Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

উপসাগরীয় যুদ্ধ শেষে কেন বাংলাদেশে এসেছিলেন ৮ হাজার মার্কিন সেনা?

নাইর ইকবাল

নাইর ইকবাল

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৫৫
উপসাগরীয় যুদ্ধ শেষে কেন বাংলাদেশে এসেছিলেন ৮ হাজার মার্কিন সেনা?

৩৫ বছর আগে আমেরিকান সেনা কেন এসেছিল বাংলাদেশে? প্রায় ৮ হাজার মেরিন সেনা আর সামরিক যান ৪২ দিন আবস্থান করেছিল চট্টগ্রাম–কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। নাহ! তারা এ দেশে যুদ্ধ করতে আসেনি, ইরাক বা ইরানের মতো গণবিধ্বংসী অস্ত্রের খোঁজেও আসেনি। ৮ হাজার মেরিন সেনা বাংলাদেশে শুরু করেছিল পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম। ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’ নামের সেই কার্যক্রম বাংলাদেশকে রক্ষা করেছিল চরম এক মানবিক বিপর্যয় থেকে। অথচ, ওই ৮ হাজার মেরিন সেনা উপসাগরীয় যুদ্ধে নিয়োজিত ছিল। যুদ্ধ বিরতির পর তারা বঙ্গোপসাগর হয়ে ফিরছিল জাপানের সামরিক ঘাঁটির দিকে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল!

সেদিন মধ্যরাতে মহাপ্রলয় নেমে এসেছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে। ক্যাটাগরি ফোর বা চার মাত্রার এক ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় দুনিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসের ছাপ রেখে গিয়েছিল। সেই রাতের ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় আড়াইশ কিলোমিটার, রীতিমতো অকল্পনীয়। এমন গতির সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল সবকিছু। সেই সঙ্গে ২০ ফুটের মতো জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়েছিল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার উপকূলে। সে রাতে মৃত্যুবরণ করেছিল ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানব সন্তান। এর বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছিল ঝড় আঘাত হানার প্রথম ঘণ্টাতেই। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের চরম এক মানবিক বিপর্যয়। সেই ঝড়ে দেশের একটা অংশের অবকাঠামো, রেল, বিদ্যুৎ, টেলি যোগাযোগ একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। এ অবস্থায় মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল আরও লাখো মানুষের। বৈদেশিক মুদ্রার অংকে সেই ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। তিন দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় সেই ক্ষতি ছিল রীতিমতো অকল্পনীয়। ওই সময় বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের আকারই ছিল সাকল্যে ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ঠিক এক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিল নতুন সরকার। ২৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। খালেদা জিয়া হন প্রধানমন্ত্রী। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

৩৫ বছর আগে ৮ হাজার মার্কিন সেনা ঘাঁটি গেড়েছিল বাংলাদেশের উপকূলে। ছবি: সংগৃহীত
৩৫ বছর আগে ৮ হাজার মার্কিন সেনা ঘাঁটি গেড়েছিল বাংলাদেশের উপকূলে। ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় যুদ্ধের ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছিল। ১৯৯০ সালের আগস্টে ইরাক কুয়েত দখল করে। কুয়েতকে দখলদারী থেকে মুক্ত করার নামে ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক কুয়েত থেকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছিল তখন। ২৯ এপ্রিল রাতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানা ভয়ংকর এই ঘূর্ণিঝড় বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয় স্বাভাবিকভাবেই। বাংলাদেশের এই মানবিক বিপর্যয় দুনিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করে। কারণ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এত মানুষের মৃত্যু, এত ক্ষয়ক্ষতি বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দেয়। মানুষ ও গবাদিপশুর শবের সারির সঙ্গে যুক্ত হয় ক্ষুধার্ত, গৃহহীন মানুষের হাহাকার। ঘূর্ণিঝড়ে ঘরহারা হয়েছিল প্রায় এক কোটি মানুষ। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দেশের বাকি অংশ থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়ে। রাডার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর অনুপযোগী হয়ে পড়ে জলোচ্ছ্বাসের কারণে। নৌ বাহিনীর জাহাজগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তা–ই নয়, বিমানবাহিনীর চট্টগ্রাম ঘাঁটিতে অবস্থানরত বেশকিছু যুদ্ধ বিমান আর হেলিকপ্টারও ঝড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের খবর চাউর হতেই সারা দুনিয়া থেকে মানবিক সাহায্য আসতে থাকে। কিন্তু মুশকিল হয় সেই সাহায্য উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছানো নিয়েই। দেশের অভ্যন্তরে কাজ করা দেশি–বিদেশি সাহায্য সংস্থাগুলোও বিপর্যয়ের ভয়াবহতা দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এত বৃহৎ পরিসরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো জনবলেরও সংকট ছিল তাদের। এমনকি ত্রাণকর্মীদের উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে পিটিএসডি বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে ব্যাপকভাবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দৃশ্যপট ছিল এতটাই ভয়াবহ।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সামর্থ্য প্রয়োগ করেছিল। দিনরাত চলছিল বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী ফেলার কাজ। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্ভোগের ব্যাপকতার কাছে তাও যথেষ্ট ছিল না।

