চীনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তার এ সফর এতটা মসৃণ ছিল না। রুবিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল চীনের। এ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হয়ে বেইজিংয়ে পা রাখলেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং তাদের চিরচেনা সৃজনশীল কায়দায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই রুবিওকে চীন সফরের সুযোগ করে দিয়েছে ।আর সেটি করা হয়েছে এই সফরের জন্য তাকে একটি নতুন চীনা নাম দেওয়ার মাধ্যমে।
বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রুবিওর প্রতি বেইজিংয়ের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে চীনা ভাষায় তার নাম লেখার পদ্ধতিও বদলে ফেলা হয়েছে। আর এভাবেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনে প্রবেশ করতে পেরেছেন তিনি।
২০২০ সাল হংকং এবং জিনজিয়াং ইস্যুতে বেইজিংয়ের কঠোর সমালোচনা করার দায়ে তৎকালীন মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও এবং টেড ক্রুজসহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। এই নিষেধাজ্ঞার মূল শর্ত ছিল তাদের চীন ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা।
গত মার্চ মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, রুবিও যদি ট্রাম্পের সাথে বেইজিং সম্মেলনে যোগ দিতে আসেন, তবে তারা সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে ইচ্ছুক।
গত ১৬ মার্চ চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ বিষয়ে বলেন, ‘‘মার্কো রুবিও মার্কিন সিনেটে থাকাকালীন চীন সম্পর্কিত যে ধরনের মন্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, মূলত সেগুলোকে লক্ষ্য করেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।’’
গত মঙ্গলবার চীন জানায়, ৫৪ বছর বয়সী রুবিওকে তারা দেশে প্রবেশে বাধা দেবে না। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে প্রথমবারের মতো চীন সফরে গেছেন।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চীনের বিষয়ে রুবিওর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা ভাষায় ইংরেজি ‘র’ ধ্বনির হুবহু উচ্চারণ না থাকায় বিদেশি নামগুলো তারা নিজেদের ধ্বনিগত নিয়ম অনুযায়ী রূপান্তর করে লেখে। এ কারণেই ‘রুবিও’ নামটি চীনা ভাষায় ‘লুবিয়াও’ হিসেবে লেখা হয়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে, চীন সরকার ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রুবিওর নাম চীনা ভাষায় লেখার সময় ‘লু’ উচ্চারণের জন্য আগের চেয়ে ভিন্ন একটি চীনা অক্ষর ব্যবহার শুরু করে।
দুইজন কূটনীতিবিদ এএফপিকে বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে চীন আসলে নিজেদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার একটি তাৎক্ষণিক উপায় বের করেছে। কারণ, রুবিওর নামের আগের বানানের ওপর ভিত্তি করেই তার প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির ওপর আমেরিকা যে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেই আইনের মূল রচয়িতা ছিলেন কিউবান বংশোদ্ভূত আমেরিকান রুবিও। তবে বেইজিং বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হংকংয়ে বেইজিংয়ের দমনপীড়নের বিরুদ্ধেও রুবিও সোচ্চার ছিলেন।