Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

পুলিশ কি চাইলেই মারধর-তল্লাশি করতে পারে? আইন কী বলছে

আরমান ভূঁইয়া

আরমান ভূঁইয়া

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ০৩
পুলিশ কি চাইলেই মারধর-তল্লাশি করতে পারে? আইন কী বলছে

অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্ব। একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্বের অংশ। তবে, অভিযানের নামে কি পুলিশ যেকোনো নাগরিককে তল্লাশি করতে পারে? কিংবা ইচ্ছে হলেই হলেই মারধর করতে পারে? আইনী সাংবিধানিক কি বলে!

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সাম্প্রতিক রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিক ভিডিও ফুটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অপসারণ চেয়ে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সাংবাদিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঘটনার অতিরিক্ত বলপ্রযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব, আইনি এখতিয়ার ও নাগরিক অধিকার—সব মিলিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

এ বিষয়ে আইন কী বলছে, আর নাগরিকের অধিকার কতটুকু!

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তল্লাশির আইনি ভিত্তি

বাংলাদেশে তল্লাশি ও জব্দের বিষয়টি মূলত ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code বা CrPC) এবং ১৯৪৩ সালের Police Regulations Bengal (PRB) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

CrPC–এর ৯৪ ও ৯৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট দলিল, বস্তু বা আলামত উদ্ধারের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি বা সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে তল্লাশি করতে হবে। এটি সাধারণ নিয়ম।

একই সঙ্গে ১০০ ও ১০৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বদ্ধ স্থান—যেমন বাড়ি, অফিস বা ব্যাগ—তল্লাশির সময় এলাকার দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রাখতে হবে। তল্লাশির পর জব্দ তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি কপি দিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল (পিআরবি) আইন অনুযায়ী পুলিশ তল্লাশি করতে পারলেও কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তল্লাশির আইনি ক্ষমতা মূলত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বা তার ওপরের পদের কর্মকর্তাদের। এর নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ সদস্য তল্লাশি করতে পারবে না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী–সাংবাদিক মারধর: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারdmp-dhaka-metropoliton-police

ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি

পিআরবি ১৬৫ ধারায় একটি ব্যতিক্রমী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করেন যে ওয়ারেন্ট আনতে দেরি হলে আলামত নষ্ট হতে পারে, তবে তিনি কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করে তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালাতে পারেন। তবে পরে ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানাতে হয়। অর্থাৎ এটি জরুরি পরিস্থিতির জন্য, নিয়মিত কোনো অভিযানের পদ্ধতি নয়।

কে তল্লাশি করতে পারেন?

তল্লাশির ক্ষমতা মূলত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। কনস্টেবল একক সিদ্ধান্তে তল্লাশি চালাতে পারেন না; তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহায়তা করতে পারেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তল্লাশি একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া; তাৎক্ষণিক রাগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে ‘হয়রানি’ করার সুযোগ আইন দেয় না।

একই সঙ্গে সিআরপিসি-এর ৫১ ধারা অনুযায়ী, কাউকে বৈধভাবে গ্রেপ্তার বা আটক করা হলে তার দেহ তল্লাশি করা যেতে পারে। তবে— পোশাক ছাড়া অন্য মালামাল জব্দ করলে তালিকা করতে হবে, জব্দ তালিকার কপি দিতে হবে এবং জব্দকৃত মালামাল থানায় সংরক্ষণ করতে হবে।

৫২ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো নারীকে তল্লাশি করতে হলে তা অবশ্যই নারী পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে করতে হবে এবং শালীনতা রক্ষা বাধ্যতামূলক। কোনো পুরুষ সদস্য নারীর দেহ তল্লাশি করতে পারেন না।

জনসমক্ষে অপমানজনক আচরণ পুলিশের আচরণবিধির পরিপন্থী। যার কারণে সংশ্লিষ্ট সেই পুলিশ সদস্যদের বিভাগীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গোন্য হবে।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

মারধর বা বলপ্রয়োগ—কতটুকু বৈধ?

আইন এখানে অত্যন্ত স্পষ্ট বলে আছে। সিআরপিসি–এর ৪৬ থেকে ৫৩ ধারায় গ্রেপ্তার ও বলপ্রয়োগের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় যতটুকু বল প্রয়োগ প্রয়োজন (যেমন কেউ পালাতে চাইলে), তার বেশি শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে এলে তাকে মারধর করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করার কথাও রয়েছে।

নির্যাতনবিরোধী বিশেষ আইন

২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী— শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন দণ্ডনীয় অপরাধ, নির্যাতনে মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হবে পারে। এবং গুরুতর আহত করলে ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

এই আইনটি বিশেষভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ঠেকাতে প্রণীত করা হয়েছে।

ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার?

সিআরপিসি–এর ৫৪ ধারা পুলিশকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়, যদি যৌক্তিক সন্দেহ থাকে যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করেছে বা করতে যাচ্ছে। তবে “যৌক্তিক সন্দেহ” মানে যুক্তিযুক্ত তথ্য বা পরিস্থিতি—ব্যক্তিগত অনুমান নয়।

উচ্চ আদালত একাধিক রায়ে ৫৪ ধারার অপব্যবহার ঠেকাতে নির্দেশনা দিয়েছে—গ্রেপ্তারের কারণ জানানো, আত্মীয়কে অবহিত করা এবং নির্যাতন না করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আসকের নিন্দাain O salish

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে— কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না অথবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ নির্যাতন সাংবিধানিকভাবেই নিষিদ্ধ।

নাগরিকের অধিকার

তল্লাশি বা আটক অবস্থায় নাগরিকেরও কিছু অধিকার রয়েছে। আইনে বলা আছে, নাগরিক পুলিশের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া, সিভিল পোশাকে থাকলে নাগরিককের কাছে তার পরিচয় নিশ্চিত করা, তল্লাশির সময় নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতি দাবি করা, জব্দ তালিকার কপি নাগরিকের কাছে দিবে হবে এবং আইনজীবীর সহায়তা চাওয়ার অধিকার দিতে হবে।

কোনো নাগরিক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলে ২০১৩ সালের আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা যায়। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে।

লাঠিচার্জ কি বৈধ?

পুলিশ কেবল তখনই লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ করতে পারে, যখন জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে—যেমন দাঙ্গা, সহিংস ভাঙচুর বা প্রাণহানির ঝুঁকি দেখা দিলে। তব, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আইনসঙ্গত নয়।

আইন পুলিশকে ক্ষমতা দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই ক্ষমতার সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছেছে। তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও বলপ্রয়োগ—সবকিছুরই সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি দোষী নন; আর গ্রেপ্তার মানেই শাস্তি নয়।

আইনের শাসন তখনই কার্যকর হয়, যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও আইনের সীমার ভেতরে থাকে। নাগরিকের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাও সমানভাবে জরুরি।

বিষয়: হামলাঢাকাডিএমপিপুলিশআইনআইন ও বিচার
সর্বশেষ
  • ১

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ২

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৩

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৫

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।