সুদীপ্ত সালাম

বছর ঘুরে আবার হাজির অস্কার। সেরা সিনেমাগুলোকে মনোনয়ন দেওয়া হয়ে গেছে। এবার শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। পত্রপত্রিকাগুলো এখন ব্যস্ত সেসব সিনেমার চুলচেরা বিশ্লেষণে। চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে আসতে আমরা বরং অস্কারের ইতিহাসটুকু জেনে আসি।
শুরু করা যাক এর নাম দিয়ে, শেষ করব এর অর্থমূল্য নিয়ে। পুরস্কারটির পোশাকি নাম তো একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। তাহলে, যে নামে সবাই পুরস্কারটিকে বেশি চেনে—সেই অস্কার নামটি কোথা থেকে এল?
রহস্যজনক ব্যাপার কি জানেন? প্রতিবছর এই পুরস্কার যারা আয়োজন করে—ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সেই ‘একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসও কখনো খোলাসা করেনি—এই ডাকনামটির উৎস কী। তারাও কি জানে না? এমনটি হওয়ার কথা নয়। হয়তো মানুষের আগ্রহকে উস্কে দিতেই প্রশ্নটির কোনো মীমাংসা করতে চায় না।
তাই বলে তো সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদরা বসে থাকতে পারেন না। তারা তাদের মতো করে জানার চেষ্টা করেছেন। পাকাপাকি করে কিছু বলা না গেলেও, অস্কার নামের ইতিহাস নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ‘থিউরি’ পাওয়া গেছে।
অভিনেত্রী বেটি ডেভিসের দাবি, ‘অস্কার’ নামটি তিনি দিয়েছেন। কেন? কারণ একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের পদকটি অর্থাৎ একজন পুরুষের অবয়বে গড়া সাড়ে ১৩ ইঞ্চি লম্বা ভাস্কর্যটির পেছনের অংশটির সঙ্গে নাকি তার স্বামী হারমন অস্কার নেলসনের মিল ছিল। নামকরণ নিয়ে দ্বিতীয় তত্ত্বটি সামনে আনেন কলামিস্ট সিডনি স্কোলস্কি। তিনিই নাকি ‘অস্কার’ নামটি চালু করেন। তিন নম্বর মতটি হলো, একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের লাইব্রেরিয়ান মার্গারেট হেরিক নাকি ভাস্কর্যটি দেখে মন্তব্য করেছিলেন, প্রতিমূর্তিটি দেখতে ঠিক তার চাচা অস্কারের মতো। সেখান থেকেই নাকি অস্কার নামটির শুরু। যাহোক, ১৯৩৯ সালের আগপর্যন্ত একাডেমি নামটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি।
যেভাবে শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৭ সালে। সংগঠনের অনেকগুলো কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেগুলোর একটি হলো ‘পুরস্কার কমিটি’। তবে শুরুতে এই কমিটি খুব একটা কার্যকর ছিল না। সংগঠন প্রতিষ্ঠার পরের বছর—অর্থাৎ ১৯২৮ সালের মে মাসে ১২টি বিভাগে ‘একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অব মেরিট’ নামে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
নির্বাচন যেভাবে হয়
কোন সিনেমা মনোনয়ন পাবে, কোনটি পাবে না, পুরস্কারের জন্যইবা কোন সিনেমা নির্বাচিত হবে–তা ঠিক করার এখতিয়ার একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সদস্যদের। তারা ছাড়া আর কেউ ভোট দিতে পারেন না। একাডেমিটি বিভিন্ন শাখায় ভাগ করা, যেমন-পরিচালক, লেখক (চিত্রনাট্যকার), প্রযোজক, চিত্রগ্রাহক ইত্যাদি। প্রতিটি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের কাজটি সংশ্লিষ্ট শাখার সদস্যরাই করেন। তবে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ বিভাগের জন্য মনোনয়ন দিতে একাডেমির সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন। আর প্রায় সব বিভাগের বিজয়ী নির্ধারণ করতেও সবার ভোট নেওয়া হয়।

অস্কারের প্রথম আয়োজন
