Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

কীভাবে আফগানিস্তান চালাচ্ছে তালেবানরা?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১: ২৯
কীভাবে আফগানিস্তান চালাচ্ছে তালেবানরা?
আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী কাবুলে আয়োজিত কুচকাওয়াজে তালেবানের সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

একটি ছেলের ভাঙা হাতের চিকিৎসার জন্য টাকা দিচ্ছিলেন তালেবানের সাবেক কমান্ডার ও আফগানিস্তানের উত্তরের গভর্নর আবদুল্লাহ সারহাদি। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের জন্যও অর্থ দেন। এরপর তার অফিসে ঘটে অবাক করার মতো একটি ঘটনা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এক তরুণী সারহাদিকে বলেন, তিনি তার স্বামীকে তালাক দিতে চান। তার স্বামী কয়েক মাস ধরে তাকে নির্যাতন ও মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন ওই তরুণী।

আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী শান্ত ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের কথা বলেন। তার পুরো মুখ ছিল নেকাবে ঢাকা, চোখে ছিল সানগ্লাস। তিনি বলেন, “একসঙ্গে থাকার কোনো সুযোগ থাকলে আমি এখানে আসতাম না… আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গভর্নর প্রথমে তাকে তালাক না দেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে তিনি বলেন, নারীরা ‘বুদ্ধিহীন’ এবং ‘বুদ্ধিতে ঘাটতি আছে’। এ কথা শুনে তার আশপাশে থাকা পুরুষ কর্মকর্তা, নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় বয়স্ক ব্যক্তিরা হাসতে থাকেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে তালেবান শাসনের এই চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালে মার্কিন সমর্থিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালেবান। বিবিসি বলছে, তালেবানদের ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পরও দেশটিতে নারীদের ওপর নানা কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সময়ে বেশিরভাগ চাকরি থেকে নারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একা কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন না, এমনকি পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রেও যেতে পারে না।

আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন তালেবানেরMembers of the Taliban participate in a rally to mark five years in power, in Kabul, August 15, 2026–Reuters

বিশেষ প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য দুই বছর ধরে তালেবানের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যারা একসময় আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করতেন বা বছরের পর বছর গোপন আস্তানায় লুকিয়ে থাকতেন। এখন তারা সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষী।

ক্ষমতায় আসার সময় তালেবান বলেছিল, তারা বদলে গেছে। কিন্তু তাদের অনেক নীতি এখনও ১৯৯০-এর দশকে চালু করা শরিয়াহ আইনের কঠোরতার মধ্যেই আবদ্ধ।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলা তালেবান সদস্যরা নিজেদের যুক্তিবাদী ও স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে অতীতে তাদের চালানো সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে তারা আগ্রহী ছিলেন না। তাছাড়া তালেবান শাসক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও দূরত্বের কিছু ঘটনাও বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসে ওই তরুণীর ঘটনায় ফেরা যাক। প্রতিবেদনে তুবা ছদ্মনামে অভিহিত হয়েছে তাকে। গভর্নর তুবাকে তার স্বামীর সঙ্গে সংসার চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সারহাদি বলেন, “নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘আমি তালাক নেওয়ার পর কে আমাকে বিয়ে করবে?’ আপনাকে অনেক কিছু মেনে নিতে হবে, না হলে আপনার সম্মান ও মর্যাদা নষ্ট হবে।”।

তুবা জবাব দেন, “গভর্নর সাহেব, আমার সম্মান ও মর্যাদা তো এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।” তার স্বামীও সেখানে ছিলেন এবং নিজের কথা বলার অপেক্ষায় ছিলেন।

শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, কোনো নারী স্বামীর সম্মতিতে তালাক চাইলে বিয়ের সময় স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া কিছু বা পুরো অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত আর্থিক সমঝোতা হয়। কিন্তু ওই তরুণীর স্বামী তার দেওয়া অর্থের চার গুণ ফেরত চান। তুবার পরিবার এতে রাজি নয়।

গভর্নর বলেন, তুবাকে আলাদা একটি ঘর দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তারা তার স্বামীকে সতর্ক করবেন, যেন তিনি স্ত্রীকে মারধর না করেন। তা না হলে তাকে জেলে যেতে হবে।

তবে তুবা এতে সন্তুষ্ট হননি। পরে তার বাবা বিবিসিকে বলেন, পরিবার আদালতের মাধ্যমে তালাক নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদিও তালেবানের আদালত ব্যবস্থায় স্বামীর সম্মতি ছাড়া কোনো নারীর তালাক পাওয়া খুব কঠিন।

