ads

কী কী সুবিধা পান সাবেক রাষ্ট্রপতি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কী কী সুবিধা পান সাবেক রাষ্ট্রপতি
কার্টুন চরচা

তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে এবার বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোতে সই করতে হয়েছে তাকে।

Advertisement

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি উঠেছিল। ওই সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে ‘অপমান’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, না হলে পদত্যাগ করবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি তাকে সরানোর পথে যায়নি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদে নজিরবিহীন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

আইন অনুযায়ী বিদায়ী রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা, চিকিৎসার সুবিধাসহ আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা পাবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়, তা ঠিক করা আছে ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫-এ।

ওই আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে অথবা মেয়াদ শেষ হলে মৃত্যুর আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ যে মাসিক বেতন পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসর ভাতা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ হিসাবে অবসরের পর মো. সাহাবুদ্দিন মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাবেন।

আইনানুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি বা পদ থেকে অবসরে গিয়ে অবসর ভাতা গ্রহণ করলে তিনি ওই অবসর ভাতা এবং রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতার মধ্যে তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো একটি পাওয়ার যোগ্য হবেন। রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা গ্রহণ করে মারা গেলে ক্ষেত্রমতে তার বিধবা স্ত্রী অথবা বিপত্নীক স্বামী তার প্রাপ্য অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাবেন।

অবসর ভাতা গ্রহণের প্রাধিকার অর্জন করা সাবেক কোনো রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতার পরিবর্তে আনুতোষিকও (এককালীন অর্থ) গ্রহণ করতে পারবেন। এ জন্য তাকে প্রাধিকার অর্জনের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে অবসর ভাতার পরিবর্তে আনুতোষিক গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসর ভাতার তত গুণ হবে, যত বছর কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকার সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আংশিক বছরকে পুরো বছর হিসেবে গণনা করা হবে।

কোনো ব্যক্তি ছয় মাসের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় আনুতোষিক পাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত না করে অথবা অবসর ভাতা গ্রহণ না করে মারা গেলে তিনি আনুতোষিক পাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন বলে গণ্য হবে। তখন আনুতোষিকের টাকা মনোনীত ব্যক্তি অথবা উত্তরাধিকারীরা পাবেন।

অবসরে যাওয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরও কিছু সুবিধাও পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন। আইনানুযায়ী তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট (সাহায্যকারী) পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ও পাবেন, যার মোট বার্ষিক পরিমাণ সরকার নির্ধারণ করবে। একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসাসুবিধার সমপরিমাণ চিকিৎসাসুবিধাদি পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ পাবেন এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত এর বিল পরিশোধ থেকে অব্যাহতি দেবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি কূটনৈতিক পাসপোর্টও পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন। দেশের ভেতর ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন।

আইনানুযায়ী, চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের ভেতরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবেন।

আইনে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব শেষে এমন কোনো দপ্তরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত তহবিল (সংযুক্ত তহবিল) থেকে বেতন বা অন্য কোনো সুবিধা পেলে রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে না। অবসর ভাতার প্রাধিকার পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলেও ওই সব সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উচ্চ আদালত ঘোষণা করলেও সাবেক কোনো রাষ্ট্রপতি ওই সুবিধা পাবেন না।

সম্পর্কিত