চরচা ডেস্ক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেওয়ার ফলে এখন সংসদ অধিবেশনে বসতে হবে তাদের। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক হতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। এই অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি।
সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সংসদের স্পিকার। তবে এবার স্পিকার না থাকায় সংসদ কে শুরু করবেন তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে আছেন।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন।
নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ পড়ানোর কথা ছিল শিরীন শারমিন চৌধুরীর। সেটি সম্ভব না হওয়ায় গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিয়ম অনুযায়ী শপথ পড়ান।
কে সভাপতিত্ব করবেন, বিধানে কী আছে?
সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী নতুন কেনো সংসদের প্রথম কাজ স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। বিদায়ী স্পিকার অধিবেশন শুরুর পরেই নতুন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তবে স্পিকার নিজে প্রার্থী হলে তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন না। সেক্ষেত্রে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিধান রয়েছে। ওই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ ৩ এ বলা বলা আছে, “স্পীকারের পদ শূন্য হইলে বা তিনি [রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করিলে] কিংবা অন্য কোন কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া সংসদ নির্ধারণ করিলে স্পীকারের সকল দায়িত্ব ডেপুটি স্পীকার পালন করিবেন, কিংবা ডেপুটি স্পীকারের পদও শূন্য হইলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য তাহা পালন করিবেন; এবং সংসদের কোন বৈঠকে স্পীকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পীকার কিংবা ডেপুটি স্পীকারও অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।”
শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারে পরিবর্তনে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধির কথাও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের শপথ ও সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারেন।
কার্যপ্রণালি বিধির ১২ (২) বিধিতে বলা আছে, “যদি কোন সময় সংসদের কোনো বৈঠকে স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার বা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কেহই উপস্থিত না থাকেন, তাহা হইলে সচিব তাহা সংসদকে জানাইবেন এবং সংসদ একটি প্রস্তাবের মাধ্যমের সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে সভাপতিত্ব করিবার জন্য নির্বাচিত করিবেন।”
এই বিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে একজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন। তিনি প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন।
বিধি-১৩তে বলা হয়েছে, “সভাপতিত্বকালে স্পীকারের যে সকল ক্ষমতা থাকিবে, সংবিধান বা এই বিধিসমূহের অধীন সংসদের কোন বৈঠকে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পীকার বা অন্য ব্যক্তিরও সেই সকল ক্ষমতা থাকিবে এবং সংসদের সভাপতি হিসাবে স্পীকার সম্পর্কে এই বিধিসমূহে যে সকল উল্লেখ রহিয়াছে, তাহা অন্য কোন সভাপতির ক্ষেত্রেও উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে।”

অতীতের দৃষ্টান্ত
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণপরিষদের বৈঠকের সময় কার্যপ্রণালি বিধি ছিল না। গণপরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন এই প্রশ্ন উঠলে সদস্যরা মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাশীকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। তার নেতৃত্বে প্রথম অধিবেশন বসে। ওই বৈঠকেই পরে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়।
আর কী হয় প্রথম অধিবেশনে
কোনো সংসদের শুরুর অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। সর্বশেষ অধিবেশনের পরে এবং শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনের আগে যত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে সেগুলোকে সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি করা সকল অধ্যাদেশ সংসদের বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে।
কোনো সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং বছরের শুরুর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই ভাষণের ওপর আলোচনার কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে এবারের সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেওয়ার ফলে এখন সংসদ অধিবেশনে বসতে হবে তাদের। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক হতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। এই অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি।
সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সংসদের স্পিকার। তবে এবার স্পিকার না থাকায় সংসদ কে শুরু করবেন তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে আছেন।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন।
নিয়ম অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ পড়ানোর কথা ছিল শিরীন শারমিন চৌধুরীর। সেটি সম্ভব না হওয়ায় গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিয়ম অনুযায়ী শপথ পড়ান।
কে সভাপতিত্ব করবেন, বিধানে কী আছে?
সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী নতুন কেনো সংসদের প্রথম কাজ স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। বিদায়ী স্পিকার অধিবেশন শুরুর পরেই নতুন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তবে স্পিকার নিজে প্রার্থী হলে তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন না। সেক্ষেত্রে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পরিচালনা করবেন।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিধান রয়েছে। ওই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ ৩ এ বলা বলা আছে, “স্পীকারের পদ শূন্য হইলে বা তিনি [রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করিলে] কিংবা অন্য কোন কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া সংসদ নির্ধারণ করিলে স্পীকারের সকল দায়িত্ব ডেপুটি স্পীকার পালন করিবেন, কিংবা ডেপুটি স্পীকারের পদও শূন্য হইলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য তাহা পালন করিবেন; এবং সংসদের কোন বৈঠকে স্পীকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পীকার কিংবা ডেপুটি স্পীকারও অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।”
শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারে পরিবর্তনে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধির কথাও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের শপথ ও সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারেন।
কার্যপ্রণালি বিধির ১২ (২) বিধিতে বলা আছে, “যদি কোন সময় সংসদের কোনো বৈঠকে স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার বা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কেহই উপস্থিত না থাকেন, তাহা হইলে সচিব তাহা সংসদকে জানাইবেন এবং সংসদ একটি প্রস্তাবের মাধ্যমের সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে সভাপতিত্ব করিবার জন্য নির্বাচিত করিবেন।”
এই বিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে একজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন। তিনি প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন।
বিধি-১৩তে বলা হয়েছে, “সভাপতিত্বকালে স্পীকারের যে সকল ক্ষমতা থাকিবে, সংবিধান বা এই বিধিসমূহের অধীন সংসদের কোন বৈঠকে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পীকার বা অন্য ব্যক্তিরও সেই সকল ক্ষমতা থাকিবে এবং সংসদের সভাপতি হিসাবে স্পীকার সম্পর্কে এই বিধিসমূহে যে সকল উল্লেখ রহিয়াছে, তাহা অন্য কোন সভাপতির ক্ষেত্রেও উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে।”

অতীতের দৃষ্টান্ত
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণপরিষদের বৈঠকের সময় কার্যপ্রণালি বিধি ছিল না। গণপরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন এই প্রশ্ন উঠলে সদস্যরা মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাশীকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। তার নেতৃত্বে প্রথম অধিবেশন বসে। ওই বৈঠকেই পরে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়।
আর কী হয় প্রথম অধিবেশনে
কোনো সংসদের শুরুর অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। সর্বশেষ অধিবেশনের পরে এবং শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনের আগে যত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে সেগুলোকে সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি করা সকল অধ্যাদেশ সংসদের বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে।
কোনো সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং বছরের শুরুর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই ভাষণের ওপর আলোচনার কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে এবারের সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।