Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

কীভাবে শুরু হয়েছিল নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ

ইয়াসিন আরাফাত

ইয়াসিন আরাফাত

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ০৪
কীভাবে শুরু হয়েছিল নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর এশিয়াজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নিপাহ ভাইরাস আবারও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আপনি কি জানেন ঠিক কখন এবং কীভাবে নিপাহ ভাইরাস বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক সংক্রামক রোগ হিসেবে পরিচিতি পেল?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে নিপাহ ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। ১৯৯৮-৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাস প্রাদুর্ভাবটি মূলত শূকর খামারি এবং কসাইখানা কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকশ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক লাখ শূকর নিধন করা হয়েছিল।

মালয় উপদ্বীপের ‘সুঙ্গাই নিপাহ’ গ্রামের নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। নিপাহ ভাইরাস প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের হেনিপাভাইরাস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এ গোত্রে হেন্ড্রা ভাইরাসও রয়েছে। শুরুতে এই সংক্রমণকে জাপানিজ এনসেফলাইটিস রোগ হিসেবে ভুল করা হয়েছিল। পরে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন প্যাথোজেন আবিষ্কার করেন যা মানুষ এবং প্রাণীদের মধ্যে মারাত্মক এনসেফলাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ তৈরি করছিল।

ইউরেনিয়াম তোলে কীভাবে? খরচ কেমন? সময় কত লাগে?uranium

এই প্রাদুর্ভাব জুনোটিক বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে বিজ্ঞানী এবং জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি চিরতরে বদলে দিয়েছে। এটি বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশুর নিবিড় সংস্পর্শের বিপদগুলো সামনে আনে। প্রাণী ও মানুষের মধ্যকার সংযোগস্থলে নজরদারির গুরুত্বকে সামনে আনে। বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং বাংলাদেশের মতো জায়গাগুলোতে যখন নতুন করে প্রাদুর্ভাব ঘটছে, তখন মালয়েশিয়ার সেই গবেষণাগুলো বৈশ্বিক মহামারি প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

নিপাহ ভাইরাসের আদি উৎস সম্ভবত ফলখেকো বাদুড়। তারা এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। এই বাদুড়রা লালা, প্রস্রাব এবং অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। মালয়েশিয়ায় পরিবেশগত পরিবর্তন এবং বন উজাড়ের ফলে এই বাদুড়গুলো মানুষের বসতি এবং কৃষি এলাকার কাছাকাছি চলে আসে। বাদুড় যখন শূকর খামারের কাছে খাবার খুঁজত, তখন তাদের মাধ্যমে শূকরের খাদ্য বা পানি দূষিত হতো, যা শেষ পর্যন্ত গৃহপালিত শূকরের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিত।

শূকর লোকালয়ে একবার ঢুকে পড়ার পর, নিপাহ ভাইরাস সরাসরি সংস্পর্শ এবং শ্বাসযন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শূকরদের মধ্যে মৃদু বা অস্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেওয়ায় শুরুতে এটি শনাক্ত করা কঠিন ছিল।

প্রথম মানুষের মধ্যে এই সংক্রমণ দেখা দেয় শূকর খামারের কর্মী এবং পশু চিকিৎসকদের মাঝে। ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকের কেসগুলোতে জ্বর, মাথাব্যথা এবং স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে শুরুতে একে ওই অঞ্চলের পরিচিত রোগ ‘জাপানিজ এনসেফলাইটিস’ বলে মনে করা হয়েছিল। তবে রোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সত্ত্বেও যখন প্রাদুর্ভাব তীব্রতর হয়, তখন গভীরতর তদন্ত শুরু হয়।

১৯৯৯ সালের মার্চের মধ্যে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রোগীদের সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (মস্তিষ্কের রস) থেকে একটি অজানা ভাইরাস আলাদা করতে সক্ষম হন। জেনেটিক এবং কাঠামোগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি একটি প্যারামিক্সোভাইরাস, যা হেন্ড্রা ভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত হলেও একটি সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাস। গ্রামটির নামানুসারে এর নাম দেওয়া হয় ‘নিপাহ ভাইরাস’।

১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ২৮৩ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর নথিবদ্ধ করা হয়, যার মধ্যে ১০৯ জন মারা যান। অর্থাৎ মৃত্যুহার ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ছিলেন শূকর খামারি বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মী। এছাড়া সিঙ্গাপুরেও মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত শূকরের সংস্পর্শে আসা কসাইখানা কর্মীদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়েছিল, যেখানে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত খামারগুলোর ১০ লক্ষাধিক শূকর মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়। এটি করা হয়েছিল সংক্রমণের চক্রটি ভেঙে দেওয়ার জন্য। এতে শূকর শিল্পে ব্যাপক অর্থনৈতিক ধস নামলেও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এটি প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়েছিল।

‘স্বৈরাচারের’ পতনে কেন ঘুরে দাঁড়ায় না অর্থনীতিeconomy

নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে শূকররা এই ভাইরাসের একাধিক স্ট্রেন বহন করতে পারে এবং পশুপাখির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করাই এটি ছড়ানো বন্ধের মূল চাবিকাঠি। মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ফলখেকো বাদুড়ই হলো ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার। পরিবেশগত কারণে বাদুড় যখন মানুষের কাছাকাছি আসে, তখনই প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মালয়েশিয়ার প্রাদুর্ভাব জুনোটিক রোগ সম্পর্কে বৈশ্বিক ধারণাকে নতুন রূপ দিয়েছে। এটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে:

প্রাণী ও মানুষের সংযোগস্থলগুলো সংক্রমণের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।

নতুন প্যাথোজেন শনাক্ত করার জন্য বন্যপ্রাণী নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পশুপাখি নিধনের মতো কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণের ধরন কিছুটা ভিন্ন, তবুও ফলখেকো বাদুড়ের ভূমিকা এবং দ্রুত শনাক্তকরণের গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে। নিপাহ থেকে শুরু করে ইবোলা—ভবিষ্যতে যেকোনো জুনোটিক রোগ মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা আজও একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, মালয়েশিয়ান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন, ডব্লিউএইচও, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)

বিষয়: জনস্বাস্থ্যরোগভাইরাসপ্রাণীমানুষমালয়েশিয়াভারত
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।