তালেবান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ কেন জরুরি?Taliban

তালেবান প্রথমবার ক্ষমতায় থাকার সময় ১৯৯০-এর দশকে সারহাদি একজন সামরিক কমান্ডার ছিলেন। ২০০১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিলে হাজার হাজার বিদ্রোহীর সঙ্গে তিনিও আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাকে কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক রাখা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তালেবান আবার ক্ষমতায় আসার পর সারহাদি গভর্নর হন। প্রথমে তিনি বামিয়ান প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। এরপর জুনের শেষ দিকে বিবিসি যখন তার সঙ্গে দেখা করে, তখন তিনি জওজান প্রদেশের শেবেরঘান শহরের গভর্নর ছিলেন। সম্প্রতি তিনি উত্তরের কুন্দুজ প্রদেশের একটি সামরিক বাহিনীর উপ-কমান্ডার হয়েছেন।

ছোট স্ক্রিনের পুরোনো ধরনের একটি মোবাইল ফোনে টোকা দিতে দিতে সারহাদি বলেন, কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজ ধীর হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আগে দ্রুত বার্তা পাঠানো যেত। দ্রুত নথি পাঠানো এবং উত্তরও পাওয়া যেত। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আর বেশি কথা বললে ‘সমস্যা হবে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিবিসি বলেছে, ২৫ বছর আগের তালেবানের অবস্থানের সঙ্গে তার চিন্তাভাবনার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। তখন তিনি বামিয়ানের সামরিক কমান্ডার ছিলেন। ওই সময় তালেবান বামিয়ানে প্রাচীন বিশাল বুদ্ধমূর্তি ধ্বংস করেছিল। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা হয়।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি নিয়ে বিবিসির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সারহাদি। পরে তিনি বলেন, “আমি নিজের হাতে এটি ধ্বংস করেছি। আমরা তখন যা করেছি এবং এখন যা করছি, সবই আল্লাহর নির্দেশ ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা মূর্তি বিক্রি করি না, ভেঙে ফেলি। তাহলে আমার অনুশোচনা করার কী আছে? এটা আল্লাহর ইচ্ছা ছিল।”

রাজধানী কাবুলে তালেবানের আরেকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে দেখা করেছে বিবিসি। তিনিও সহিংস অতীত থেকে এখন তালেবান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন।

হাবিবুল্লাহ বদর নামে ওই নেতা বিবিসিকে বলেন, আগে কাবুলে ‘আত্মঘাতী হামলাকারীদের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে’ ছিলেন তিনি।

বদর বলেন, “আমি কাবুলের সব রাস্তা ও গলি খুব ভালোভাবে চিনি। কাবুল ও এর অলিগলি সম্পর্কে আমাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ছিল। কিছু এলাকায় হামলা চালাতে দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করতে হতো।”তালেবানের আত্মঘাতী হামলায় আফগানিস্তানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক সাধারণ মানুষও ছিলেন।

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলায় নিহত ৪০০, দাবি তালেবানেরAfganistan

তবে নিজের অতীত নিয়ে কথা বলতে বদর খুব সতর্ক। বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তালেবান মূলত মার্কিন সেনাদের গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালাত এবং বিদেশি ঘাঁটির কাছ থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকতে বলা হতো। কিন্তু বেসামরিক এলাকায় হওয়া নির্দিষ্ট হামলাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বারবার তা এড়িয়ে যান।

তালেবানরা আজ সফলভাবে কর ব্যবস্থা, সীমান্ত ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ছবি: রয়টার্স
তালেবানরা আজ সফলভাবে কর ব্যবস্থা, সীমান্ত ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ছবি: রয়টার্স

বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বদর সরকারি দায়িত্ব থেকে কিছুটা বিরতিতে আছেন। তবে এর আগে তিনি পুরো আফগানিস্তানের কারাগার বিভাগের উপপ্রধান ছিলেন। এমনকি আগের সরকারের সময় যে কারাগারে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে রাখা হয়েছিল, পরে তিনি সেই কারাগারের দায়িত্বও নেন।

বিবিসি প্রতিবেদনে জানা যায়, বদর একটি স্থানীয় গোত্রের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি দাতব্য সংস্থার তাকে একটি পদক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। ওই অনুষ্ঠানে সুলতান মোহাম্মদ তালায়ি নামে একজন বলেন, “বদর আফগানিস্তানের গর্ব এবং একজন বড় যোদ্ধা। তবে আমার একটি অভিযোগও আছে। স্কুল ও শিক্ষার সুযোগ যদি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকত, তাহলে আফগানিস্তানের জন্য এটি অনেক বড় কাজ হতো। আশা করি, এতে আপনি কষ্ট পাবেন না।”

এরপর সেখানে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপস্থিত লোকজন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, বুঝতে পারছিলেন না। দ্রুত তালায়ির হাত থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তালায়ি বিবিসিকে বলেন, “আমি মেয়েদের স্কুল আবার খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। ইসলাম অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন করা নারী ও পুরুষ উভয়েরই দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “আরও কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে বেশি কথা বলতে দেওয়া হয়নি।”

