার্ট্রান্ড রাসেলের বাড়িতেই ধারণ করা হয়েছিল।
বার্ট্রান্ড রাসেল কীভাবে এই সিনেমায় অভিনয় করতে রাজি হলেন? তিনি তো আগে কখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি, করার মানুষও নন। ‘আমান’ সিনেমার মূল বিষয় ছিল যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতার আহ্বান। হয়তো এই বার্তাকে সমর্থন করতেই তিনি ৯৫ বছর বয়সেও সিনেমাটির সঙ্গে থাকতে রাজি হয়েছিলেন।
বলিউডের মূলধারার চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আমান’ নিয়ে একদমই কথা হয় না। তবে ইতিহাসের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা। কারণ, প্রথমত এটি একটি যুদ্ধবিরোধী ছবি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দুর্লভ। আর দ্বিতীয়ত, এই সিনেমার মাধ্যমেই ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলকে প্রথম ও শেষবার কোনো সিনেমায় দেখা গেছে।
আমান মুক্তি পেয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ চরমে। কোল্ড ওয়ার, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে সিনেমাটি মানবতার পক্ষে এক শক্তিশালী বার্তা বিশ্ব মোড়লদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল। বার্তাটি হলো, যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না; যুদ্ধে শুধু পরাজয় হয়—মানবসভ্যতার পরাজয়। রাসেলের উপস্থিতি সেই আবেদনকে আরো জোরাল করে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওপেন কালচার ও ব্রিটানিকা

সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মালয়েশিয়া হয়ে যাবেন চীনে।তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের এ মুহূর্তে তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম সফর কোথায় ছিল, সেই ইতিহাসও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।