Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আনিসুজ্জামান: যে শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়

সুনন্দা কবীর

সুনন্দা কবীর

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১৩: ৩৮
আনিসুজ্জামান: যে শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়

১৪ মে, শিক্ষাবিদ ও লেখক আনিসুজ্জামানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন আদর্শ শিক্ষক, ধীমান গবেষক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ এ দেশের সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার অগ্রগণ্য ভূমিকা ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আনিসুজ্জামানের জন্ম পশ্চিমবঙ্গে, চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে ১৯৩৭-এ। পারিবারিকভাবে লেখালেখির চর্চা ছিল। পিতামহ শেখ আবদুর রহিম লেখক ও সাংবাদিক, মা সৈয়দা খাতুনও লিখতেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় করলেন দেশত্যাগ, এলেন তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতেও জড়িয়ে ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর প্রভাষক পদে যোগ দিলেন ১৯৫৯ সালে। ১০ বছর পর ১৯৬৯-এ ‘রিডার’ হয়ে গেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন আবার ১৯৮৫ সালে। অবসর নিলেন ২০০৩-এ।

প্রতিভা, মেধা ও সুরুচির প্রতিভূ ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। প্রিয়দর্শন, ভরাট কণ্ঠস্বর, বিশুদ্ধ প্রমিত উচ্চারণ, সহজ অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন আনিসুজ্জামান। ছাত্রমহলেও তার ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা ছিল। বলা বাহুল্য সেই জনপ্রিয়তা তার জন্য সবসময় সুখকর হয়নি।

শিক্ষার সঙ্গে বৈশ্বিক সংস্কৃতি ও মুক্তচেতনার পাঠ দিতেন আনিসুজ্জামান। বিশ্বাস করতেন, পরমতসহিষ্ণু উদারমনস্ক সংস্কৃতি ছাড়া দেশে বৌদ্ধিক উন্নতি ও মানবিক কল্যাণ নিশ্চিত করা যাবে না। তার আক্ষেপ ছিল, গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বৃহত্তর জনমণ্ডলীকে গণতান্ত্রিক চেতনায় শামিল করা যায়নি। সংবিধান ও সমাজ থেকে স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতা হারিয়ে গেছে। শোষণহীন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন রয়ে গেছে অধরা, আমাদের রাজনীতিও সর্বজনীন ঐকমত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আনিসুজ্জামানের অবদান বিস্মৃত হওয়ার নয়। তিনি মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতার পর পর ১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচিত হয়, তার বাংলা অনুবাদও তার হাতে। রাজনীতিবিদ না হয়েও আনিসুজ্জামানের ছিল প্রবল দেশাত্মবোধ। স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন মহলের কাছাকাছি থেকেও অন্যায্য কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেননি আনিসুজ্জামান। সাম্প্রদায়িক শক্তির ভীতিপ্রদর্শন ও হুমকির মুখে এক সময় তাকে সরকারের দেওয়া নিরাপত্তাও নিতে হয়েছিল।

বাংলাভাষায় আদ্যন্ত নিবেদিত মানুষটি সামগ্রিকভাবে ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেছেন মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে। তিনি বলতেন ,বাংলা কোন পোশাকি ভাষা নয়। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাংলা ভাষারও একটা ব্যবহারিক ও সাহিত্যিক মূল্য আছে। এদের কাব্য, গান, শিল্পসংস্কৃতির সমৃদ্ধি নিয়েই আমাদের ভাষা। প্রমিত বাংলার পাশাপাশি এসবের চর্চা ও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। যে ভাষার জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন সেই ভাষার প্রতি বহুক্ষেত্রে অবহেলা তাকে ব্যথিত করত। সমৃদ্ধ পরিভাষা সত্ত্বেও অন্য ভাষার আশ্রয় নেওয়া তার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি কখনও।

সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে আনিসুজ্জামান রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী’ ও ‘সরোজিনী বসু’ পদক। সার্ক-২০১৯ সাহিত্য পুরস্কারও পেয়েছিলেন। এ ছাড়াও দুইবার আনন্দ পুরস্কার এবং ভারত সরকারের ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি। নিজের দেশ থেকে পেয়েছিলেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি ও স্বাধীনতা পুরস্কার। ২০১৮ সালে হয়েছিলেন জাতীয় অধ্যাপক।

১৯৬০ সাল, কুমিল্লা থেকে এসেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়তে। কুমিল্লার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল চিরকালই বিখ্যাত ছিল, বিখ্যাত ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্যেও। আমার বাবা সুধীর সেন প্রথমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং পরে শান্তিনিকেতনে গবেষক হওয়ায় রবীন্দ্রনাথ থেকে আরম্ভ করে সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, ক্ষিতিমোহন সেন প্রমুখের জীবনচর্চার আলোচনা মনে একটা পরোক্ষ প্রভাব ফেলেছিল। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই নিষ্করুণ মধ্যাহ্নে প্রথম যার পাঠদান আমাকে আবিষ্ট করে রাখত তিনি ছিলেন তরুণ শিক্ষক, আনিসুজ্জামান। মেধা ও সুরুচির প্রতিভূ ছিলেন তিনি। আদর্শ শিক্ষকের সমস্ত গুণের সমন্বয় এই নিরহংকার সজ্জন ব্যক্তির মধ্যে ছিল।

প্রত্যক্ষ ছাত্রী হওয়ার সুবাদে একটা প্রশ্রয় ছিল। সেই প্রশ্রয়ে অনেক অযৌক্তিক আবদারও তাকে সামলাতে হতো।এ ছিল এক পরম পাওয়া। তিনি তো এখন জ্যোাতির্ময় অর্ন্তলোকে। ছাত্রী হিসেবে, এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রতি মুহূর্তে তার শূন্যতা অনুভূত হয় তীব্রভাবে।

সুনন্দা কবীর: লেখক ও অনুবাদক

বিষয়: গণতন্ত্রলেখকশিক্ষামুক্তিযুদ্ধমৃত্যু
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া