Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

কবি নজরুলের সিফিলিস বিতর্ক, আসলে কী?

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১৬
কবি নজরুলের সিফিলিস বিতর্ক, আসলে কী?
কাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: বাসস

কবি নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই কেউ কেউ বলা শুরু করেছিলেন, নজরুল সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সিফিলিস হলো একটি সংক্রামক যৌনবাহিত রোগ। ‘ট্রেপোনেমা প্যালিডাম’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। নজরুলের সিফিলিস ছিল–এই আলাপটি আরও জোরালো করে তোলেন কলকাতার লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. গিরীন্দ্রশেখর বসু ও ডা. সেনগুপ্ত। ১৯৪২ সালের অক্টোবরে অসুস্থ কবি নজরুলকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এই দুই চিকিৎসক কবির শরীরে নিউরো সিফিলিস ডায়াগনোসিস করে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। ফলে অনেকে ধরেই নেয়, কবির যদি সিফিলিস না থাকত, তাহলে সেই রোগের চিকিৎসা দেওয়া হলো কেন?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

একটু পেছনে ফিরে যাই, ১৯৩০ সালে কবি তার পুত্র বুলবুলকে হারান। এই ঘটনায় তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান। লন্ডনের সেন্ট্রাল মিডলসেক্স হাসপাতালের জেরিঅ্যাট্রিক্স বিভাগের দীর্ঘদিনের পরামর্শক ড. মুহাম্মদ নূরুল হকের মতে, এই ঘটনার পর থেকেই কবি হ্যালুসিনেট করা শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে কবি তার মৃত ছেলেকে জীবিত দেখেছেন বলে দাবি করেন। কয়েক বছর পর তিনি আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার কথাও জানান। এর মধ্যেই শুরু হয় আর্থিক অনটন। ১৯৩৯ সাল থেকে তার আর্থিক সংকট তীব্র হতে শুরু করে।

কবি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাকে তার আশপাশের লোকজন ঠকাচ্ছে। সবাইকেই তিনি সন্দেহের চোখে দেখতেন। ১৯৪২ সালের জুলাইয়ে তিনি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন তখন থেকেই দেখা দিতে থাকে। অসংলগ্ন কথাবার্তা, খিটখিটে মেজাজ, কখনো কখনো মারমুখী আচরণও করতেন। ডা. মুহাম্মদ নূরুল হক তার ‘নজরুলের কী রোগ হয়েছিল?’ শিরোনামের প্রবন্ধে লিখেছেন, কবির এই অবস্থাকে ‘সাইকোসিস বলা যেতে পারে।

কবি নজরুল ১৯৪২ সালের জুলাইয়ে বন্ধু জুলফিকার হায়দারকে লেখা এক চিঠিতে জানান, তার ব্লাড প্রেশার লো, মাথায় যন্ত্রণা, হাতকাঁপা, জিভের আড়ষ্টতা দেখা দিয়েছে। তখনই তাকে ভর্তি করা হয়েছিল লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালে। সেখানে সিফিলিস রোগের চিকিৎসা হিসেবে কবিকে আরসেনিক দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তাতে কবির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় বলে দাবি ড. নূরুল হকের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৫২ সালে কবিকে নেওয়া হয় রাঁচির মানসিক হাসপাতালে। কোনো উন্নতি না হওয়ায় ১৯৫৩ সালের মে মাসে তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার লন্ডন ক্লিনিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়। ব্রিটিশ চিকিৎসকরা জানান, বিদ্রোহী কবি আলজেইমার ডিমেনশিয়ার মতো মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাওয়ার রোগে আক্রান্ত। সেখান থেকে কবিকে নেওয়া হয় অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, কবির রোগের নাম ‘পিক্‌স ডিজিজ’। আরও জানিয়ে দেওয়া হয়, এই রোগ ভালো হওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ডা. দ্বিজন্দ্রকুমার রায় কবির দেখভাল করেছেন। তিনি বলেছিলেন, কবি যে রোগে আক্রান্ত, সেই রোগ একেবারে নতুন, চিকিৎসাবিজ্ঞান এই রোগের কারণ বের করতে পারেনি। এখন ড. হকসহ অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নজরুল ‘ডিমেনশিয়া অব লিউয়ি বডিস’ বা ‘ডিএলবি’ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। লিউয়ি বডিস হলো এক ধরনের অস্বাভাবিক প্রোটিন, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে জমে যায়। এর ফলে রোগীর ভয়, উদ্বেগ, বিষাদ, মূত্রত্যাগে সমস্যা, হাতকাঁপা, দিবাস্বপ্ন, স্মরণশক্তি লোপ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

যা দিয়ে শুরু করেছিলাম, তখন অনেকে মনে করতেন, কবি সিফিলিসে ভুগছিলেন। লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালের ডা. গিরীন্দ্রশেখর বসু ও ডা. সেনগুপ্তের মতো চিকিৎসকের মতো বিধান রায়ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, কবির সিফিলিস হয়েছে। কবি নজরুলের জীবনীকার গোলাম মুরশিদের ধারণা, এই চিকিৎসক সে অনুযায়ী চিকিৎসাও করেছিলেন। ফল হলো উল্টো, কবি বিড়বিড় করতেন, তাও বন্ধ হয়ে যায়।

নজরুলের সিফিলিস হয়েছে এই ধারণা কোথা থেকে এল? কবির দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসক ডা. ডি কে রায় জানিয়েছিলেন, অনেকে ধরেই নিয়েছিল, যেহেতু কবি সৈনিকের পেশায় ছিলেন সেহেতু সিফিলিস রোগ থেকেই তার ‘জেনারেল প্যারালাইসিস অব ইনসেন্স’ হয়ে থাকতে পারে।

ডা. রায় ১৯৯৯ সালে স্টেটসম্যান পত্রিকায় লিখেছেন, “কারও মনে করা ঠিক হবে না যে, তিনি (কবি) কখনো সিফিলিসে ভুগেছেন। তাঁর প্রি-সেনাইল ডিমেনশিয়া হয়েছিল।” এই আহ্বানে খুব একটা কাজ হয়েছিল বলে মনে হয় না। সিফিলিস হয়েছে–কথাটি প্রচার হয়ে যাওয়ার পর অনেক ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী কবির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন, যে কবি তার সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলেন এই বাঙালির জন্য। অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট কবি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গোলাম মুরশিদের মতে, কবির অসুস্থতার কারণ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তার সমাধান আর হয়নি। হবেও না। এখনো এ নিয়ে কথা হয়। আমার ব্যক্তিগত মত, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, কবির সিফিলিস ছিল, তাতে সমস্যাটা কোথায়? মানুষের কি এই রোগ হতে পারে না? এই রোগ হলে কি কারও মূল্য কমে যায়? এই রোগ হলে লোকটি খারাপ, এই রোগ না হলে লোকটি পূজনীয়–এ কেমন দৃষ্টিভঙ্গি?

সহায়ক গ্রন্থ:

১. কবি নজরুলের অসুস্থতা: তর্ক-বিতর্ক ও দলিলপত্র, ইসরাইল খান সম্পাদিত

২. বিদ্রোহী রণক্লান্ত: নজরুল-জীবনী, গোলাম মুরশিদ

৩. আবদুল মান্নান সৈয়দ রচনাবলি (৫ম খণ্ড)রে’

বিষয়: কাজী নজরুল ইসলামকবিরোগ
সর্বশেষ
  • ১

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ২

    তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা তুলেছেন

  • ৩

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

  • ৪

    বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ

  • ৫

    হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ: রয়টার্স

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।