পুরস্কারের প্রথম আসরটি বসেছিল ১৯২৯ সালে, লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড রুজভেল্ট হোটেলে। সেবার ১৯২৭ সালের ১ আগস্ট থেকে ১৯২৮ সালের ১ আগস্টের মধ্যে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো থেকে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়েছিল। ‘ড্রামাটিক পিকচার’ বিভাগে ‘সেভেন্থ হেভেন’-এর জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে পুরস্কার পান ফ্র্যাঙ্ক বোরজাস, ‘কমেডি পিকচার’ বিভাগে সেরা পরিচালক হন লুইস মাইলস্টোন, ‘সেরা সিনেমা’ হিসেবে সম্মানিত হয় উইলিয়াম এ ওয়েলম্যান পরিচালিত সিনেমা ‘উইংস’। সেরা অভিনেতা : ‘দ্য লাস্ট কমান্ড’ এবং ‘দ্য ওয়ে অব অল ফ্লেশ’ সিনেমার জন্য এমিল জ্যানিংস। সেরা অভিনেত্রী: ‘সেভেন্থ হেভেন’, ‘স্ট্রিট অ্যাঞ্জেল’ ও ‘সানরাইজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জ্যানেট গেনর। সেরা শিল্পনির্দেশনা: ‘দ্য ডোভ ও টেম্পেস্ট’-এর জন্য উইলিয়াম ক্যামেরন মেনজিস। সেরা চিত্রগ্রহণ: ‘সানরাইজ’ সিনেমার জন্য চার্লস রোশার ও কার্ল স্ট্রুস। সেরা অনন্য ও নান্দনিক চলচ্চিত্র: ‘সানরাইজ’। সেরা চিত্রনাট্য (অবলম্বন): ‘সেভেন্থ হেভেন’। সেরা চিত্রনাট্য (মৌলিক): ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’। আর বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে ‘দ্য সার্কাস’ ও ‘দ্য জ্যাজ সিঙ্গার’ (প্রথম সবাক চলচ্চিত্র)।
আয়োজন যেখানে হয়
২০০২ সাল থেকে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার অনুষ্ঠানটি হলিউডের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১২ সাল পর্যন্ত এই স্টুডিওর নাম ছিল ‘কোডাক থিয়েটার’। ২০০২ সালের আগে অবশ্য অন্যান্য জায়গায়ও এই অস্কারের পসরা বসেছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রাউম্যান’স চাইনিজ থিয়েটার (১৯৪৪–৪৬), মার্কুইস থিয়েটার (১৯৪৮) এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিক সেন্টার (১৯৬৯)।
বিজয়ীরা আসলে কী পায়
অনেকের মনে প্রশ্ন, অস্কার বিজয়ীরা ওই ট্রফিটি ছাড়া আর কিছু কি পান? কোনো টাকাকড়ি? না, কোনো অর্থ পান না। পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের ক্যারিয়ার রাতারাতি ফুলেফেঁপে উঠে—এ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস একটি টাকাও কাউকে দেয় না।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, অস্কারস ডট ওআরজি ও দিয়ারিও এএস

বছর ঘুরে আবার হাজির অস্কার। সেরা সিনেমাগুলোকে মনোনয়ন দেওয়া হয়ে গেছে। এবার শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। পত্রপত্রিকাগুলো এখন ব্যস্ত সেসব সিনেমার চুলচেরা বিশ্লেষণে। চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে আসতে আমরা বরং অস্কারের ইতিহাসটুকু জেনে আসি।
শুরু করা যাক এর নাম দিয়ে, শেষ করব এর অর্থমূল্য নিয়ে। পুরস্কারটির পোশাকি নাম তো একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। তাহলে, যে নামে সবাই পুরস্কারটিকে বেশি চেনে—সেই অস্কার নামটি কোথা থেকে এল?
রহস্যজনক ব্যাপার কি জানেন? প্রতিবছর এই পুরস্কার যারা আয়োজন করে—ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সেই ‘একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসও কখনো খোলাসা করেনি—এই ডাকনামটির উৎস কী। তারাও কি জানে না? এমনটি হওয়ার কথা নয়। হয়তো মানুষের আগ্রহকে উস্কে দিতেই প্রশ্নটির কোনো মীমাংসা করতে চায় না।
তাই বলে তো সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদরা বসে থাকতে পারেন না। তারা তাদের মতো করে জানার চেষ্টা করেছেন। পাকাপাকি করে কিছু বলা না গেলেও, অস্কার নামের ইতিহাস নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ‘থিউরি’ পাওয়া গেছে।
অভিনেত্রী বেটি ডেভিসের দাবি, ‘অস্কার’ নামটি তিনি দিয়েছেন। কেন? কারণ একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের পদকটি অর্থাৎ একজন পুরুষের অবয়বে গড়া সাড়ে ১৩ ইঞ্চি লম্বা ভাস্কর্যটির পেছনের অংশটির সঙ্গে নাকি তার স্বামী হারমন অস্কার নেলসনের মিল ছিল। নামকরণ নিয়ে দ্বিতীয় তত্ত্বটি সামনে আনেন কলামিস্ট সিডনি স্কোলস্কি। তিনিই নাকি ‘অস্কার’ নামটি চালু করেন। তিন নম্বর মতটি হলো, একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের লাইব্রেরিয়ান মার্গারেট হেরিক নাকি ভাস্কর্যটি দেখে মন্তব্য করেছিলেন, প্রতিমূর্তিটি দেখতে ঠিক তার চাচা অস্কারের মতো। সেখান থেকেই নাকি অস্কার নামটির শুরু। যাহোক, ১৯৩৯ সালের আগপর্যন্ত একাডেমি নামটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি।
