Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ইরানের অদৃশ্য কমান্ডো বাহিনী

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০৩
ইরানের অদৃশ্য কমান্ডো বাহিনী

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট নামই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে– কুদস ফোর্স। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের প্রসঙ্গে এই ইউনিটটি প্রায় প্রতীকী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্বল্পমেয়াদি সংঘাত, হঠাৎ আঘাত বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক প্রতিরোধ কাঠামো অনেক বেশি বিস্তৃত, জটিল এবং বহুস্তরীয়। এই কাঠামো একক কোনো ‘এলিট ফোর্স’-নির্ভর নয়; বরং এটি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সমন্বয়ে, যা ইরানকে একটি স্থায়ী প্রস্তুতিমূলক অবস্থায় রাখে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইরানের এই মডেলের কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), বিশেষ করে এর স্থলবাহিনী। এখানে ‘সাবেরিন’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে, যা অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট ইউনিট হিসেবে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবে এটি একটি কার্যকরী শ্রেণি বা ক্যাটাগরি। অর্থাৎ, সাবেরিন কোনো একক বাহিনী নয়; বরং এটি বিশেষ অপারেশন সক্ষমতা সম্পন্ন একাধিক ইউনিটের সমষ্টিগত ধারণা, যেগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ইউনিট পাহাড়ি এলাকা, সীমান্ত অঞ্চল কিংবা জটিল ভূখণ্ডে অভিযান পরিচালনায় দক্ষ এবং হেলিবোর্ন অপারেশন, দ্রুত আক্রমণ ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।

এই ইউনিটগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো–এগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে কোথাও জমা রাখা হয়নি। বরং ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে এগুলো স্থায়ীভাবে অবস্থান করে, স্থানীয় পরিবেশ ও হুমকির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। ফলে কোনো হঠাৎ আক্রমণ বা সীমিত সংঘর্ষের ক্ষেত্রে দ্রুত জবাব দেওয়া সম্ভব হয়। পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর মতো এরা ‘দূর থেকে এসে অভিযান চালিয়ে ফিরে যাওয়া’ মডেলে কাজ করে না; বরং ‘স্থায়ী উপস্থিতি’ ভিত্তিক একটি প্রতিরক্ষা দর্শন অনুসরণ করে।

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে মার্কিন পাইলটরা যে কৌশল অবলম্বন করেF-15

আইআরজিসির ভেতরে আরও কিছু বিশেষ ব্রিগেড রয়েছে, যেমন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সালমান ফার্সি ব্রিগেড, যেগুলো স্থানীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিরোধের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এসব ইউনিট সাধারণত জনসমক্ষে খুব বেশি আলোচিত নয়, কিন্তু বাস্তবিক অপারেশনে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা স্থানীয় দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে ইরানের বিশেষ বাহিনী কেবল আইআরজিসি-তেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত সেনাবাহিনী বা আরতেশের মধ্যেও একটি আলাদা ঐতিহ্য বিদ্যমান। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্স ব্রিগেড, যা ‘নোহেদ’ নামে পরিচিত। এই ইউনিটটি পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর কাছাকাছি কাঠামোর–এরা এয়ারবর্ন, সরাসরি আক্রমণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রশিক্ষিত। ২০১৬ সালে সিরিয়ায় তাদের সীমিত মোতায়েনের তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, প্রয়োজনে ইরান তার নিয়মিত বাহিনীকেও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতে পারে।

তবে ইরানের সামরিক কৌশল বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নৌ-অঞ্চল। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিশেষ বাহিনী সবচেয়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান। আইআরজিসি নৌবাহিনীর অধীনে একটি বিশেষ ইউনিট রয়েছে, যা সামুদ্রিক কমান্ডো হিসেবে কাজ করে। তারা ডাইভিং, জাহাজে ওঠা, এবং জলপথে দ্রুত হামলার জন্য প্রশিক্ষিত। এই ইউনিটগুলো উপসাগরের দ্বীপগুলোতে অবস্থান করে এবং ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কৌশলের মূল অংশ হিসেবে কাজ করে।

এই সামুদ্রিক সক্ষমতা ইরানের বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতাকে তুলে ধরে। বড় আকারের প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে ইরান সীমিত, ভৌগোলিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন অপারেশনকে অগ্রাধিকার দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ বা বাধা সৃষ্টি করার ক্ষমতা ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সুবিধা দেয়।

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে কী আছে, যুক্তরাষ্ট্রে কি মানবে?iran-america-flag-update

এখানে একটি বড় ভুল ধারণা হলো– ইরানের জন্য পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর মতো একটি ‘সিঙ্গেল আইকনিক ইউনিট’ খোঁজা। বাস্তবে, ইরানের সামরিক কাঠামো এই ধরনের প্রতীকী শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং তারা একটি সমন্বিত ও বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রতিটি স্তর একে অপরকে সহায়তা করে।

এই ব্যবস্থায় বাসিজ বাহিনীও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও বাসিজকে সাধারণত একটি গণ-সংগঠন বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে দেখা হয়, এর কিছু ইউনিট, যেমন ফাতেহিন–উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বিশেষ অপারেশনে অংশ নিতে সক্ষম। তারা স্থানীয় জ্ঞান, জনবল এবং দ্রুত জবাব দিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। বাস্তব পরিস্থিতিতে, কোনো হামলার ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিক্রিয়া অনেক সময় এই বাসিজ ইউনিট থেকেই আসে।

সব মিলিয়ে, ইরানের সামরিক কাঠামো একটি ‘লেয়ার্ড ডিফেন্স সিস্টেম’ বা বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা মডেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রথমে স্থানীয় ইউনিটগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এরপর সাবেরিন ধরনের মোবাইল ইউনিটগুলো শক্তি জোগায়, এবং প্রয়োজনে উচ্চতর পর্যায়ের বাহিনী– যেমন নোহেদ বা নৌ কমান্ডো মোতায়েন করা হয়। এই ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া কাঠামো ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এই মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্থায়িত্ব এবং অভিযোজন ক্ষমতা। এটি দৃশ্যমান নয়, কিন্তু কার্যকর। এটি কেন্দ্রীভূত নয়, কিন্তু সমন্বিত। এটি নাটকীয় নয়, কিন্তু ধারাবাহিক। এই কারণেই ইরানের বিশেষ বাহিনীকে অনেক সময় দুর্বল বা অপ্রকাশ্য মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি অত্যন্ত টেকসই এবং প্রতিরোধক্ষম কাঠামো।

বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার সময়ে, এই কাঠামো ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা দেয়। কারণ, এটি শুধু একটি যুদ্ধ জয়ের জন্য নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী চাপ সহ্য করে টিকে থাকার জন্য তৈরি।

অতএব, ইরানের সামরিক শক্তি বোঝার জন্য কুদস ফোর্সের বাইরে তাকাতে হবে। প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে এই বিস্তৃত, বহুস্তরীয় এবং সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে– যা দৃশ্যমান না হলেও বাস্তবিক অর্থে অনেক বেশি কার্যকর এবং কঠিন প্রতিপক্ষ।

(দ্য ক্রেডেল অবলম্বনে)

বিষয়: আইআরজিসিইরানমধ্যপ্রাচ্যসশস্ত্র বাহিনীযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।