Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

বিএনপির জয় কি ভূরাজনীতি বদলে দেবে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ১১
বিএনপির জয় কি ভূরাজনীতি বদলে দেবে?

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের এই ফলাফল শেখ হাসিনা আমলের পররাষ্ট্রনীতি থেকে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ফল ঘোষণার পরপরই ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ ফলাফলকে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ‘নতুন মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই শিক্ষক আল জাজিরাকে বলেন, “নতুন সরকার সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশলসহ একটি নীতিগত কাঠামো উপস্থাপন করতে পারে। ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা এবং চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে রয়ে যাবে।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কি পুনর্গঠিত হবে?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি টেলিফোনেও তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এক্স পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক বিজয়ের অভিমুখে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনাব তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই বিজয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। ছবি: সংগৃহীত

অন্য এক পোস্টে মোদি জানান, তিনি টেলিফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নয়াদিল্লি। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখেছিল ভারত।

এবারই কি সবচেয়ে বড় জয় পেল বিএনপিTarique Rahman_BNP

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার সরকার পতন হয়। এরপর ভারতে নির্বাসনে যান শেখ হাসিনা। এতে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। পারস্পরিক অভিযোগ, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং ২০২৪ সালের সহিংস বিক্ষোভ মোকাবিলার ঘটনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডাদেশ সত্ত্বেও হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের অস্বীকৃতি—এসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ায়।

এরপর অবশ্য হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছে ভারত। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন। তার ছেলে তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে।

অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “অতীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভারতের রয়েছে। ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করতেও ভারত আগ্রহ দেখিয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ায় সেই সম্ভাবনা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।”

আমেরিকার জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূরাজনীতি বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী বলেন, বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেশ অনুপ্রেরণা পাবে, যদিও শেখ হাসিনার সময়কার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মাত্রা পুনরায় তৈরি করা সম্ভব নাও হতে পারে।

আল জাজিরাকে আসিফ বলেন, “পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকারচর্চা না করার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতকে আরও সতর্ক ও মধ্যপন্থী অবস্থানে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্র বজায় থাকবে।”

তবে হাসিনা ইস্যু ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে। এরমধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীসহ পানিবণ্টন বিরোধ, সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে হতাহতের ঘটনা এবং ভারতের পক্ষে বড় বাণিজ্য ঘাটতি।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে ভারতবিরোধী মনোভাবের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের ওপর নয়াদিল্লির প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার চাপ থাকতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ ভারতের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিএনপি কতদূর এগোবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সালেহ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের বিএনপি খালেদা জিয়ার বিএনপি থেকে আলাদা।”

নির্বাচন কি প্রকৌশলবিদ্যা থেকে মুক্তি পেল?vote ballot

পাকিস্তানমুখী কূটনীতি?

ভারতের জন্য যেখানে অনিশ্চয়তা, সেখানে পাকিস্তান সুযোগ দেখছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু, উচ্চপর্যায়ের বেসামরিক ও সামরিক সফর বিনিময় এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার এলে এই গতি আরও বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও কূটনীতিক সালমান বশির আল জাজিরাকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের নির্বাচন ‘আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ভারতঘেঁষা অবস্থানের সমাপ্তি’ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের’ ইঙ্গিত বহন করে।’’

সালমান বশির বলেন, “বাংলাদেশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। পাকিস্তানের উচিত ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার বর্তমান নীতি অব্যাহত রাখা।”

গত মাসে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, বাংলাদেশকে পাকিস্তানে নির্মিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।

সালমান বশির বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীন আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

সাবেক এই পাকিস্তানি কূটনীতিক আরও বলেন, “পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি বাংলাদেশ আরও স্বাধীন নীতি গ্রহণ করতে পারে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এতে এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাবশালী অবস্থানের পরিবর্তন ঘটতে পারে।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। ছবি: সুদীপ্ত সালাম
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। ছবি: সুদীপ্ত সালাম

তবে অন্য বিশ্লেষকেরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বলে যে ভারতই তার প্রধান প্রতিবেশী হিসেবে থাকবে।”

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রভীন দন্তি মনে করেন, ঢাকা বেইজিং ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে এবং ইসলামাবাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে পারে। তার মতে, ভারত কৌশলগত ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, যদিও নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনে সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক শাহাব এনাম খান বলেন, বিএনপি ইসলামাবাদ ও দিল্লি-উভয়ের প্রতিই ‘আরও লেনদেনভিত্তিক’ কৌশল নেবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক প্রতিবেশী হিসেবে পাকিস্তান আরও স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা থেকে উপকৃত হবে।”

বাংলাদেশে কি পরিবর্তন আনতে পারবেন তারেক?tarek-rahman-press-breif

চীনের সঙ্গে নতুন অধ্যায়?

আসন্ন সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হতে পারে চীনের সঙ্গে।

শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল বেইজিং। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন যাই হোক, চীন তার অবস্থান শক্ত রেখেছিল।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অবকাঠামো বিনিয়োগ ও সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

হাসিনা-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারও প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান নিশ্চিত করে। প্রধান উপদেষ্টাসহ উচ্চপর্যায়ের সফরও অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার ঢাকায় চীনা দূতাবাস বিএনপিকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায় রচনায়’ কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দলটি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে।’’ তবে এই অঞ্চলে চীনের বাড়তি উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আপত্তির মুখেও বাংলাদেশকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে বলেও ‍উল্লেখ করেন তিনি।

আসিফ বিন আলীর মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হবে-যেসব ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে সহায়ক, সেখানে চীনা বিনিয়োগ ও সংযোগ প্রকল্প বজায় রাখা। পাশাপাশি চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও নীতিনির্ভর করা।

এই বিশ্লেষক বলেন, “ঢাকা যদি তার অগ্রাধিকার ও সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিরাপত্তার বদলে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সীমিত রাখে, তবে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে নিজস্ব কৌশলগত পরিসর রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

সূক্ষ্ম ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ

দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তারেক রহমানকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালেহ শাহরিয়ার।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ ফাস্ট’ নীতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শাহরিয়ার বলেন, “বাস্তবতা হলো, একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চীন, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। আসন্ন সরকারের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।”

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের শাহাব এনাম খান বলেন, ‘‘নতুন সরকারকে কূটনীতিতে বক্তব্যনির্ভর অবস্থানের পরিবর্তে ‘বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করতে হবে।’’

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রভীন দন্তি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের রায় দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য, এ অঞ্চল আর ‘কোনো একটি শক্তির একচেটিয়া প্রভাবক্ষেত্র’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অবস্থায় নেই। পররাষ্ট্রনীতি সাধারণত হঠাৎ বদলে যায় না বরং ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়।

এই বিশ্লেষক বলেন, “ভারত ও চীনের মধ্যে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় ছোট ছোট, ধীরগতির সমন্বয় দেখা যেতে পারে, যেমনটি শেখ হাসিনার আমলেও আংশিকভাবে দেখা গেছে। পাশাপাশি ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও সক্রিয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং সীমিত পরিসরে হলেও ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করবে।”

বিষয়: পাকিস্তানভূরাজনীতিনির্বাচনভোটাধিকারত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোটচীনভারত
সর্বশেষ
  • ১

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

  • ২

    খুলনা বিভাগে হাম-ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • ৩

    নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে না, তেলের দামও কমবে না: ট্রাম্প

  • ৪

    মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ

  • ৫

    সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।