সে সময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন উইলিয়াম বি মাইলাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতার জন্য সামরিক বাহিনী ও তাদের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করেন। কিন্তু সরকার উইলিয়াম বি মাইলামের প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধায় ছিল। উইলিয়াম বি মাইলাম হোয়াইট হাউজের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও করেছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ বুশ। যিনি আরেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের পিতা। জর্জ বুশ উইলিয়াম বি মাইলামের প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন।

জেনারেল সি স্ট্যাকপোল। অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। ছবি: সংগৃহীত
জেনারেল সি স্ট্যাকপোল। অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। ছবি: সংগৃহীত

বি মাইলাম চেয়েছিলেন উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা কোনো ইউনিট বা নৌবহরকে যেন বাংলাদেশকে পাঠানো হয়। আগেই বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে দ্বিধায় ছিল বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও বেশ খানিকটা দ্বিধায় ছিল।

শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ও পরিণাম বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার রাজি হয়। উপসাগরীয় যুদ্ধের বহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজবহরকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। সেই বহরের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল হ্যাঙ্ক সি স্ট্যাকপোল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই জেনারেল স্ট্যাকপোল অমর হয়েই আছেন।

স্ট্যাকপোলের নেতৃত্বাধীন নৌবহরটির ঘাঁটি ছিল মূলত জাপানের ওকিনাওয়াতে। সেটি ছিল থ্রি মেরিন এক্সপিডিশনারি ব্রিগেডের একটি অংশ। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ইরাকে অভিযান শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে। জেনারেল স্ট্যাকপোল তার বহর নিয়ে অংশ নিতে গিয়েছিলেন সেই ডেজার্ট স্ট্রম অপারেশনে। স্ট্যাকপোল অগ্রবর্তী সফরে বাংলাদেশে এসে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। তিনি তাকে বোঝাতে সক্ষম হন, ডেজার্ট স্টর্মে অংশগ্রহণ করা তার দলটি বাংলাদেশে আসবে পুরোপুরি মানবিক প্রয়োজনে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে তার বহরকে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি এও জানান, পুরো বিষয়টিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে, তিনি যদি অনুমতি না দেন, তার কিছুই করার নেই।

প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি জেনারেল স্ট্যাকপোলকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছিলেন। স্ট্যাকপোল পুরো মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনা দল ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মিলে সূচনা করেন নতুন এক ইতিহাসের। ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’ নামের এই মিশন বিশ্ব ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত বৃহত্তম ও সফল এক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের উপকূল। ছবি: সংগৃহীত
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের উপকূল। ছবি: সংগৃহীত

সেই সময় ঢাকার রাস্তায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত হামভি সামরিক যান দেখে অবাক হয়ে যেতেন মানুষ। ঢাকা বিমানবন্দরে বহরের অনেক যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছানোর পর সেসব শহরের রাস্তা দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হতো। ৩৫ বছর আগের সেই স্মৃতি এখনো অনেকের কাছে তাজা।