বোরকা না পরলে নারীদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশ তালেবানেরburqa

তবে যারা প্রকাশ্যে তালেবানের নীতির বিরোধিতা করেন, তাদের অনেকেই আরও কঠিন শাস্তির মুখে পড়েন। নারীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের অনেক স্বপ্ন ভেঙে গেছে এবং তারা গভীর হতাশায় ভুগছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করার কারণে তাদের বন্ধুদের কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

বিবিসির সঙ্গে কথা বলা বেশিরভাগ সাংবাদিক বলেছেন, তালেবানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এস্তিখবারাত’ তাদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বিবিসি এসব অভিযোগ ও উদ্বেগের বিষয়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের কাছে জানতে চেয়েছিল।

২০২১ সাল থেকে তিনি তালেবান সরকারের অন্যতম পরিচিত মুখ। তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় যে ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, এখনো সেটিই ব্যবহার করেন। তবে তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার আসল নাম তাহির শাহ সিদ্দিকি। এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে নিজের আসল নাম জানালেন।

তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দুই দিন পর ও মুজাহিদ প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তখন তিনি বিশ্বকে বলেছিলেন, তালেবান সরকার নারীদের ‘নিয়মের মধ্যে রেখে’ কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ দেবে। সমাজে নারীরা খুব সক্রিয় থাকবেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

সেই প্রতিশ্রুতি কেন রাখা হলো না– এই প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ বলেন, “শরিয়াহ অনুযায়ী নারীদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবকিছু আমাদের শরিয়াহর দৃষ্টিতে দেখতে হবে।” তিনি বলেন, তার নিজের অফিসের মতো জায়গায় নারীদের কাজ করার সুযোগ দিলে ‘অনৈতিকতা তৈরি হতে পারে’ এবং ‘তাদের সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে’। নারীদের শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আলোচনার মধ্যে আছে। এ জন্য শরিয়াহভিত্তিক সমাধান দরকার।

তালেবান কীভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমিয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুজাহিদ বলেন, “আফগানিস্তানের মতো সমাজে আমাদের কিছু বিধিনিষেধ আছে। সংবাদমাধ্যমকে যা ইচ্ছা প্রচার করতে দেওয়া যায় না। তারা ইসলামী আইন ও রীতির বিরুদ্ধে কিছু প্রচার করতে পারবে না।”

আফগানিস্তান-পাকিস্তান শান্তি আলোচনার দরজা বন্ধ: তালেবান মুখপাত্রAfghanistan-pakistan map

তালেবান সরকার কাবুলে বসে দেশ চালালেও মুজাহিদ দক্ষিণের কান্দাহার শহরে অনেক সময় কাটান। কান্দাহারকে তালেবানের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়। কেউ কেউ এখন এটিকেই কার্যত তালেবান সরকারের রাজধানী মনে করেন।

বিবিসি প্রতিবেদক জানান, কান্দাহারে এখন পুরুষদের দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক। রেডিওতে গান বাজানো বা নারীদের কণ্ঠ প্রচার করা যায় না। এমনকি শহরের ভেতর ভিডিও করতেও দেওয়া হয়নি বিবিসিকে।

জাতিসংঘের হিসাবে, আফগানিস্তানে প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনেরই মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মতো সামর্থ্য নেই। তালেবান দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পরও আফগানিস্তানের বড় সমস্যা হয়ে আছে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিজের অনুগত একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছেন। ছবি: রয়টার্স
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিজের অনুগত একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছেন। ছবি: রয়টার্স

বিবিসির সঙ্গে কথা বলা তালেবান নেতারা বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে তারা কাজ করছেন। তবে অন্য অনেক মানুষ মনে করেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাই হলো তালেবান।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর রাস্তায় প্রতিবাদ করা হোদা (আসল নাম নয়), “জীবন সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণা নেই, এমন একটি গোষ্ঠী কীভাবে হঠাৎ ক্ষমতায় চলে এল, তা নিয়ে আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। নারীরা এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারে না। তারা হয়তো আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, কিন্তু এই অবস্থা চিরকাল থাকবে না।”হোদা আরও বলেন, “আমার মনে হয়, তালেবান শিক্ষিত নারীদের ভয় পায়। এ কারণেই তারা নারীদের ওপর এত নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তারা চায় নারীরা অশিক্ষিত থাকুক, যাতে তারা জ্ঞানী ও সচেতন প্রজন্ম তৈরি করতে না পারে। কারণ সেটাই একসময় তালেবানের পতন ঘটাতে পারে।”

বিষয়: আফগানিস্তানতালেবানতালেবান শাসনশিক্ষানিষেধাজ্ঞাহামলা
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।