Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ
ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

ভারতের ধর্মান্তরবিরোধী আইন: স্বাধীনতা নাকি হস্তক্ষেপ?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৫৮
ভারতের ধর্মান্তরবিরোধী আইন: স্বাধীনতা নাকি হস্তক্ষেপ?

চামরু রাম সালাম কবরে গিয়েও শান্তি পাননি। খ্রিস্টান রীতিতে তাকে কবরস্থ করায় একদল লোক বিক্ষোভ শুরু করলে, পুলিশ তার মরদেহ তুলে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায়। মৃত ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আদিবাসী প্রথার টানাপোড়েনে চামরু রাম সালামের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি গ্রাম্য বিবাদে রূপ নেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে এ ধরনের আরও কিছু ঘটনার রোমহর্ষক ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়েছে। খ্রিস্টান পদ্ধতিতে কবর দেওয়া বন্ধ করতে স্থানীয়রা বেশ কিছু প্রার্থনালয় ভাঙচুর করেছে, ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সেই মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংঘাতের পেছনে ‘ঘর ওয়াপসি’ (হিন্দিতে যার অর্থ ঘরে ফেরা) আন্দোলন কাজ করছে। শুনতে বেশ ইতিবাচক মনে হলেও এর প্রভাব বেশ ভয়াবহ।

‘ঘর ওয়াপসি’–এর মূল ধারণা হলো, যেহেতু মৃত ব্যক্তির পূর্বপুরুষেরা মূলত হিন্দু ছিলেন, তাই ইসলাম বা খ্রিস্টধর্মের মতো ‘বিদেশি’ ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া তাদের ‘আসল’ ভারতীয় পরিচয়কে অস্বীকার করার শামিল। বাদেতেভদা গ্রামে এই ভীতিকর কৌশলগুলো কাজে দিয়েছে। সাতটি খ্রিস্টান পরিবার হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত মার্চ মাসে ছত্তিশগড় রাজ্য ভারতের অন্যতম কঠোর ধর্মান্তরবিরোধী আইন পাস করেছে। অন্যান্য জায়গার মতো এটিকেও ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন নামে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে ‘ঘর ওয়াপসি’-কে কোনোভাবেই ধর্মান্তর হিসেবে দেখা হয় না।

গত মাসে মহারাষ্ট্রও এমন একটি আইন পাস করেছে, যার ফলে ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৪টিতেই এখন এই ধরনের আইন বিদ্যমান। ২০১৭ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে এই নতুন ও আক্রমণাত্মক আইনগুলো পাস করা হচ্ছে। এই আইনগুলো ব্যক্তিগত জীবনে সরকার ও পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিচ্ছে, কঠোর শাস্তির বিধান রাখছে এবং বিয়ের অধিকারকে সংকুচিত করছে।

এই আইনের একটি মূল দিক হলো ধর্মান্তরের জন্য প্রলোভন দেখানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। এটি প্রচারণার প্রায় সব মাধ্যমকেই আওতায় নিয়ে আসতে পারে। এই আইনের অধীনে ধর্মান্তরিতদের উন্নত জীবনযাত্রার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবৈধ। যার একটি লক্ষ্য হলো নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের ক্ষোভকে কাজে লাগানো বন্ধ করা।

যারা ধর্ম পরিবর্তন করতে চান, তাদের কয়েক মাস আগে নোটিশ দিতে হবে এবং জনসমক্ষে নিবন্ধন করতে হবে। অন্য নাগরিকেরা এতে আপত্তি জানাতে পারবেন, সেই আপত্তির ফলে পুলিশি তদন্ত শুরু হবে। সেখানে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বাধ্য হয়ে ধর্ম পরিবর্তন করছেন না। ছত্তিশগড়ে গণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রায় ২৬ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এই আইনগুলো দুর্বল জনগোষ্ঠীকে চাপ ও প্রতারণা থেকে রক্ষা করবে। ছত্তিশগড়ে তাদের মতে, খ্রিস্টধর্ম একটি বিপদ এবং আদিবাসী সংখ্যালঘূরা এর শিকার। রাজ্যের পুলিশ প্রধান অরুণ দেব গৌতম দাবি করেন, ধর্মান্তর এখানে অত্যন্ত গোপন এবং সুশৃঙ্খলভাবে ঘটছে।

তিনি খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরকে তার রাজ্যের অন্যতম বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। গৌতমের উদ্বেগ হলো, খ্রিস্টানরা সেই সব সহজ-সরল মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে যারা ধর্মান্তরের প্রকৃত অর্থ বোঝেন না।

অন্যান্য স্থানে একটি সাধারণ ভীতি হলো ‘লাভ জিহাদ’। এটি একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব যেখানে অভিযোগ করা হয় যে মুসলিম পুরুষেরা হিন্দু নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত করছে, যাতে ভারতের জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য মুসলিমদের অনুকূলে নেওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, মহারাষ্ট্রের আইনটিতে বিয়ের মাধ্যমে অবৈধ ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বিয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের অভিযোগ করার সুযোগ দিয়েছে এবং নির্দেশ দিয়েছে যে এ বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের মায়ের ধর্ম গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুর্বলদের রক্ষা করার পরিবর্তে, ভারতের এই ধর্মান্তরবিরোধী আইনগুলো মানুষের জীবনে অনধিকার চর্চা শুরু করেছে। ছত্তিশগড়ের এক তরুণ খ্রিস্টান যাজক কমলেশ ধ্রুব বলেন, বিজেপি জনগণকে বশীভূত করতে চায়—তারা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এই কমলেশ ধ্রুব নিজের গ্রামের মানুষের হামলার শিকার হয়েছেন। সেই হামলার চিহ্ন রয়েছে কমলেশের প্রার্থনা কক্ষের ছাদে। হামলার সম বিজেপি কর্মীরা নাকি সেখানে পাহারায় ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মান্তরবিরোধী আইনগুলো শিগগিরই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খতিয়ে দেখছে যে এই আইনগুলো গোপনীয়তার অধিকার এবং বিবেকের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করছে কি না।

বিষয়: ধর্ম ও জীবনবিজেপিপুলিশসরকারভারত
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড

  • বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর কথা মনে আছে? আগে বলে নেওয়া দরকার সফট ল্যান্ডিং কী? ‘সফট ল্যান্ডিং’ বলতে বোঝায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রিত ও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, যাতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, কিন্তু অর্থনীতিতে মন্দা দেখা না দেয় বা বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি না হারান।