যেভাবে শুরু
যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৭ সালে। সংগঠনের অনেকগুলো কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেগুলোর একটি হলো ‘পুরস্কার কমিটি’। তবে শুরুতে এই কমিটি খুব একটা কার্যকর ছিল না। সংগঠন প্রতিষ্ঠার পরের বছর—অর্থাৎ ১৯২৮ সালের মে মাসে ১২টি বিভাগে ‘একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অব মেরিট’ নামে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
নির্বাচন যেভাবে হয়
কোন সিনেমা মনোনয়ন পাবে, কোনটি পাবে না, পুরস্কারের জন্যইবা কোন সিনেমা নির্বাচিত হবে–তা ঠিক করার এখতিয়ার একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সদস্যদের। তারা ছাড়া আর কেউ ভোট দিতে পারেন না। একাডেমিটি বিভিন্ন শাখায় ভাগ করা, যেমন-পরিচালক, লেখক (চিত্রনাট্যকার), প্রযোজক, চিত্রগ্রাহক ইত্যাদি। প্রতিটি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের কাজটি সংশ্লিষ্ট শাখার সদস্যরাই করেন। তবে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ বিভাগের জন্য মনোনয়ন দিতে একাডেমির সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন। আর প্রায় সব বিভাগের বিজয়ী নির্ধারণ করতেও সবার ভোট নেওয়া হয়।

অস্কারের প্রথম আয়োজন
পুরস্কারের প্রথম আসরটি বসেছিল ১৯২৯ সালে, লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড রুজভেল্ট হোটেলে। সেবার ১৯২৭ সালের ১ আগস্ট থেকে ১৯২৮ সালের ১ আগস্টের মধ্যে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো থেকে বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হয়েছিল। ‘ড্রামাটিক পিকচার’ বিভাগে ‘সেভেন্থ হেভেন’-এর জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে পুরস্কার পান ফ্র্যাঙ্ক বোরজাস, ‘কমেডি পিকচার’ বিভাগে সেরা পরিচালক হন লুইস মাইলস্টোন, ‘সেরা সিনেমা’ হিসেবে সম্মানিত হয় উইলিয়াম এ ওয়েলম্যান পরিচালিত সিনেমা ‘উইংস’। সেরা অভিনেতা : ‘দ্য লাস্ট কমান্ড’ এবং ‘দ্য ওয়ে অব অল ফ্লেশ’ সিনেমার জন্য এমিল জ্যানিংস। সেরা অভিনেত্রী: ‘সেভেন্থ হেভেন’, ‘স্ট্রিট অ্যাঞ্জেল’ ও ‘সানরাইজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জ্যানেট গেনর। সেরা শিল্পনির্দেশনা: ‘দ্য ডোভ ও টেম্পেস্ট’-এর জন্য উইলিয়াম ক্যামেরন মেনজিস। সেরা চিত্রগ্রহণ: ‘সানরাইজ’ সিনেমার জন্য চার্লস রোশার ও কার্ল স্ট্রুস। সেরা অনন্য ও নান্দনিক চলচ্চিত্র: ‘সানরাইজ’। সেরা চিত্রনাট্য (অবলম্বন): ‘সেভেন্থ হেভেন’। সেরা চিত্রনাট্য (মৌলিক): ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’। আর বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে ‘দ্য সার্কাস’ ও ‘দ্য জ্যাজ সিঙ্গার’ (প্রথম সবাক চলচ্চিত্র)।
আয়োজন যেখানে হয়
২০০২ সাল থেকে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার অনুষ্ঠানটি হলিউডের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১২ সাল পর্যন্ত এই স্টুডিওর নাম ছিল ‘কোডাক থিয়েটার’। ২০০২ সালের আগে অবশ্য অন্যান্য জায়গায়ও এই অস্কারের পসরা বসেছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রাউম্যান’স চাইনিজ থিয়েটার (১৯৪৪–৪৬), মার্কুইস থিয়েটার (১৯৪৮) এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিক সেন্টার (১৯৬৯)।
বিজয়ীরা আসলে কী পায়
অনেকের মনে প্রশ্ন, অস্কার বিজয়ীরা ওই ট্রফিটি ছাড়া আর কিছু কি পান? কোনো টাকাকড়ি? না, কোনো অর্থ পান না। পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের ক্যারিয়ার রাতারাতি ফুলেফেঁপে উঠে—এ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস একটি টাকাও কাউকে দেয় না।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, অস্কারস ডট ওআরজি ও দিয়ারিও এএস