চরচা ডেস্ক

ডিপ স্টেট। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা রাজনৈতিক পরিসরে প্রায়ই এই কথা বলতে শুনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শব্দটির আবারও চর্চা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ডিপ স্টেটই একটি দলকে হারিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু এই ডিপ স্টেট আসলে কি? কীভাবে কাজ করে?
ডিপ স্টেট হলো বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্র বিশেষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (যেমন আর্থিক সেবা ও প্রতিরক্ষা শিল্প) সমন্বয়ে গঠিত একটি তথাকথিত গোপন নেটওয়ার্ক, যা সরকারি নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে আইন বহির্ভূতভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিবর্গ ও বহুজাতিক সম্পর্ক ও স্বার্থ জড়িত থাকে।
ডিপ স্টেট শব্দটা মূলত আমেরিকাতেই বেশি ব্যবহার হওয়া শুরু হয়েছিল।
মার্কিন পণ্ডিতরা প্রায়শই 'ডিপ স্টেট' শব্দটিকে সামরিক আমলাতন্ত্র এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে সেই অংশগুলোকে বোঝাতে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করে দেয়।
১৯২৩ সালে তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকাঠামো ধরে রাখার চেষ্টায় সামরিক গোয়েন্দা, আমলাতন্ত্রসহ কিছু শক্তি বা নেটওয়ার্ক সেদেশে একটি সমান্তরাল ছায়ারাষ্ট্র গড়ে তোলার পর ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। অতঃপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, সিআইএ ইত্যাদি গোয়েন্দা সংস্থা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
আমেরিকান ডিপ স্টেট প্রভাবশালী করপোরেট শক্তি বা করপোরেশন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, ব্যাংকিং সেক্টর, সামরিক শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করাসহ জনগণের মনোভাব এবং ধারণা প্রভাবিত করতে গণমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটকে সরকারি-বেসরকারি স্বার্থের মিশ্রণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৬ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে রাশিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল, তখন থেকেই তাদের সাথে ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার দলের সাথে রাশিয়ার যোগসূত্র নিয়ে গোয়েন্দাদের মূল্যায়নকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তখন তিনি অতীতের গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য তাদের তিরস্কার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করার বিষয়টিকে নাৎসি জার্মানির কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করেছেন।
ট্রাম্পের সমর্থকরা তার প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর এই সব গোপন তথ্য ফাঁসকে ডিপ স্টেট হিসেবে তুলে ধরেন। অভিযোগ করা হয়, অনির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। (উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নিজে প্রকাশ্যে এই শব্দটি ব্যবহার করেননি)।
এবার, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেখলাম নির্বাচন নিয়ে সব পক্ষই তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যখন বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফল জানাতে শুরু করে, এবং সম্ভাব্য বিজয়ী কে তা বোঝা গেল, তখন থেকেই সম্ভাব্য বিজিতদের মধ্যে থেকে এই ‘নির্বাচন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র’- এই রব উঠলো।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিষ্ট, মেরিয়াম-ওয়েবস্টার

ডিপ স্টেট। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা রাজনৈতিক পরিসরে প্রায়ই এই কথা বলতে শুনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শব্দটির আবারও চর্চা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ডিপ স্টেটই একটি দলকে হারিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু এই ডিপ স্টেট আসলে কি? কীভাবে কাজ করে?
ডিপ স্টেট হলো বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্র বিশেষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (যেমন আর্থিক সেবা ও প্রতিরক্ষা শিল্প) সমন্বয়ে গঠিত একটি তথাকথিত গোপন নেটওয়ার্ক, যা সরকারি নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে আইন বহির্ভূতভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিবর্গ ও বহুজাতিক সম্পর্ক ও স্বার্থ জড়িত থাকে।
ডিপ স্টেট শব্দটা মূলত আমেরিকাতেই বেশি ব্যবহার হওয়া শুরু হয়েছিল।
মার্কিন পণ্ডিতরা প্রায়শই 'ডিপ স্টেট' শব্দটিকে সামরিক আমলাতন্ত্র এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে সেই অংশগুলোকে বোঝাতে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করে দেয়।
১৯২৩ সালে তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকাঠামো ধরে রাখার চেষ্টায় সামরিক গোয়েন্দা, আমলাতন্ত্রসহ কিছু শক্তি বা নেটওয়ার্ক সেদেশে একটি সমান্তরাল ছায়ারাষ্ট্র গড়ে তোলার পর ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। অতঃপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, সিআইএ ইত্যাদি গোয়েন্দা সংস্থা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
আমেরিকান ডিপ স্টেট প্রভাবশালী করপোরেট শক্তি বা করপোরেশন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, ব্যাংকিং সেক্টর, সামরিক শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করাসহ জনগণের মনোভাব এবং ধারণা প্রভাবিত করতে গণমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটকে সরকারি-বেসরকারি স্বার্থের মিশ্রণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৬ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে রাশিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল, তখন থেকেই তাদের সাথে ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার দলের সাথে রাশিয়ার যোগসূত্র নিয়ে গোয়েন্দাদের মূল্যায়নকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তখন তিনি অতীতের গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য তাদের তিরস্কার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করার বিষয়টিকে নাৎসি জার্মানির কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করেছেন।
ট্রাম্পের সমর্থকরা তার প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর এই সব গোপন তথ্য ফাঁসকে ডিপ স্টেট হিসেবে তুলে ধরেন। অভিযোগ করা হয়, অনির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। (উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নিজে প্রকাশ্যে এই শব্দটি ব্যবহার করেননি)।
এবার, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেখলাম নির্বাচন নিয়ে সব পক্ষই তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যখন বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফল জানাতে শুরু করে, এবং সম্ভাব্য বিজয়ী কে তা বোঝা গেল, তখন থেকেই সম্ভাব্য বিজিতদের মধ্যে থেকে এই ‘নির্বাচন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র’- এই রব উঠলো।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিষ্ট, মেরিয়াম-ওয়েবস্টার