ইউএস মেরিন ক্রপসের ‘হিস্টরি অ্যান্ড মিউজিয়াম ডিভিশন’ থেকে প্রকাশিত চার্লস আর স্মিথের লেখা ‘অ্যাঞ্জেলস ফ্রম দ্য সি: রিলিফ অপারেশন ইন বাংলাদেশ’ নামের বইতে এই অভিযানের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।

সে সময় বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ছিলেন উইলিয়াম বি মাইলাম। ছবি: সংগৃহীত
সে সময় বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ছিলেন উইলিয়াম বি মাইলাম। ছবি: সংগৃহীত

সেই বইতে উল্লেখ করা হয়, উপদ্রুত এলাকা ঘুরে আসার পর সমন্বিত ত্রাণব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জেনারেল স্ট্যাকপোল ঢাকায় যান। এরপর বৈঠক করেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুরুদ্দিন খান, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গে। ত্রাণ তৎপরতাও শুরু হয় দ্রুত। মেরিন সেনাদের হেলিকপ্টার ও উভচর যানগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সন্দ্বীপ, ভোলা, হাতিয়া, বাঁশখালীসহ ঘূর্ণিবিধ্বস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে যেতে শুরু করে।

সে সময়কার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে স্ট্যাকপোল বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল দুর্গত মানুষদের মৃত্যু প্রতিরোধ করা; দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল খাদ্য, পানি, ওষুধ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা; অর্থাৎ যত বেশি পারা যায় মানুষের জীবন বাঁচানো।’

অপারেশন সি অ্যাঞ্জেলে ব্যবহার করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক হেলিকপ্টার, জলে–স্থলে একই সঙ্গে চলাচল উপযোগী এলসিএসি (ল্যান্ডিং ক্রাফট এয়ার কুশন)। তারা আরও একটা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল সেই অপারেশনে, সেটি ছিল লবনাক্ত পানিকে খাবার পানিতে রুপান্তর করার যন্ত্র।

পত্রিকার পাতায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের খবর। ছবি: সংগৃহীত
পত্রিকার পাতায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের খবর। ছবি: সংগৃহীত

চার্লস আর স্মিথের লেখা বইয়ে উল্লেখ আছে, অপারেশন সি অ্যাঞ্জেলের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছানো হয়েছিল। এই খাদ্যের পরিমাণ ছিল চার হাজার টন। ২৬৬ হাজার গ্যালন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১৫ হাজার গুরুতর অসুস্থ মানুষকে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালে রেখে দেওয়া হয়েছিল চিকিৎসা। সব মিলিয়ে সেই অভিযান না হলে আরও অন্তত ২ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটত বলে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।’

২০০৭ সালে সিডর নামের আরেক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল। তবে ১৯৯১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া বাংলাদেশ সেই ঝড় মোকাবিলায় ছিল অনেক বেশি প্রস্তুত। সে কারণে ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর পরিমাণও ছিল অনেক কম। সেবারও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনারা বাংলাদেশে এসেছিলেন ত্রাণ কার্যক্রমে। ১৯৯১ সালের কথা স্মরণ করেই সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল–২।

১৯৯১ সালে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে জেনারেল স্ট্যাকপোলরা যখন ফিরে যান, তাদের আবেগঘণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্ট্যাকপোল বলেছিলেন, ‘‘আমরা সমুদ্রে গিয়েছিলাম মানুষকে মারতে আর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে। কিন্তু পুরো উপসাগরীয় যুদ্ধে আমাদের একটি গুলিও চালাতে হয়নি। অথচ আমরা বহরের সবকিছু ব্যবহার করেছি বাংলাদেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং একটি দেশকে পুনর্গঠনে সাহায্য করতে।”

লাখো মানুষের জীবন বাঁচানো অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়।

বিষয়: আমেরিকাবাংলাদেশঘূর্ণিঝড়মার্কিন সেনাপ্রাকৃতিক দুর্যোগত্রাণমৃত্যু
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।